A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

এরশাদকে তুলোধুনো করলেন রওশনসহ নেতারা | Probe News

Ershad Photo14.jpgজাপার যৌথসভা
এরশাদকে তুলোধুনো করলেন রওশনসহ নেতারা

কমিটি গঠনে টাকার লেনদেন!
নেতাদের ছেলে-মেয়েরা দল করে না
বোন জামাইকে অবজ্ঞা
বেপরোয়া অফিস স্টাফ
‘মহাসচিব পরিবর্তনের দোষও আমার উপর চাপানো হচ্ছে’

বেলায়েত হোসাইন, প্রোবনিউজ : নেতাকর্মীরা দূর-দুরান্ত থেকে এসেও এরশাদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পায়না। সমস্যার নিয়ে কথা বলার সুযোগ পায় না। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠনে টাকা-পয়সার লেনদেন হয়। সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক আর হট্টগোল হয়েছে রোববার অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের যৌথ সভায়। তবে দিনব্যাপী এ সভায় এরশাদ ছিলেন নীরব ও শান্ত। কারণ, অনেকদিন পর তার আহবানে সাড়া দিয়ে একত্রিত হয়েছিলেন জাপার শীর্ষ নেতারা। তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং দলের ভবিষ্যত নিয়েও নতুন করে আশান্বিত হয়েছেন।

সোমবার রাজধানীর গুলশানস্থ স্প্রেকটা কনভেশন সেন্টারে জাতীয় পার্টির যৌথ সভায় দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দিকে প্রথম সমালোচনার তীর ছুঁড়ে দেন স্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। এছাড়া দলের অন্য নেতারাও এরশাদকে করেন তুলোধুনো। সভা সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
সভার শুরুতেই বক্তব্য রাখেন রওশন। এরপরে একে একে সকল সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যের শুরুতে এরশাদের কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করে রওশন বলেন, ‘আমাদের সকল কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, কোন কমিটি গঠন করলে তার বিপরীতে আরেকজন দাঁড়িয়ে যায়। যোগ্য ব্যক্তিরা কমিটিতে স্থান না পেয়ে অন্য পার্টিতে যাওয়ার চিন্তা করে। নুতন নিয়োগ বুঝেশুনে করা উচিৎ। দলের চেয়ারম্যানকে মনে রাখতে হবে রাজনীতিতে আবেগের কোন স্থান নেই। এসব ব্যাপারে তার আরো শক্ত হওয়া উচিত।’

এরশাদকে উদ্দেশ্য করে রওশন আরো বলেন, ‘নেতাকর্মীরা দূর-দুরান্ত থেকে এসেও চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পায়না। তার উচিত সবাইকে সময় দেয়া। তাছাড়া পার্টি অফিস সব সময় খোলা রাখতে হবে। কর্মীরা যেন হয়রানির শিকার না হয়। কোন ব্যক্তি অন্যায় করলে তার ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সিদ্ধান্ত না নিলে, শাস্তি না দিলে পার্টি ধংস হয়ে যাবে। ’

রওশন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভুল করি। এগুলো এখন থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। গত নির্বাচন আমার জন্য খুব কঠিন ও জটিল ছিলো। আমরা অনেক ভুল করেছি। তবে উদ্দেশ্য হাসিল হয়েছে। এখনও অনেকে বিরোধিতা করছে। তাই সব কাজ সহজভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।’

রওশন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচনে যেতে আমাকে সব রকম সহযোগিতা করেছেন। তার সম্মতিও ছিলো। আবার উনি (এরশাদ) অনেককে দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করিয়েছিলেন। নির্বাচনের বিরোধিতা করে বিভিন্ন বিবৃতি দিয়েছেন। এতে করে আমি কি কম সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি? তবে আমাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হাসিল হয়েছে। আমরা এখন বিরোধী দল।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাদেরকে গৃহপালিত বিরোধী দল বলে। তবে আমরাই সত্যিকারের বিরোধী দল। এর আগে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ কেউ সত্যিকার বিরোধী দলের ভ’মিকা পালন করেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমি কখনই পার্টির চেয়ারম্যান হতে চাইনি। উনি (এরশাদ) যখন জেলে ছিলেন, আমি নিজেও গ্রেফতার আতঙ্কে ছিলাম। অনেক কষ্টে গ্রেফতার এড়িয়ে পার্টিকে সুসংগঠতি করেছি। আমি যা করি পার্টির জন্য করি। আমি সবার ভালো চাই। পার্টিরও ভালো চাই। বর্তমানে মহাসচিব পরিবর্তনের দোষও আমার উপর চাপানো হচ্ছে।’

রওশন বলেন, ‘হাওলাদার ১৪ বছর মহাসচিব ছিলো। দলের জন্য তার অনেক অবদান রয়েছে। তবে নতুন মহাসচিবকেও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে।’
বৈঠক সূত্র জানায়, রওশনের বক্তব্যের সময় একেবারেই চুপচাপ ছিলেন এরশাদ। মাঝে শুধু একবার বলে উঠেন-‘ আমারও ভুল হয়।’

কমিটি গঠনে টাকার লেনদেন!
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এরশাদের সমালোচনা করে বলেন, ‘স্যারের কাছে সমস্যার কথা বলার সুযোগ পাই না। কমিটি তৈরি হয়ে যায়, কিন্তু আমরা জানতেও পারি না। সেখানেও নাকি টাকা-পয়সার লেনদেন হয়। এরশাদ নিজেও ভালোভাবে কমিটির সদস্যদের চেনেন না। অফিস স্টাফরা পার্টির সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এসব বন্ধ করা উচিত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বসার ক্ষেত্রে সিনিয়রিটি মেইনটেন করা হয় না।’

এ সময় নেতাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ ফিরোজ রশিদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি তো দল ত্যাগ করেছেন বহুবার।’ এর জবাবে ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘দল আমার উপর অবিচার করেছে তাই।’

দূরে থাকো বন্ধু
আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মাওলা টিপু বলেন, ‘স্যারের (এরশাদ) বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতদের দলে আনা উচিত নয়। তাদের বন্ধু হিসেবেই রাখা উচিত।’

নেতাদের ছেলে-মেয়েরা দল করে না

বিরোধী দলীয় নেতা রওশনের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে প্রতিবারই নির্বাচন আসলে দল ভেঙ্গে যায়। আরো কষ্টের ব্যাপার, দলের নেতাদের সন্তানরা জাতীয় পার্টির রাজনীতি করে না।’ এসময় এরশাদকে সাহসী নেতা বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। তবে কমিটি গঠনে একটি সেল থাকার প্রয়োজনীয়তা আছে বলেও মত দেন গোলাম মসীহ ।

যে কারণে উপজেলা নির্বাচনে বিপর্যয়

প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবল হক চুন্নু বলেন, ‘ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই উপজেলা নির্বাচনে কাঙ্খিত ফলাফল পায়নি জাতীয় পার্টি।’

বোন জামাইকে অবজ্ঞা
এরশাদের ভগ্নিপতি ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান এরশাদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু এখনও কাজ শুরু করেননি। আপনার উচিত বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করা।’

জবাবে এরশাদ বলেন, ‘আমি ভালো করেই জানি, কখন কাজ শুরু করতে হবে।’
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী এক সিনিয়র নেতা প্রোবনিউজকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সাংগঠনিকভাবে কার্যত দুর্বল। এরশাদের আহবানে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিরা অনেকদিন পর সাড়া দিয়েছেন। এতে করে তিনি খুশি এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছেন এরশাদ।’
প্রোব/বিএইচ/পি/রাজনীতি/২৭.০৪.২০১৪

→ ‘আগে জয় বাংলা-পরে জাতীয় পার্টি’

→ ফের প্রশ্নের মুখোমুখী সুনীল ও ববি হাজ্জাজ

২৭ এপ্রিল ২০১৪ | রাজনীতি | ২২:০৪:৫৪ | ১০:২৯:৪৮

রাজনীতি

 >  Last ›