A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

আবারও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় নেপাল | Probe News

CA.jpgআলতাফ পারভেজ, প্রোবনিউজ: মাওবাদীদের নেতৃত্বে বিপ্লবের ১০ বছর হলেও নেপালে আজও গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ সফল হয়নি।
দেশটিতে ইতোমধ্যে সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে দু’বার ‘সাংবিধানিক সভা’র নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু নির্বাচিত সদস্যরা এখনো প্রত্যাশিত সংবিধান দেশবাসীকে উপহার দিতে পারেননি। ফলে দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতায় দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ২ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার নেপালে এক চতুর্থাংশ মানুষই চরম দরিদ্র।
২৪০ বছরের রাজতন্ত্র উচ্ছেদ শেষে গণতান্ত্রিক একটি সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে নেপালে প্রথম দফা সংবিধান সভার নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালে, যাতে মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। চার বছর পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম পারস্পরিক বিরোধের মধ্যদিয়ে ঐ সংবিধান সভা ভেঙ্গে যায়।
২০১৩-এর ১৯ নভেম্বরের সর্বশেষ নির্বাচনে ৬০১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আরেকটি সংবিধান সভা গঠিত হলেও তাতে রাজনৈতিক প্রভাবের সমীকরণ অনেকখানি পাল্টে গেছে। মাওবাদীরা এখন সংবিধান সভায় ৮০ আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। সর্বশেষ নির্বাচন শেষে নেপালী কংগ্রেস ও ‘ইউএমএল’ নামে পরিচিত ইউনাইটেড কমিউনিস্ট পার্টি দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যৌথভাবে সরকার গঠন করেছে। এই উভয়দলই ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত।
নতুন সংবিধান সভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজতন্ত্রের সমর্থক এমপি’র সংখ্যা আগের পার্লামেন্টের চেয়ে বর্তমান পার্লামেন্টে ৪ থেকে ২৪-এ উপনীত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন নির্বাচনী ফলাফলের এইরূপ ওলোট পালটে সংবিধান প্রণয়ন আরও দূরূহ হয়ে উঠবে। যদিও ইতোমধ্যে সংবিধান প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিতে পাঁচটি সাব কমিটি গঠিত হয়েছে। সংবিধান সভার সদস্যরা গত ২৪ জানুয়ারি শপথ নেয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই বলে যাচ্ছেন ‘আগামী এক বছরের মধ্যে’ তারা দেশবাসীকে নতুন সংবিধান তৈরি করে দেখাবেন।
images.jpgতবে সংবিধানে সরকার কাঠামোর ধরন কী হবে সে নিয়ে প্রধান প্রধান দলের মধ্যে মতদ্বৈততা ইতোমধ্যে স্পষ্ট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা ও নেপালী কংগ্রেস পার্লামেন্টারি সরকার পদ্ধতির পক্ষে। অন্যদিকে, মাওবাদীরা বরাবর কেন্দ্রে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির পাশাপাশি পুরো দেশকে নৃতাত্ত্বিক চরিত্র অনুযায়ী ১৩ টি প্রদেশে বিভক্ত করার পক্ষে। কংগ্রেস ও ইউএমএল-এর প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান তৈরি হলে তা অনুমোদনের জন্য দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সংবিধান সভায় তাদের রয়েছে, কিন্তু মাওবাদীদের বৈরিতায় সেক্ষেত্রে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা জিইয়ে থাকবে প্রবলভাবে।
উল্লেখ্য, নেপাল জুড়ে ১০৩টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বাস--নতুন সংবিধানের প্রস্তাবিত শাসন কাঠামোতে সকলেই যারা যোগ্য স্থান খুঁজছে। রাজনৈতিকভাবে মাওবাদীরা এসব জাতিসত্তাকে জাতীয় শাসন কাঠামোতে অংশগ্রহণের সুযোগদানের পক্ষে। তবে ইতোমধ্যে সাবেক এই গেরিলাশক্তি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের একটি অংশ পুষ্প কুমার দাহাল ওরফে প্রচন্ডের নেতৃত্বে অনাস্থা প্রকাশ করে পুরানো রাজনীতিতে ফিরে গেছে। বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে গেরিলা জীবন ছেড়ে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে আসা ৫৮ বছর বয়সী প্রচন্ড একসময় নেপালের স্বাধীন ও সাহসী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হয়ে উঠলেও - ইদানিং তার প্রতি দেশটির অনেকেই হতাশ । যার কারণে সর্বশেষ নির্বাচনে কাঠমান্ডুর একটি আসনে হেরেও গিয়েছিলেন তিনি। যদিও নেপালকে রাজতন্ত্র থেকে সেক্যুলার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে উত্তরণ ঘটাতে প্রচন্ডের ব্যাপক প্রভাব কাজ করেছে বলে ধারণা করা হয়।
প্রচন্ডের জনপ্রিয়তা হ্রাসের সুযোগে কংগ্রেস ও ইউএমএল পার্টি এখন সংবিধান রচনার আগেই দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে নেয়ার পক্ষপাতি। এ প্রক্রিয়ায় তারা মাওবাদীদের গ্রামীণ সমর্থনভিত্তি থেকে উৎখাত করতে পারবে বলে আশা করছে।
উল্লেখ্য, এক সময় গ্রামীণ কৃষিজীবী নেপালীরা মাওবাদীদের অন্ধ সমর্থক হলেও ‘কমরেড প্রচন্ড’ ক্ষমতাসীন থাকাকালে প্রতিশ্রুত ভূমিসংস্কার করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের ভালোবাসার যোগ্য প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই হতাশাকে পুঁজি করে নিজেদের সমর্থক-ভূমি ধরে রাখতে পুরানো মাওবাদী গেরিলা সংগঠকদের অপর এক অংশ প্রচন্ডকে বাদ দিয়ে নতুন করে আবারও রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে শুরু করেছে সম্প্রতি। সংবিধানসভায় মাওবাদী এই ভিন্ন মতালম্বীদের কোন প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও দুরূহ হয়ে উঠেছে। কারণ এই গ্রুপ যদি সম্ভাব্য সংবিধানকে গ্রহণ না করে তা হলেও দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার আপাত কোন ফয়সালা হবে বলে মনে হয় না।


প্রোব/আপা/দক্ষিণএশিয়া/২৫.০৪.২০১৪

২৫ এপ্রিল ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১০:৫৮:৫৫ | ১৭:৩৪:২৮

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›