A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

দেশে চার মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ৮৭, গুম ১৯: অধিকার | Probe News

দেশে চার মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ৮৭, গুম ১৯: অধিকার


ODhikar.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: বাংলাদেশে গত চার মাসে ৮৭টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ১৯ জনকে গুমের ঘটনা ঘটেছে । এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১১০ জন । জেল হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে ৪৬ জন।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর গত চার মাসের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদন অনুসারে বিএসএফের হাতে ছয় বাংলাদেশী নিহত, ১২ জন আহত ও সীমান্ত থেকে ৩৭ জনকে অপহরণ করা হয়েছে।

সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের মাসে ৩৯ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৬ জন, মার্চ মাসে ১৪ জন এবং এপ্রিল মাসে ১৮ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ধরনের মধ্যে রয়েছে র্যা ব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ক্রসফায়ারে নিহত ৫৪ জন, পুলিশের নির্যাতনে নিহত তিনজন, গুলিতে নিহত ২৮ এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দুইজনকে।

বিচারবহির্ভূতভাবে নিহত ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জনই তথাকথিত ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার বা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে র্যা বের হাতে পাঁচজন, পুলিশের হাতে চারজন, কোস্টগার্ডের হাতে তিনজন এবং র্যা ব-বিজিবির হাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। গুলিতে নিহত ১৮ জনের মধ্যে চারজনই পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে অধিকারের ওই প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।

অধিকার জানায়, গত চার মাসে গুম হয়েছে ১৯ জন । এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে একজন, ফেব্রুয়ারি মাসে ছয়জন, মার্চ মাসে দুইজন এবং এপ্রিল মাসে ১০ জন গুম হয়েছে।

অধিকার বলছে, আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকেরই কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভিকটিমদের পরিবারগুলোর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাদের ধরে নিয়ে গেছে এবং এর পর থেকে তারা গুম হয়েছেন অথবা তাদের লাশ পাওয়া গেছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী প্রথমে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে আটক ব্যক্তিকে জনসমক্ষে হাজির করছে অথবা দূরবর্তী কোনো থানায় নিয়ে হস্তান্তর করছে।

অধিকারের প্রাপ্ত তথ্য মতে, এপ্রিল মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ১০ জন গুম হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে গুম হওয়ার পরে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাতজনকে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

অধিকারের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফ গত জানুয়ারি মাসে একজন, ফেব্রুয়ারি মাসে একজন, মার্চ মাসে দুইজন এবং এপ্রিল মাসে দুই বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। আহত করেছে ১২ জনকে এবং চার মাসে ৩৭ জন বাংলাদেশীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় গত জানুয়ারি মাসে ৫৩ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ জন, মার্চ মাসে ২২ জন এবং এপ্রিল মাসে ২৫ জন নিহত হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আহত হয়েছেন গত চার মাসে ৪৩ জন, হুমকির সম্মুখীন আছেন সাতজন, গ্রেফতার হয়েছেন চারজন এবং লাঞ্ছিত হয়েছেন তিনজন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭০ জন, যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৮০ জন, এসিড সহিংসতার শিকার হয়েছেন ১৫ জন নারী। এ ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্প কারখানায় সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৩১১ জন শ্রমিক।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অধিকার। সংগঠনটি মনে করে ‘গণতন্ত্র’ মানে নিছক নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া ও ভিত্তি নির্মাণের গোড়া থেকেই জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় নিশ্চিত করা জরুরি। সেটা নিশ্চিত না করে যাত্রা শুরু করলে তার কুফল জনগণকে বয়ে বেড়াতে হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে জনগণ নিজেদের ‘নাগরিক’ হিসেবে ভাবতে ও অংশগ্রহণ করতে না শিখলে ‘গণতন্ত্র’ গড়ে ওঠে না। নাগরিক হিসেবে নিজেদের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় এবং মানবিক চাহিদা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা হিসেবে রাষ্ট্র গড়ে না উঠলে তাকে ‘গণতন্ত্র’ বলা যায় না।

অধিকার রাজনৈতিক সহিংসতা ও সরকারদলীয় কর্মীদের দুর্বৃত্তায়ন বন্ধের জন্য সরকারকে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবিলম্বে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, সভা-সমাবেশে বাধা না দেয়া, সরকারকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনাগুলোর সাথে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিচারের সম্মুখীন করা, সরকারকে অবশ্যই নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘ সনদের অপশোনাল প্রোটোকল অনুমোদন করাসহ ১৪ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে গুম ও হত্যার ব্যাপারে সরকারকে ব্যাখ্যা দেয়া এবং অবিলম্বে নিখোঁজ হওয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ডিসেম্বর ২০, ২০০৬-এ গৃহীত সনদ ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেনস’ অনুমোদন করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।
প্রোব/খোআ/জাতীয় ০৩.০৫.২০১৪

৩ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১০:৩৩:০৪ | ১০:৩৫:৫৯

জাতীয়

 >  Last ›