A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

প্রথম টিকফা সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রই বেশি লাভবান | Probe News

প্রথম টিকফা সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রই বেশি লাভবান

B1-DCCI-TICFA-1.jpgআলতাফ পারভেজ, প্রোবনিউজ: যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ প্রথম টিকফা সংলাপে বাংলাদেশের সরাসরি কোন অর্জন নেই। বাংলাদেশ আলোচনাকালে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়ে সর্বোচ্চ এবং প্রায় একমাত্র গুরুত্ব দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল এসব বিষয়ে সরাসরি কোন অগ্রগতির অঙ্গীকার করেনি। প্রতিনিধিদলের প্রধান মিশেল ডিলানে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তারা জিএসপি বিষয়ে দরকষাকষির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের যথার্থ ব্যক্তি নন। তবে তিনি এও বলেছেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশের অগ্রগতি ‘সন্তোষজনক’ কিন্তু ‘আরও অনেক দূর’ যেতে হবে এক্ষেত্রে। বিশেষ করে শ্রম অধিকার ও কারখানা পরিদর্শন বিষয়ে বাংলাদেশকে আরও ইতিবাচক সংস্কার সাধন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আজ ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার দুই দিনব্যাপী ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট [টিকফা] শীর্ষক এই সংলাপ শেষ হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগে ‘জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স’ তথা জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে দিয়েছে এবং এই সুবিধা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ১৮ দফা করণীয়ের একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

এদিকে, টিকফা’র চলতি সংলাপকালে বাংলাদেশের সরাসরি লাভালাভ না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক অর্জন হলো অগ্নি নির্বাপক ও দুর্যোগ প্রতিরোধক শিল্প সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুল্ক কমানোর অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ গতকালের বৈঠক শেষেই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন শিল্প নিরাপত্তা বিষয়ক সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক কমানোর বিষয়ে রাজস্ব বোর্ড শিগগির নতুন প্রজ্ঞাপন জানাবে।
উল্লেখ্য, টিকফা সংলাপ শুরুর পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র তাদের তরফ থেকে আলোচনার জন্য যে ১১টি বিষয় উত্থাপন করে তার প্রথমেই ছিল এই দাবি। বর্তমানে এক্ষেত্রে শুল্ক হার ১৫৪ শতাংশ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে সম্ভাব্য নতুন হার হবে ১৫ শতাংশ।
সংলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য দাবির মধ্যে ছিল আমদানি পণ্যের উপর বিদ্যমান বীমা নীতিমালা প্রত্যাহার, মেধাস্বত্ত্ব অধিকারের সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা, শ্রম অধিকারের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা ইত্যাদি। উপরোক্ত দাবিগুলোর মধ্যে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস্ বা মেধাস্বত্ত্ব অধিকারের দাবিটি আলোচনার টেবিলে আসাকে অনেক বাণিজ্যিক বিশ্লেষকই বাংলাদেশের জন্য মহাবিপদ সংকেত হিসেবে দেখছেন। কারণ এই দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোন অর্জন মাত্রই সাধারণ বাংলাদেশীদের কম্পিউটার সফটঅয়্যার, ওষুধ, সঙ্গীত, বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ ইত্যাদি বিষয়ে বাড়তি অর্থ দিতে হবে। যেহেতু একবার বিষয়টি টিকফা’র মতো প্রাতিষ্ঠানিক ফোরামে উঠেছে ফলে প্রতিনিয়ত এখন যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইবে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র টিকফা কাঠামোর আওতায় শ্রম ও নারী বিষয়ক দুটি কমিটি গঠন করারও প্রস্তাব দিয়েছে যদিও বাংলাদেশ পক্ষ তাতে সম্মতি দেয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চলতি দরকষাকষির আলোকে বাংলাদেশসহ এলডিসি দেশগুলো মেধাস্বত্ত্ব অধিকারের ক্ষেত্রে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছাড় পাওয়ার অধিকারী হলেও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক টিকফা ফোরামে এটা উত্থাপন করা বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর। বাংলাদেশ এখন মেধাস্বত্ত্ব বিষয়ে যেকোন ছাড় দিলেই দেশের তথ্য প্রযুক্তিখাত ও ওষুধ শিল্প সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রথম টিকফা আলোচনায় কৌশলগত ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশেষ নজরে পড়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান কেবল জিএসপি ও শুল্প সুবিধার উপর কেন্দ্রীভূত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বহু বিষয় আলোচনার কাঠামোতে নিয়ে আসতে পেরেছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসেছে ৭১২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। বর্তমানে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ১৫ ভাগের গন্তব্য যক্তরাষ্ট্র। এসব রফতানি পণ্যের ৯০ ভাগই আবার পোশাক খাতের পণ্য। ফলে টিকফা সংলাপে বাংলাদেশের আলোচনা পোশাক খাতের পরিধি অতিক্রম করে জাতীয় বাণিজ্যের পরিসর বৃদ্ধির কোন প্রচেষ্টায় রূপ নিতে পারেনি। বিশেষ করে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দুর্যোগ প্রতিরোধ সামগ্রীতে শুল্ক ছাড় আদায় করে নিলেও বাংলাদেশ পোশাক পণ্যে শুল্ক কমাতে সমর্থ হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে প্রায় ১৪ শতাংশ শুল্ক দিয়ে থাকে। ভারতের ক্ষেত্রে যা তিন শতাংশেরও কম।

উল্লেখ্য, এশিয়ায় চীন ও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও এখনো টিকফা স্বাক্ষর করেনি তারা।

 

প্রোব/জাতীয়/আপা/পি/২৯.০৪.২০১৪

২৯ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১৬:৫৪:২৩ | ২১:২৮:২৬

জাতীয়

 >  Last ›