A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

চা শিল্পে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক | Probe News

চা শিল্পে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক

দৈনিক মজুরি ২০০ টাকা করার দাবি


tea34.jpgআলতাফ পারভেজ, প্রোবনিউজ, ঢাকা: ২১ মে থেকে দেশের চা শিল্পে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে শ্রমিকরা। ছয় দফা দাবিতে এই ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে দৈনিক মজুরি ২০০ টাকা করা। মে দিবসে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া বাগানে ১৫ হাজার শ্রমিকের এক সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ আন্দোলনের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ২১ মে’র এই ধর্মঘটের সমর্থনে আজ রবিবার দেশের চা বাগান সংশ্লিষ্ট ২১টি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে সমাবেশ শেষে স্মারকলিপি দিয়েছে চা শ্রমিক ইউনিয়নের স্থানীয় শাখাগুলো। আগামী ১১ মে চা বাগান রয়েছে এমন জেলাগুলোতে জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ১৬২টি চা বাগান চালু রয়েছে। এসব বাগানে প্রায় ৯০ হাজার স্থায়ী (বাগান দফা নামে পরিচিত)এবং ৩০ হাজার অস্থায়ী শ্রমিক (বস্তি দফা নামে পরিচিত) দৈনিক ৬৯ টাকা মজুরিতে কাজ করছে। মজুরির বাইরে চা শ্রমিক পরিবারগুলো সপ্তাহে ন্যূনতম মূল্যে ৩.২৭০ কেজি গম বা আটা রেশন হিসেবে পেয়ে থাকে এবং বাগানে বস্তি সদৃশ্য লেবার কলোনিতে বিনামূল্যে থাকতে পারে। দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মুখে শ্রমিক পরিবারগুলোর আর সংসার চলছে না বলে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি বলে প্রোব নিউজকে জানালেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি। উল্লেখ্য, উপরোক্ত শ্রমিক পরিবারগুলোর নির্ভরশীল চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর সর্বমোট সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ।

প্রোব নিউজের সাথে আলাপকালে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কৈরি মজুরি বৃদ্ধি ছাড়াও ধর্মঘট আহ্বানের পেছনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির কথাও জানান। এর মধ্যে আছে শ্রম আইনের যুগোপযোগী সংশোধন করা, শিক্ষাবৃত্তি পুনরায় চালু করা, বাগানের খালি জায়গায় শ্রমিকদের চাষাবাদের সুযোগ কেড়ে নেয়া বন্ধ করা, পুনরায় সিবিএ নির্বাচন দেয়া এবং নির্বাচন দিতে বিলম্ব হলেও সর্বশেষ নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নতুন মজুরি চুক্তি করা।

উল্লেখ্য, দেশের শিল্প খাতগুলোর মধ্যে চা খাতেই বহুদিন ধরে নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় দরকষাকষি কর্তৃপক্ষ বা সিবিএ নির্বাচনের রেওয়াজ থাকলেও গত ৪ বছর ধরে তা বন্ধ হয়ে আছে।

২০০৮ সালের ২৬ অক্টোবর ও ২ নভেম্বর দুই দিনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে সিবিএ’র সভাপতি নির্বাচিত হন মাখন লাল কর্মকার এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন রামভজন কৈরি। এই মাখন-রামভজন কমিটি নির্বাচিত হওয়ার কিছু দিনই পরই ২০০৯-এর ২৫ নভেম্বর নির্বাচনে পরাজিত শ্রমিকদের একাংশ সিবিএ কার্যালয় থেকে তাদের উচ্ছেদ করে। এরপর থেকে দেশের চা শ্রমিকরা দ্বিধাবিভক্ত।

বর্তমানে মাখন লাল-রামভজনের নেতৃত্বাধীন সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটি একদিকে নতুন নির্বাচন এবং অন্যদিকে নতুন মজুরি চুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিজয় বুনার্জির নেতৃত্বাধীন শ্রমিকদের অপরাংশ ২০০৯-এর নভেম্বরে সিবিএ কার্যালয় দখল করলেও পরে উৎখাত হওয়া নির্বাচিত নেতৃত্বের দাবির মুখে সরকার তাদের শ্রীমঙ্গলস্থ লেবার হাউস থেকে বের করে দেয়। সেই থেকে বর্তমানে চা শ্রমিকদের সিবিএ কার্যালয় সরকারকর্তৃক তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এর তদারকির দায়িত্বে রয়েছে বর্তমানে শ্রম মন্ত্রণালয়।

নতুন নির্বাচন ও নতুন মজুরি কাঠামোর দাবিতে মাখল লাল ও রামভজনের নেতৃত্বাধীন শ্রমিকরা সম্প্রতি যে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার অন্যতম একটি দাবি হিসেবে রয়েছে বাগিচাগুলোর খালি জায়গায় শ্রমিকদের চাষাবাদের অধিকার কেড়ে নেয়া বন্ধ করা। অতীতে বাগিচাগুলোর খালি জায়গা শ্রমিকরা বাগান কর্তৃপক্ষ থেকে বরাদ্দ নিয়ে ধান আবাদ করতো এবং ৩০-৪০ শতাংশ শ্রমিক পরিবারের খাবারের অন্যতম যোগান হিসেবে কাজ করতো তা। সম্প্রতি বিভিন্ন বাগানে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের প্রথাগত এই অধিকার কেড়ে নিয়ে খালি জায়গাগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে লেবু, আনারস ইত্যাদি আবাদ করছে। এর ফলে বাগানে বাগানে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে এবং অনেক শ্রমিক পরিবারেই খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, চা বাগানগুলোর মালিকানার ধরনে বৈচিত্র্য বিদ্যমান। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাগান ডানকান, জেমস ফিনলে ইত্যাদি ব্রিটিশ কোম্পানি মালিকানাধীন। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশী ব্যক্তিমালিকানাধীনও অনেক বাগান রয়েছে। বাগিচা মালিকদের সাথে চা শ্রমিকদের সর্বশেষ মজুরি চুক্তি হয়েছে ২০১৩ সালের জুনে।
প্রোব/আপা/জাতীয়/০৪.০৫.২০১৪

 

৪ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১৬:৫৫:৩৪ | ১১:৪০:০২

জাতীয়

 >  Last ›