A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

দাঙ্গার স্মৃতি তাড়া করছে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনকে | Probe News

Mulayam-Muslim2.jpgদাঙ্গার স্মৃতি তাড়া করছে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনকে

প্রোবনিউজ, ঢাকা: ভারতের নির্বাচনে এককভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী রাজ্য উত্তর প্রদেশ (ইউপি)। ভোটার সংখ্যা, আসন সংখ্যা, হেভিওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতি ইত্যাদি সকল বিবেচনাতেই ইউপিকে নির্বাচনের মূল যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মোদি, কেজরিওয়াল, রাহুল, মায়াবতী, মুলায়ম সিংসহ রাজনীতির বড় বড় খেলোয়াড় অনেকেই এ রাজ্যে লড়ছেন। নির্বাচনী দ্বন্দ্বে ইউপিকে বিবেচনা করা হচ্ছে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক রণক্ষেত্র।

এ লেখা পাঠক যখন পড়বেন তখন এ রাজ্যে ছয় দফা ভোটের চার দফাই শেষ। রাজ্যের ৮০টি লোকসভা আসনের আর ৩৩টিতে এখন ভোট গ্রহণ বাকি আছে।
তবে ইতোমধ্যে স্পষ্ট, ভোটযুদ্ধে দেশের অন্যত্র যেসব এজেন্ডা কাজ করছে ইউপিতে তার অনেকখানি ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে এবার। অতীতে এ রাজ্যে ভোটের ক্ষেত্রে জাত-পাতের বিভাজনটি যেভাবে মূল বিবেচনা হয়ে উঠতো সেটাও ২০১৪-তে অনেকখানি অনুপস্থিত বরং এবারের নির্বাচনে ইউপিতে ভোটের মূল লড়াই বেঁধেছে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ককে ঘিরে। যে কারণে মোদি ও বিজেপি নির্বাচনী যুদ্ধে অন্যান্য রাজ্যে ‘উন্নয়ন’কে প্রধান এজেন্ডা করে তুললেও ইউপিতে তারা সেক্ষেত্রে নীরব। এমনকি বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনকালে দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্য, রাস্তা-ঘাট নির্মাণের বিষয়গুলো যতটা গুরুত্ব পাচ্ছে ইউপিতে তার সামান্যই দেখা যাচ্ছে।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য ইউপি। ২০ কোটি মানুষের বাস এখানে; যার মধ্যে ১৯ ভাগ মুসলমান। ২০১৩ সালে ইউপির মুজাফফরাবাদে এই মুসলমানরা বড় দাগে একদফা নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। ১৯৯০-এর পর এটাই এ রাজ্যে সবচেয়ে বড় আন্তঃধর্মীয় সহিংসতার ঘটনা। এবারের নির্বাচনে ইউপির বিরাট অঞ্চল জুড়ে জারি রয়েছে তারই রেশ। কংগ্রেস, বিজেপি, মায়াবতির বহুজন সমাজবাদী পার্টি ও মুলায়াম সিং যাদবের সমাজবাদী দল সবাই এখন মুজাফফরাবাদের রক্তের দাগ ধরেই যার যার ভোটের অংক সমাধান করতে চাইছে।

এ রাজ্যে ৮০টির মধ্যে অর্ধেক আসনেই মুসলমান ভোটাররা ফলাফলকে প্রভাবিত করতে সক্ষম বড় দলগুলো তাই মুসলমান ধর্মীয় নেতাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করতে। এরই প্রভাবে দেখা গেছে, কংগ্রেস ইমাম আহমেদ বুখারির সমর্থন আদায় করেছে, রাজ্যে বিজেপি সভাপতি রাজনাথের নির্বাচনী জনসভাগুলোতে প্রায় স্থায়ীভাবে দেখা গেছে মুসলমানkejriwaleid14.jpg ওলামেদের। আর স্থানীয় প্রভাবশালী ইসলামী সংগঠন মজলিস-ই-মুসওয়ারাত তার সদস্যদের অনুরোধ করেছে যার যার আসনে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ প্রার্থীদের ভোট দিতে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে মুসলমানদের জন্য ‘উন্নয়ন’ প্রশ্নওটি নির্বাচনে সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও মুজাফফরাবাদের হত্যালীলা তাদের কাছে নিরাপত্তার প্রশ্নটি প্রধান নির্বাচনী ইস্যু করে তুলেছে। তবে এক্ষেত্রে মুসলমান জনমতও বিভক্ত বলেই মনে হচ্ছে। এই বিভক্তির মূলে আবার কাজ করছে রাজ্যের মুসলমান সমাজের শ্রেণী সমীকরণ।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে ইউপির মুসলমানরা দু’ ধারায় বিভক্ত এখানে। এক গোষ্ঠীর পরিচয় ওবিসি (আদার ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস) অন্তর্ভুক্ত মুসলমান এবং অন্যগ্রুপ সাধারণ মুসলমান। ওবিসি মুসলমানদের কাছে অখিল যাদবদের সমাজবাদী পার্টির আবেদন সর্বাধিক। অন্যান্য সাধারণ মুসলমানরা অধিক ঝুঁকে থাকেন প্রথমত. কংগ্রেসের দিকে এবং দ্বিতীয়ত. মায়াবতির বিএসপি’র দিকে। তবে উচ্চবর্ণের মুসলমানদের একাংশ আবার সমাজবাদী পার্টিকেও পছন্দ করে। যদিও সামগ্রিক যোগ-বিয়োগ শেষে দেখা যায়, মুসলমান ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। গত নির্বাচনে সমাজবাদী দল রাজ্যে ৮০টি লোকসভা আসনে পেয়েছিল ২৪টি এবং কংগ্রেস ২৩টি। তবে মায়াবতিও ২০টি আসন পেয়ে প্রতিযোগিতায় তীব্র উপস্থিতি বজায় রেখেছিলেন।

বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এ রাজ্যে এখন সরকার চালচ্ছে মুলায়াম সিংয়ের পুত্র অখিল যাদব-এর সরকার। ২০১৪-এর চলতি নির্বাচনের পূর্বে এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ মুসলমান মনে করে অখিলের প্রশাসন যেভাবে দাঙ্গা পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তাতে তারা সন্তুষ্ট। কিন্তু অসন্তুষ্ট জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও কম নয় ৩৯ শতাংশ।

এইরূপ তথ্য থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, মুসলমানরা এ রাজ্যে এবং সম্ভবত ভারতের কোথাও ভোটব্যাংক আকারে এখন আর ভোট দেয় না। অর্থাৎ ধর্মের মতোই তাদের নিজ পরিমন্ডলের শ্রেণী ও জাতের বিবেচনাও ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক বিবেচনা হিসেবে গড়ে ওঠে।
প্রোব/আন্তর্জাতিক/আপা/২৯.০৪.২০১৪

 

২৮ এপ্রিল ২০১৪ | আন্তর্জাতিক | ১৩:৩৭:০৫ | ১৫:৪৪:২০

আন্তর্জাতিক

 >  Last ›