A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

নির্বাচনী সহিংসতার দায় সরকার ও বিরোধী দুই পক্ষেরই; গুম-খুন-অপহরণে উদ্বেগ, RAB ভেঙে দেয়ার সুপারিশ | Probe News

এইচআরডব্লিউ-এর প্রতিবেদন: ‘বন্দুকযুদ্ধে বাংলাদেশের গণতন্ত্র’

নির্বাচনী সহিংসতার দায় সরকার ও বিরোধী দুই পক্ষেরই; গুম-খুন-অপহরণে উদ্বেগ, RAB ভেঙে দেয়ার সুপারিশ

bangladeshelexviolence_152014.jpgপ্রোবনিউজ, ডেস্ক: চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সংঘর্ষ ও নাশকতার ঘটনায় সরকার ও বিরোধী উভয়পক্ষকেই আবারও দায়ী করে সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নির্বাচনকালিন সহিংসতা এবং ক্রমবর্ধমান হত্যা-অপহরণ-গুম-খুনের ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে সংস্থাটি র্যা ব বিলোপেরও সুপারিশ করেছে। যতোদিন র্যা ব বিলুপ্ত না হচ্ছে ততোদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় এই এলিট ফোর্স-সহ যাবতীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার জায়গায় নিয়ে আসারও সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্কভিত্তিক প্রভাবশালী এই মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যের বরাতে জানায়: বিতর্কিত ওই নির্বাচনকে ঘিরে সংঘটিত সংঘর্ষে দেশব্যাপী শতাধিক ব্যক্তি নিহত ও আহত হয়েছেন। হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচের এশিয়া মহাদেশের আঞ্চলিক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস্ বলেন, “দেশটির স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত এটাই ছিল সবচাইতে রক্তক্ষয়ী নির্বাচন এবং এখন পর্যন্ত দেশটিতে এরকম যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।”এসব সংঘর্ষের ঘটনাকে রীতিমতো অবিবেচনাপ্রসূত উল্লেখ করে তিনি বলেন; দেশটির প্রধান প্রধান রাজনৈতিকHRW____Lead.jpg দলগুলোর নেতাদেরই যে শুধু জনগণের কাছে দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রদান করতে হবে তাই নয়, বরং এসব সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

‘বন্দুকযুদ্ধের মুখে গণতন্ত্র: বাংলাদেশে বিরোধীপক্ষের সংঘর্ষ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে সরকারের নির্যাতন’ শীর্ষক ৬৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে নির্বাচন বর্জন করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ডাকে দেশব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়- বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর সদস্য নেতা-কর্মীরা দেশব্যাপী সড়কগুলোতে যাত্রীবাহী বাস, মোটরচালিত অটোরিকশা এবং পণ্যবোঝাই ট্রাকে ক্রমাগত পেট্রোল বোমা ছুড়ে গেছে। বেশ কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে শিশুদের ওপরেও হামলা চালিয়েছে বিরোধীপক্ষের নেতা-কর্মীরা। এইচআরডিব্লিউ-এর সুপারিশ: নিজ নিজ দলের সমর্থকরা যেসব সংঘর্ষের ঘটনার ঘটিয়েছে, তার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করে জনসম্মুখে বিবৃতি প্রদান করা উচিত প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের।

এছাড়াও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অপহরণের পর গুম করে ফেলা, নির্বিচারে গ্রেফতার ও সর্বসাধারণের ব্যক্তিগত সম্পদ বিনষ্টকরণের সঙ্গে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার গবেষণালব্ধ তথ্য বিস্তারিতভাবে নথিবদ্ধ করেছে হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

র্যা ব ভেঙে দিয়ে তার বদলে একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। নতুন সেই সংস্থা যেন সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব rab-arms-11.jpgদেওয়ার সময় মানবাধিকারকে কেন্দ্রে স্থান দেয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে তারা। নতুন সংস্থার অফিসার ও অন্যান্য সদস্যদের সামরিক বাহিনী থেকে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। যতদিন না র্যা ব ভেঙে দেওয়া হচ্ছে ততোদিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের র্যা বে পাঠানো বন্ধ করা এবং কর্মরত সৈন্যদের আইন বলবতের দায়িত্বে নিয়োগ করা নিষিদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনী পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। ভেঙ্গে দেয়ার আগ পর্য্নত সংস্থাটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

র্যা বকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সুপারিশ রেখেছে এইচআরডব্লিউ। পাশাপাশি অন্যান্য দাতা সংস্থা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভূক্ত দেশগুলোকেও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশকে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য ১২০ জনেরও বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ। তাদের মধ্যে ছিলেন ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা। বিরোধী দলের কর্মী ও সমর্থক এবং নিরাপত্তা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো জনগণের ওপর এসব নির্যাতনের সঙ্গে নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জড়িত ছিল বলে তথ্য পেয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

প্রোব/বান/জাতীয় ৩০.০৪.২০১৪

 

৩০ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১৪:১৮:১০ | ১৯:১৩:৩২

জাতীয়

 >  Last ›