A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

‘মনের ট্রানজিটের পাশাপাশি ফিজিক্যাল ট্রানজিট দরকার’ | Probe News

‘মনের ট্রানজিটের পাশাপাশি ফিজিক্যাল ট্রানজিট দরকার’

pankaj-saron.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: বাংলাদেশের সঙ্গে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিল থাকলেও বিগত চার দশকেরও বেশি সময় স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন দুই দেশের ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, রাজনীতিক ও কূটনীতিকরা। এক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সীমান্ত কোন্দল, পানি ভাগাভাগির ইস্যুসহ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কর্মকান্ডকে দায়ী করেন তারা। তাদের মতে দুই দেশের মধ্যে টেকসই সম্পর্ক উন্নয়নে অমিমাংসিত এবং বিতর্কিত এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
শনিবার বাংলা একাডেমীর আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ হলে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী আয়োজিত ‘১৯৭১: বাংলাদেশ এবং পূূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত: স্মৃতিসত্তা ভবিষ্যত’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ একাধিক বিষয়ভিত্তিক কর্ম অধিবেশনে বক্তারা এ কথা বলেন।
সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ যেমন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে ঠিক তেমনি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে একটি স্থিতিশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ ভারতের জন্যও জরুরী।
তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব প্রদেশগুলো থেকে বাংলাদেশ কাঁচামাল আমদানী করে শিল্পপণ্য তৈরি করে স্বল্পমূল্যে সেগুলো ভারত ও অন্যান্য দেশে রফতানী করতে পারে। এতে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পংকজ শরণ ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ পরবর্তী অবস্থাকে ‘চ্যালেঞ্জ’ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কর্মকান্ডকে ‘ট্রাবল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নে মনের ট্রানজিটের পাশাপাশি ফিজিক্যাল ট্রানজিট দরকার। এজন্য দুই দেশের মধ্যে নৌযোগাযোগ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী’র সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসির মামুনও দুই দেশের টেকসই সম্পর্ক উন্নয়নে অবাধ বাণিজ্য সম্পর্ক, অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সীমান্ত কোন্দলসহ পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি তুলেন। তার মতে, প্রতিবেশী যেহেতু বদলানো যাবে না। তাই দুই দেশকেই মনে রাখতে হবে ‘বন্ধুত্বের’ বিকল্প নেই।
অধ্যাপক কৈলাস সি. বড়ালের সভাপতিত্বে ‘ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি’ শীর্ষক দিনের অপর এক কর্ম অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক ড. মহাদেব চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিল থাকলেও বিগত চার দশকের বেশিরভাগ সময়ই সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিলনা। একথা বলতে আর লজ্জা নেই।
সেমিনারে একই সুরে কথা বলেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ভারত যেমন বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে করিডোর চাচ্ছে। তেমনি নেপাল ও ভুটানে যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশেরও করিডোর দরকার। দুই দেশের চাওয়া ও পাওয়ার এ হিসাব না মিললে সম্পর্ক আরো জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তাই দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক কূটনৈতিক উদ্যোগ উপযোগী বলে মন্তব্য করেন সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা দেশভাগ করতে পারেন কিন্তু মানুষের হৃদয় ভাগ করতে পারেন না। মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালবাসা ও সহমর্মিতা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে সেই চেতনাকে রক্ষা করতে হবে, ছড়িয়ে দিতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। আর ওই সময়ের ইতিহাসকে আরো বিষয় করে আলোচনার ওপর জোর দেন অধ্যাপক কৈলাস সি. বড়াল।
সম্মেলনে ‘মৈত্রী ও বন্ধন’ এবং ‘দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক’ শীর্ষক আরো দুটি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া রোববার ‘অর্থনৈতিক সম্পর্ক: বাণিজ্য ও উন্নয়ন’ এবং ‘স্মৃতি ১৯৭১’ শীর্ষক দুটি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতায় রয়েছে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন; রূপালী ব্যাংক; জনতা ব্যাংক; অগ্রণী ব্যাংক; দি ফারমার্স ব্যাংক, সাউথ-ইস্ট ব্যাংক এবং নিটল-নিলয় গ্রুপ।
প্রোব/জাতীয়/শর/পি/ ০৩.০৫ ২০১৪

৩ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১৯:৪৭:২৬ | ১১:১২:৩৯

জাতীয়

 >  Last ›