A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

দেশজুড়ে অপহরণ-গুম আতংক | Probe News

স্বজন হারানো মানুষের শোকের মাতম

দেশজুড়ে অপহরণ-গুম আতংক

lead story 29প্রোবনিউজ, ঢাকা: দেশে অপহরণ ও গুমের সংখ্যা চরম উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। অপহরণের পর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না অধিকাংশেরই। মাঝে মাঝে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মিলছে এসব মানুষের লাশ। দেশজুড়ে শত শত পরিবারে শোকের মাতম। কেউ নেই তাদের পাশে। প্রশাসনে ও জনসমাজে কারো উদ্যোগ ও উৎকণ্ঠা দেখা যাচ্ছে না সর্বগ্রাসী ভীতিকর এই অবস্থায়। বিস্ময়করভাবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও নীরব।

আইন-শৃংখলা বাহিনীকে বেশি মাত্রায় রাজনীতিকীকরণের কারণেই দিনের পর দিন অপহৃতের সংখা বাড়ছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিশ্লেষক মহলে। কেন এবং কারা দিনের পর দিন নির্বিঘেœ শত শত মানুষকে গায়েব করে দিচ্ছে তার কোন সদুত্তর মিলছে না কোন তরফ থেকে।

বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এ বি সিদ্দিককে অপহরণকারীরা ৩৫ ঘণ্টা পর ছেড়ে দিলেও সর্বশেষ গত কয়েক দিনে দেশে অপহরণের হার মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। একের পর এক গুম-অপহরণ হচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। ঢাকায় অপহরণের পর যুবদল নেতার লাশ মিলেছে লক্ষ্মীপুরে। নারায়ণগঞ্জে এক ঘটনাস্থল থেকেই অপহৃত হয়েছেন সাত জন। সেখানে আদালত চত্বর থেকে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ অন্য সাতজনকে তুলে নেয়ার পর গতকাল পর্যন্ত কোন খোঁজ নেই কারো।

সোমবার ভোরে গাজীপুরে দুই সহোদরকে অপহরণের পর রাতে তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়মনসিংহের ভালুকায় একই দিনে অপহরণ করা হয়েছে দুই শিক্ষককে। কেরানীগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগ কর্মী রিন্টু নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। নোয়াখালির জেলা সিপিবি নেতা মফিজুর রহমানকে অপহরণের পর গত রোববার গলাকেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুবৃত্তরা।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য মতে, গত চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) শুধু অপহরণ করা হয়েছে ৫৪ জনকে।
সর্বগ্রাসী এরূপ অপহরণ, গুম ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে জনমনে। সর্বত্র ভয়ের সংস্কৃতি। কেউই নিরাপদ বোধ করছেন না। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে অপহরণ ভীতি চরম।

আসকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে ২০১৪‘র ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ২৭৯ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে ২৬ জনকে। মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ৪৫ জনের। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২০৮ জন।
আসক পরিচালক (তদন্ত) নূর খান প্রোবনিউজকে বলেন, ‘বেশিরভাগ অপহরণের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে। গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের বিভিন্ন উপাদান তার সাক্ষী। যেমন, অপহরণকারীদের উচ্চতা, চুলের কাটিং, দেহের আকার, পোশাক, এমনকি অপহরণ কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র।’

এ প্রসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে নূর খান বলেন, ‘দেশে প্রতিনিয়ত কীভাবে এত লোক অপহৃত হওয়া সম্ভব! আবার এর কোনো খোঁজও মিলছে না। কেউ কেউ উদ্ধার হলেও আসল ঘটনা জনগণ জানতে পারছে না। এ বিষয়গুলো সরকারকে কিংবা দেশের সুশাসন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরি দুর্ঘটনায় ২০০ জন মানুষ মারা যাওয়ার পর ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আমাদের দেশে শতশত মানুষ অপহরণ, গুম, হত্যা কিংবা গার্মেন্টস কারখানা ধসে কয়েকশ’ মানুষ মারা গেলেও প্রধানমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট কেউ পদত্যাগ করেন না। আবার এর প্রতিরোধ-প্রতিকারেও সরকারের তরফে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয় না। তার মানে সরকার ও রাষ্ট্র গুম, অপহরণ রোধ করতে ব্যর্থ।’
মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘অপহরণের যে সংখ্যা আমাদের সামনে এসেছে বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি। দেশে প্রতিদিনই মানুষ অপহৃত হচ্ছে।’

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, ‘২০১৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত র‌্যাব, পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় তাদের ২৭২ জন নেতাকর্মী খুন এবং ২৫ জন নেতাকর্মী গুম হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিখোঁজ। সব মিলিয়ে ৩১০ জন নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে।’

দেশে মাত্রাতিরিক্ত অপহরণ, গুম, হত্যা সম্পর্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদিকুল আরিফিন মাতিন প্রোবনিউজকে বলেন, ‘অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি না দেয়ার কারণে এ অপরাধগুলো বেড়ে চলেছে। সরকারের নৈতিক দায়িত্ব প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা।’

প্রোব/খোআ/পি/জাতীয়/ ২৯.০৪.২০১৪

 

 

২৯ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ২০:৪৪:১৫ | ১২:৫২:৫১

জাতীয়

 >  Last ›