A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানার শেখ জামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স | Probe News

copy_1 copyfinale.jpg

 

রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানার

 

শেখ জামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স দখলের বুদ্ধিবৃত্তিক পাঁয়তারা: বিশেষজ্ঞ

 

প্রোবনিউজ, ঢাকা: হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে ধানমন্ডি খেলার মাঠের অবৈধ দখলদার, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরী সহযোগিতা দিচ্ছে রাষ্ট্রিয় আরেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। রাষ্ট্রীয় খরচে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণকে মাঠ দখলের বুদ্ধিবৃত্তিক পাঁয়তারা বলে উল্লেখ করেছেন ধানমন্ডি পরিবেশ উন্নয়ন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন। 

জয়েন্ট স্টক সূত্রে জানা গেছে, যৌথ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, পারটেক্স গ্রুপের শওকত আজিজ রাসেল, রূপায়ন গ্রুপের মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান মুকুল ও জসিম আহমেদ, ক্যাপিটাল গ্রুপ অব কোম্পানিস লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী ভূঁইয়া ডিলান, শরীফ আতাউর রহমান সিকিউরিটিস লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক শরিফ আতাউর রহমান, কে. এনায়েত উল্লাহ, মো. শামসুল আলম এবং ওসমান গনি তালুকদার।
এদিকে এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট বিভাগের নথিপত্রে লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে লে. মঞ্জুর কাদেরের নামটি উল্লেখ থাকলেও জয়েন্ট স্টকে রহস্যজনকভাবে তার নাম নেই। সূত্র আরও জানায়, লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের ঠিকানা হিসেবে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৮নং সড়কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সড়কের কত নম্বর হোল্ডিং তা উল্লেখ করা হয়নি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে খেলার মাঠের একটি অংশ অবৈধ ভাবে দখলে রেখেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্র আরো জানায়, গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে ‘লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড ক্রিড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৮নং সড়ক সংলগ্ন ৪ দশমিক ৪৯৮২ একর আয়তনের এই খেলার মাঠটির বড় একটি অংশ জুড়ে দুটি টেনিস কোর্ট, একটি বাস্কেট বল কোর্ট এবং দুটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৭৯ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৪ দশমিক ৯৫ টাকা। যার পুরোটাই বহন করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আর এই অবৈধ দখলদার প্রতিষ্ঠানের নামে রাষ্ট্রীয় খরচে ক্রিড়া কমপ্লেক্স নির্মাণকে জনসাধারণের সম্পদকে কুক্ষিগত করার বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। তিনি বলেন, ‘শেখ জামাল ক্লাবকে মাঠ দিতে হলে বাংলাদেশের আরো অনেক ক্লাবকেই মাঠ দিতে হবে। শেখ জামাল ক্লাবের নামে ক্রিড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পে রাষ্ট্রের প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ হলে অন্যান্য ক্লাবের নামেও খরচ হওয়া উচিত।’
সূত্র আরো জানায়, সবার জন্যে উন্মুক্ত এই মাঠটির জায়গা দখল করে টেনিস কোর্ট, বাস্কেট বল কোর্ট ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট নির্মাণের নকশা তৈরির পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে স্থপতি প্রতিষ্ঠান আর্কভিজ লিমিটেড। পরামর্শক এ প্রতিষ্ঠানের জন্যে বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৮ টাকা। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স ওরিয়েন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। মার্চের ১৯ তারিখে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ দেয়া হয় এবং চলতি বছরের ২৫ জুলাইয়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময়ে রাতের অন্ধকারে স্কেভেটর দিয়ে শুরু হয় মাঠ জুড়ে খনন কাজ। মূল ফটকে রয়েছে তালা। বসানো হয়েছে পাহাড়াদার। বাইরের কাউকেই ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। প্রতি রাতে স্কেভেটরের আঘাতে যখন সবুজ দুর্বায় ঢাকা মাঠ এবড়ো থেবড়ো। মাঠের বুক চিড়ে যখন নির্মাণ হচ্ছিল ইট, পাথর, সিমেন্ট আর রডের প্রাচির, তখন এরর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে নাগরিক, সামাজিক ও পারিবেশবাদী একাধিক সংগঠনসহ ধানমন্ডি এলাকাবাসি। দফায় দফায় তারা আয়োজন করে মানববন্ধন ও সমাবেশ। এরই প্রেক্ষিতে গত ২০শে এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের ঢাকা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) এক চিঠির মাধ্যমে জানান, ‘খেলার মাঠে কোন প্রকার ভবন ও ইমারত নির্মাণ করা হচ্ছে না।’ আর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ‘শুধু কোর্টগুলো নির্মাণের জন্য যতটুকু খোদাই ও ঢালাইয়ের প্রয়োজন সেটুকুই করা হচ্ছে। এর বেশি কিছু নয়।’
তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের এই দু’কর্মকর্তাই প্রোবনিউজকে বলেন, ‘মাঠের মধ্যে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণে এলজিইডি কোন পক্ষ নয়। সরকার ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ চাইলে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হবে। না হলে হবে না।’
এদিকে মাঠটি দখল মুক্ত করতে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট হাইকোর্টে রিট করে। সংগঠন দুটির করা ওই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মাঠটি রক্ষায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দেন। এমনকি ২০১১ সালের ১৫ মার্চ রায়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ধানমন্ডি খেলার মাঠ থেকে সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখারও নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। কিন্তু উচ্চ আদালতের ওই রায়ের তিন বছরের বেশি সময় পর পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাঠটি সর্বসাধারনের জন্যে খুলে দেয়া হয়। এর পরে বিকেল গড়াতেই মাঠে এসে জড়ো হয় স্থানীয় শিশু ও কিশোররা।
ধাপে ধাপে দখল
তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষের মাঠ দখলের এ প্রক্রিয়া নতুন নয়। ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তান গণপূর্ত বিভাগ ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা প্রকল্প হাতে নেয়। ১৯৬৫ সালে মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া ঢাকা সিটি করপোরেশনকে। এরও আগে অর্থাৎ, ১৯৬২ সাল থেকেই মাঠটি দখল করে রেখেছে ধানমন্ডি ক্লাব। সিটি কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি ছাড়াই মাঠের এক অংশ জুড়ে নির্মাণ করেছে ক্লাব অফিস। দখলে রেখেছে মাঠের বড় একটি অংশ। এছাড়াও ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোরবানির সময়ে মাঠে বসিয়েছে পশুর হাট। ২০০৭ সাল থেকে টানা কয়েক বছর বসিয়েছে আমের মৌসুমে ‘আম মেলা’; রমজান মাসে ‘খেঁজুর মেলা’; ‘তাঁতবস্ত্র মেলা’ এবং ফরমালিন মুক্ত মাছের দোকান। ওই সময়ে সাপ্তাহিক প্রোব নিউজ ম্যাগাজিনে এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন ছাপা হলে বন্ধ হয় এসব কাজ। ওই সময়েই ক্লাব কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কাজকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেছিলেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খলিল আহমেদ। তিনি জানান, বাংলাদেশ দ-বিধির ৪৩৪ ধারায় এ ধরনের অপরাধে এক বছরের কারাদন্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


প্রোব/শর/জাতীয়/ ২৪.০৪. ২০১৪

২৪ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ২১:১১:০৮ | ২৩:৩৮:৫৮

জাতীয়

 >  Last ›