A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আরো কাজ করতে হবে- যুক্তরাষ্ট্র | Probe News

US -Bd Garments.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: পোশাক শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও মানসম্পন্ন মজুরি নিশ্চিতের বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে শ্রমিকদের সঙ্গে বাংলাদেশও আর্থিকভাবে লাভবানের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবে বলে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। 

শিল্প ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা হিসেবে রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্ণ হওয়ায় যৌথ বিবৃতিটি দিয়েছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে আমেরিকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং শ্রম বিভাগ।

বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বহুতল ভবন রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন এক হাজার একশ’ শ্রমিক এবং গুরুতর আহত হয়েছিলেন আরো সহস্রাধিক শ্রমিক।

পোশাকশিল্পের ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে বড় দুর্যোগ। এর আগে প্রায় শত বছর আগে আমেরিকায় ট্রায়াঙ্গাল শার্টওয়েস্ট দুর্ঘটনা ঘটেছিল, আর তার শত বছর পরে ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের রাজধানী শহরে ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে তাজরীন কারখানায় অগ্নিকাণ্ড এবং তারপর ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে রানা প্লাজা ধসের মতো দুটো বড় দুর্ঘটনা পর পর ঘটলো।

জীবিকা নির্বাহ এবং পরিবারকে চালানোর জন্য কত শত শ্রমিক যে এখনো কী ভয়াবহ এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হন, তারই একটি তাৎপর্যপূর্ণ নমুনা এই ঘটনা দুটো। এসব দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শোক প্রকাশ করছি আমরা, এবং রানা প্লাজা ধস ও তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আবারো আহ্বান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ সরকার, মালিকপক্ষ এবং বাংলাদেশী পণ্যের ক্রেতাসহ বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল পক্ষের উপরেই একটি অভিন্ন দায় বর্তায়, আর তা হলো শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ এবং নিজেদের এই স্বার্থরক্ষার জন্য তাদের আওয়াজ তোলার অধিকার নিশ্চিত করা।

এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সঠিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে বর্তমানে আমরা কাজ করে চলেছি। গত বছরের জুন মাসে প্রেসিডেন্ট ওবামা বাংলাদেশের জিএসপি (অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত পদ্ধতি) সুবিধা স্থগিত করার পর থেকেই আমরা কর্মপরিকল্পনাটি গ্রহণ করেছিলাম।

বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার এবং কর্মক্ষেত্রে সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সাস্টেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট, জুলাই ২০১৩ অনুসারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় রক্ষা করে চলেছি আমরা।

গত বছর কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ সরকার বেশ অগ্রগতি দেখিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- ১৪০টিরও বেশি শ্রমিক ইউনয়নকে নিবন্ধন করার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার; শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি নেতৃস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে পুনঃনিবন্ধনের অনুমতি দেয়া, যেটির নিবন্ধন এর আগে বাতিল করা হয়েছিল; নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন, কারখানাগুলোতে মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও আইএলও’র সহযোগিতায় দেশটির পোশাক কারখানাগুলোর সমস্যা নিরসনে কাজ করা; নতুন শ্রম পরিদর্শক নিয়োগের কাজ শুরু করা এবং প্রাথমিক নিরাপত্তা পরিদর্শনের কাজ পরিচালনা করা ইত্যাদি।

কিন্তু এখনো অনেক কিছু করা বাকি রয়েছে।

বাংলাদেশের শ্রম আইন এবং দেশটির বিশেষ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) আইন- উভয় আইনের অধীনেই দেশটির শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিদর্শক নিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে এবং বেশ পিছিয়ে আছে। এছাড়াও পরিদর্শনের ফলাফলগুলো একটি সহজলভ্য ডাটাবেজের মাধ্যমে জনসাধারণের হাতের নাগালে এনে দিতে হবে। শ্রমিকরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলেই যে ভীতিপ্রদর্শন এবং প্রতিহিংসার সম্মুখীন হয়, সেক্ষেত্রেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও বাংলাদেশ সরকারকে আরো অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হলে আরো নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ভালো মজুরি নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে শ্রমিকরা লাভবান হবেন এবং বাংলাদেশও উপলব্ধি করতে পারবে যে দেশটি আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হওয়ার ক্ষমতা রাখে।
প্রোব/খোআ/জাতীয় ২৪.০৪.২০১৪

 

২৪ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১২:২১:৪৮ | ১৬:২৯:৪২

জাতীয়

 >  Last ›