A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

‘ছয় কোটি টাকা নিয়ে খুন করেছে র‌্যাব’ | Probe News

নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার

‘ছয় কোটি টাকা নিয়ে খুন করেছে র‌্যাব’


Nganj 1.jpgপ্রোবনিউজ,নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত জনকে অপহরণ ও হত্যা ঘটনায় র‌্যাব ১১-এর তিন কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিহত নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম।
রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রাইফেলস ক্লাবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, নজরুল হত্যাকান্ডের সঙ্গে র‌্যাব ১১-এর সিও লে. কর্নেল তারেক সাইদ, মেজর জাহাঙ্গীর ও মেজর রানা জড়িত। তারাই নজরুলসহ অন্যদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল। ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে তারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
শহীদুল ইসলাম বলেন, নজরুলকে যেখান থেকে তুলে নেয়া হয় সেখানে কয়েকজন বালু শ্রমিক কাজ করছিলেন। তারা সেখানে র‌্যাব-১১ লেখা দু’টি মাইক্রোবাস ও একটি জিপ দেখেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই আমি এমপি শামীম ওসমানকে বিষয়টি জানাই। তিনি র্যাতব সিও’র সঙ্গে দেখা করতে বলেন।
সিও’র কাছে গেলে তিনি আমাকে ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নানারকম প্রশ্ন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে শামীম ওসমান জড়িত বলে জানান। শহীদুল ইসলাম বলেন, আমার ছোট ভাই হাসমত আলী হাসুর সঙ্গে নূর হোসেনের সখ্য রয়েছে। হাসুর একাউন্ট থেকে দুই কোটি টাকা হস্তান্তর হয়েছে। এই একাউন্টগুলো চেক করলেই ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
টাকার বিষয়টি কিভাবে জানতে পারলেন সাংবাদিকরা এ প্রশ্ন করলে শহীদুল ইসলাম তার ছোট ভাই তাকে এসব তথ্য জানিয়েছে বলে জানান। শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি প্রথম দিনই এই ঘটনা জানতে পারি। র্যাদবের ওই তিন কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু এসপি ও ওসি আমার মামলা নেয়নি। তারা আমাকে বলেছে সরকারি বাহিনীর কারও বিরুদ্ধে মামলা করলে তদন্তে হালকা হয়ে যাবে। তারা আমাকে দুই দিন ঘুরিয়েছে।

এদিকে র্যােবের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, ভিকটিম পরিবার একেক সময় একেক রকম কথা বলছেন। তারা কখনও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আবার কখনো র্যা বের কথা বলছেন। এটি আসলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বলা হচ্ছে। তারপরও র্যা ব সদর দপ্তর থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ‘সেভেন মার্ডার’-এর ঘটনার সব অভিযোগের কেন্দ্রে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একদিকে যেমন অপহরণের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত জনকে অপহরণের ঘটনাটির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে তেমনি অপহরণের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঢিলেমি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, অপহৃতদের জীবিত উদ্ধারে কার্যকরী কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি আেইনশৃঙ্খলঅ বাহিনী। লাশ উদ্ধারের পরও নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ আমলে নেয়নি পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়নি অভিযুক্তদের। এ কারণে এজাহারভুক্ত আসামিরাও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সাত দিন পর এজাহারভুক্ত আসামিদের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশিকে সবাই বলছে ‘আইওয়াশ’। একই সঙ্গে আলোচিত এই অপহরণ ও হত্যাকান্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে রাজনীতি। নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান ও নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরাও প্রথমে হত্যাকান্ডের সঙ্গে ওসমান পরিবারের জড়িত থাকার কথা বললেও এখন বলছে ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, প্রধান অভিযুক্ত নূর হোসেন বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ সংস্থার মাধ্যমে এই সাত জনকে অপহরণের পর হত্যা করিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেটের যেখান থেকে নাসিক প্যানেল মেয়র ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে ধরে নেয়া হয় সেই দৃশ্য অনেকেই দেখেছেন। তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। সেখানে ‘র‌্যাব-১১’ লেখা দু’টি মাইক্রোবাস ও একটি জিপ দাঁড়িয়ে ছিল। ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নজরুলসহ অন্যদের সরকারের একটি বিশেষ বাহিনী আটক করেছে বলে জানতে পারেন। একারণে উদ্ধারেও তেমন তৎপরতা দেখাননি তারা।
কিন্তু তিন দিন পর তাদের লাশ উদ্ধার হলে টনক নড়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের। কিন্তু কিছুই করার নেই তাদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাত দিন পর নূর হোসেনের বাসায় অভিযান চালানো এবং গাড়ি আটক করার বিষয়টি রীতিমতো হাস্যকর। নূর হোসেনের নিজের মালিকানাধীন তিনটি মাইক্রোবাস ও চারটি প্রাইভেটকার রয়েছে। অন্য গাড়িগুলো সরিয়ে রেখে কথিত রক্তমাখা মাইক্রোবাসটি কেন বাসায় রাখতে যাবে? আবার পুলিশ কর্মকর্তারা নূর হোসেনের বাসা থেকে ১১ জনকে আটক করলেও তারা হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি নিহত চন্দন সরকারের মোবাইলসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিও হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত নূর হোসেন প্রথম তিন দিন এলাকায় অবস্থান করলেও তাকে ধরতে অভিযান চালায়নি পুলিশ। লাশ উদ্ধারের দিন নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে আত্মগোপনে চলে যায়।
প্রোব/পি/জাতীয়/০৫.০৫.২০১৪

৫ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১০:৪৫:৩৭ | ১০:৫০:৪৮

জাতীয়

 >  Last ›