A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মুক্ত হয়েও স্বাভাবিক নয় এ বি সিদ্দিকের জীবন | Probe News

সারাক্ষণ তাড়া করছে আতঙ্ক

মুক্ত হয়েও স্বাভাবিক নয় এ বি সিদ্দিকের জীবন


AB Siddique.jpgশফিক রহমান, প্রোব নিউজ: অপহরণ! তারপর ফোন। ফোনে মুক্তিপণ নিয়ে দর কষাকষি। হঠাৎ করে সব যোগাযোগ বন্ধ। অপহৃতের মৃহদেহ নদী-নালা, খাল-বিল, বালুর মাঠ কিংবা মহাসড়কের ধারে ডোবায়। গত কয়েক মাস বছর ধরে দেশে যখন এমন ঘটনা ঘটছে ঠিক তখনই ভাগ্যবিধাতার ইশারায় অপহরণকারিদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে ঘরে ফিরলেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এ বি সিদ্দিক। কিন্তু এ মুক্তিতেও স্বস্তি নেই তার। সারাক্ষণ তাড়া করছে আতঙ্ক। জানালেন, ভাল নেই। চোখ বুজলেই ভেসে উঠছে অপহরকারিদের হাতে বন্দি জীবনের মুহূর্তগুলো।
গত ১৬ এপ্রিল দুপুরে অফিসে যাওয়ার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের ভূঁইগড় এলাকা থেকে ফিল্মি স্টাইলে অপহৃত হন এ বি সিদ্দিক। ১৭ তারিখ মধ্যরাতে প্রায় ৩৪ ঘন্টা পর অপহরণকারিদের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে ঘরে ফেরেন তিনি। এর পরে আর ঘরের বাইরে পা বাড়াচ্ছেন না। থাকছেন বাসার চার দেয়ালের মধ্যে। সময় দিচ্ছেন সন্তানদের। কিন্তু বসতে পারছেন না টেলিভিশনের সামনে, খুলতে পারছেন না পত্রিকার পাতা। সর্বত্রই অপহরণ, গুম আর হত্যার সংবাদ। এ বি সিদ্দিক বলেন, ‘ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারছি না।
এদিকে এ বি সিদ্দিকের মুক্তির দশদিনের মাথায় ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলামসহ পাঁচজন। একই সড়ক থেকে একই সময়ে নিখোঁজ হন নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়ির চালক। তাদের অপহরণের তিন দিনের মাথায় একে একে সবার লাশ ভেসে ওঠে শীতলক্ষ্যায়। দেশের গণমাধ্যম ও প্রশাসনসহ সবাই যখন এদের নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকা থেকে অপহৃত হন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। পরের দিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে অপহৃত হন ব্যবসায়ী আবুল বাশার। তাৎক্ষণিক এসব খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এতে বিমর্ষ হয়ে পড়েন এ বি সিদ্দিক।
‘তারপরও বাঁচতে হলে ভুলতে হবে’- দীর্ঘশ্বাস এবি সিদ্দিকের। এখন তিনি নিয়মিত যাচ্ছেন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে। মেনে চলছেন সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ। পরামর্শ দিচ্ছেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনরাও। কেউ বলছেন হেড ফোনে গান শোন আর জগিং করো। কারো পরামর্শ একেবারেই টেলিভিশনের সামনে না বসার। এক আত্মীয়া বললেন, ভুলে যাও বাংলাদেশ। আর ভাইয়ের প্রস্তাব- কানাডায় চলে এসো। কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন এ বি সিদ্দিকের ‘কেন? জীবনের প্রতি মুহূর্তে কাজ করেছি সততা আর দায়িত্বের সঙ্গে। সজ্ঞানে কারোর কোন ক্ষতির কারণ হইনি। শত্রু আছে বলে কোনদিন ভেবে দেখিনি। পোষাক কারখানাটি অন্যরকম চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাত্র শুরু করেছিলাম। সব এখন ওলট-পালট হয়ে গেল।’
এ বি সিদ্দিক ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে ঢাকা ভেজিটেবল ওয়েল কোম্পানির আইন কর্মকর্তা হিসেবে পেশাগত জীবনের শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে যোগ দেন তৈরি পোশাক শিল্প গ্রুপ এ্যাপারেল প্রোফাইলে। চার বছর কাজ করেন এ প্রতিষ্ঠানে। ২০০২ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন বায়িং হাউজ । ২০০৩ সালে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন হামিদ গ্রুপে। গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে কারখানা চলছিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। এর পরে ২০০৭ সালে ঢাকার বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি ভাড়া করা ভবনে অপর একটি কারখানা শুরু করেন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয় ভবনের ভাড়ার মেয়াদ। অন্যদিকে হামিদ গ্রুপের নীতিনির্ধারকরা ফতুল্লার কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে কারখানাটি নিজের মালিকানায় চালানোর প্রস্তাব দেন এ বি সিদ্দিক। সে অনুযায়ী চুক্তি হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে আবার চালু হয় কারখানা। কিন্তু তিন মাসের মাথায়ই থমকে গেছে যেন এ বি সিদ্দিকের এই স্বাভাবিক পথ চলা।
নিরাপত্তার স্বার্থে এ বি সিদ্দিকের বাসার গেটে এখন নিয়মিত পুলিশের পাহারা। বাইরে গেলে সঙ্গে থাকছে একজন করে গানম্যান। কিন্তু গানম্যান নিয়ে চলতে বিব্রত তিনি। গত প্রায় পনের দিনে তিনি দুই দিন জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছেন, একদিন গেছেন মামার বাসায়, একদিন ডিবি অফিসে এবং আরেকদিন চুল কাটাতে সেলুনে। এ বি সিদ্দিক বলেন, ‘আমি চুল কাটাবো। বাইরে অপেক্ষা করবে গানম্যান। এ পরিস্থিতির জন্যে কখনোই প্রস্তুত ছিলাম না’।
প্রোব/জাতীয়/শর/আপা/পি/ ০৪. ০৫. ২০১৪

৪ মে ২০১৪ | জাতীয় | ২০:০৫:১২ | ১০:২৯:৩৫

জাতীয়

 >  Last ›