A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

সমাজে নৈরাজ্য বাড়ছে; হতাশা গ্রাস করছে মানুষকে ব্যক্তি আতঙ্কে বিনিয়োগ বিঘ্নিত | Probe News

জনঅংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে কোন দিকনির্দেশনা নেই

সমাজে নৈরাজ্য বাড়ছে; হতাশা গ্রাস করছে মানুষকে ব্যক্তি আতঙ্কে বিনিয়োগ বিঘ্নিত

 

mridul-kumar-chowdhury.jpg
আলতাফ পারভেজ,
প্রোবনিউজ: রাষ্ট্র পরিচালনায় জনপ্রতিনিধিত্বহীনতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেশে ক্রমে সামাজিক ও প্রশাসনিক নৈরাজ্য তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রশাসনিক নৈরাজ্যের অন্যতম আলামত হিসেবে খুন-গুম-অপহরণের ব্যাপকতা সম্প্রতি জাতীয় মনযোগে এলেও আর্থ-সামাজিক নৈরাজ্যের অন্যান্য বহুমাত্রিক বৈকল্যগুলো যথাযথ বিহিতের অভাবে সমাজকে দীর্ঘমেয়াদে কলুষিত করে চলেছে।

চলতি এপ্রিল-মে মাসে গুম ও অপহরণের ব্যাপকতার মাঝেই প্রায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্যদিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে নেয়ায় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সকলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষার আগের দিন নিয়মিতভাবেই ফেসবুকসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে অজ্ঞাত উৎস থেকে প্রশ্নপত্র প্রকাশ করতে দেখা গেছে এবং পরের দিনের পরীক্ষায় বিতরণকৃত প্রশ্নপত্রের সাথে তা মিলেও যাচ্ছে।
এর মধ্যদিয়ে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ এই স্তরে মেধা যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া নৈরাজ্যের শিকার হওয়ার পাশাপাশি আগাম প্রশ্নপত্র পাওয়া পরীক্ষার্থীরা উচ্চনম্বর পেয়ে আসন্ন দিনগুলোতে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে পরিশ্রমসাধ্য দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দানকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোতে এ নিয়ে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। লাখ লাখ শিক্ষার্থী পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জরুরি বিষয় হলেও জনপ্রতিনিধিত্বহীনতার কারণে সমাজের কোন তরফ থেকে সংগঠিত আকারে এইচএসসি পরীক্ষার চলতি নৈরাজ্য নিয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি।
শিক্ষাখাতে সামাজিক নৈরাজ্যের আরেকটি ছাপ পড়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে লাগাতার সহিংসতায়। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নিয়মিতভাবেই ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটছে। চূড়ান্ত জবাবদিহিহীনতার কারণে পিটিয়ে হত্যা, রগকেটে দেয়া, লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি এখন ক্যাম্পাসগুলোতে ভয়ের সংস্কৃতিকে সর্বব্যাপক করে তুলেছে। কোথাও এসবের জন্য ফৌজদারি আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কাজ করছে না। বেশিরভাগ ক্যাম্পাসে ঘাতক তরুণদের বাহিনীগুলোর কাছে শিক্ষকরাও জিম্মি হয়ে আছেন। ফলে সেখানেও শিক্ষা কার্যক্রম ক্লাসনির্ভর গতানুগতিকতায় পর্যবসিত হয়েছে।
জনপ্রতিনিধিত্বহীনতার সবচেয়ে নির্মম ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি শ্রমখাতে। বিশ্ব কাঁপানো রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তির পরও আহত-নিহত শ্রমিকরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তহবিল কিংবা বাংলাদেশ সরকারের এতদসংক্রান্ত তহবিলে কী পরিমাণ অর্থ জমেছে এবং শ্রমিকদের কেন সে অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে না, এনিয়ে সমাজের কোন পর্যায়ে কোন প্রশ্ন বা বিকার না ওঠায় পুরো গার্মেন্টখাতে শ্রমিকদের মাঝে গভীর হতাশা বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, গত বছর নভেম্বরে এই শিল্পের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরির যে নতুন কাঠামো ঘোষিত হয়েছিল সেটা প্রায় ছয় মাস অতিক্রমের পরও এখনও প্রায় অর্ধেক কারখানায় বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানিয়েছে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। একইভাবে এই খাতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট ঘটনায় শ্রম আদালতের ১৬৫৪টি রায় থাকার পরও কোন মালিকের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোন তৎপরতা দেখাচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী গ্রামাঞ্চলে ধারাবাহিক হামলা-অগ্নিসংযোগ-খুন ইত্যাদির ঘটনাতেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একইভাবে নিষ্ক্রিয়তা দেখানোর কারণে দেশের অনেক উপজেলায় শত শত মানুষ এখনো ঘরছাড়া। অনেক স্থানে শপথ গ্রহণের দিনই জনপ্রিয় চেয়ারম্যানদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর কারণে পুরো পরিষদই অকার্যকর হয়ে আছে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার রেশ হিসেবে লক্ষ্মীপুর, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ ইত্যাদি জেলায় এখনো সন্ধ্যা নামলেই গ্রামীণ বাজার-হাটগুলোতে নিস্তব্দতা নেমে আসে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা।
জাতীয় পর্যায়ে সর্বশেষ মে মাসের হিসাবে দেখা গেছে, প্রভাবশালীদের ঋণ নবায়নে বিশেষ ছাড় দিয়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা মাফ করে দেয়ার পরও ব্যাংকগুলো ২৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে আছে গুটিকয়েক শীর্ষ খেলাপির কাছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো যেমন নতুন বিনিয়োগকারীদের সাহায্য করতে পারছে না তেমনি জনপ্রতিনিধিত্বশীল স্থিতিপূর্ণ রাজনৈতিক নিশ্চয়তা না থাকায় বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও এদেশে আসছেন না। ফলে কর্মসংস্থানের ধারা মুখ থুবড়ে পড়েছে। গতকাল ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি’র সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে আলোকপাত করতে যেয়েই অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘মানুষ যখন নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে তখন সম্পদকেও গুটিয়ে ফেলে সে। ফলে ব্যক্তি বিনিয়োগ কমে যায়। এটা একসময় রাজস্বও কমিয়ে ফেলে। যা আবার এডিপির বাস্তবায়ন কমিয়ে দেবে।’
সামাজিক নৈরাজ্য ও বিচারহীনতার আরেকটি বিপজ্জনক আলামত হিসেবে হামেশা দেশের বিভিন্নস্থানে সংখ্যালঘুদের প্রার্থনাস্থল ও বাড়ি-ঘরে দুষ্কৃতকারীদের হামলার ঘটনাও বাড়ছে। সম্প্রতি কুমিল্লা, নেত্রকোনা ইত্যাদি স্থানে কোন ধরনের তাৎক্ষণিক বাস্তব কারণ ছাড়াই এরূপ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
পদ্মা-তিস্তা-গড়াই-ফেনী ইত্যাদি নদীর পানিতে ন্যায্য হিস্যার দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল-মিটিং-রোড মার্চ চললেও সমস্যাগুলোর সুরাহায় সরকারি স্তরে কোন ইতিবাচক উদ্যোগ ও মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে একটি সংসদ থাকলেও যেহেতু তার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য কোন ধরনের ভোট ছাড়াই সদস্যপদ উপভোগ করছেন, সে কারণে স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গেও তারা আগের মতো আর জনসংযোগ করছেন না। এভাবে পুরো সংসদীয় সংস্কৃতি এক জনবিচ্ছিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হওয়ায় লোকালয়ের সাথে ঢাকাকেন্দ্রীক নীতিনির্ধারকদের যোগাযোগের আর কোন প্রাণবন্ত সূত্র নেই। এরকম পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধারার প্রবাহমান বিরোধী দলের রাজনীতির মধ্যদিয়ে তৃণমূলের আকাঙ্খা ও চাহিদা মূর্ত হওয়ার যে বিকল্প পথ ছিল সেটাও আত্মগত ও বস্তুগত নানান কারণে নিষ্ক্রিয় থাকায় দেশজুড়ে ব্যক্তি পর্যায়ে মানুষকে গ্রাস করেছে হতাশা ও সমাজবিনাশী ব্যক্তিবাদ।
পুলিশ বাহিনীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সেল-এর দেয়া তথ্য থেকে দেখা যায়, বিগত ৪০ মাসে দেশে কেবল নিখোঁজ হয়েছে ২৭০০ মানুষ। স্বজন হারানো এই মানুষদের কান্না, শোক, ক্ষোভ প্রশমনের কার্যকর কোন মাধ্যম না থাকায় অপরাধীরা শতগুন প্রশ্রয়ে অপরাধের পরিসংখ্যান ক্রমে বাড়িয়ে চলেছে কেবল।
অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষুদ্ধ মানুষের শেষ নিয়মতান্ত্রিক আশ্রয় হিসেবে আদালতে যেয়েও মানুষকে বিমুখ হতে হচ্ছে। যেমন, ঢাকার ধানমন্ডি মাঠ বেদখল হওয়ার প্রক্রিয়া থামাতে স্থানীয় মানুষ উচ্চআদালতে যেয়েও কোন ফল পায়নি, কারণ ‘বিব্রত’ বিচারকরা একের পর এক আর্জি শুনতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সামগ্রিক এই নৈরাজ্য সম্পর্কে আলোকপাত করতে যেয়ে সমাজবিজ্ঞানী পিয়াস করিম প্রোবনিউজকে বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য যে ভেঙ্গে পড়ছে তার বড় কারণ, সরকার সামাজিক ও প্রশাসনিক অন্যায় নিয়ন্ত্রণের নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। যেহেতু, রাষ্ট্রে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচনহীন একটি প্রক্রিয়ায়, সে কারণে তারা সমাজ দেহে সততাকে প্রতিষ্ঠিত করার অধিকার রাখে না এবং তাই ঘটছে। বর্তমান সামাজিক নৈরাজ্যের জন্য জনপ্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচন না হওয়া একমাত্র কারণ না হলেও বড় এক কারণ।’
প্রোব/আপা/পি/জাতীয়/০৫.০৫.২০১৪

৫ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১৪:০০:৪৬ | ২০:১৯:৩৫

জাতীয়

 >  Last ›