A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন নিয়ে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্ব | Probe News

NY Times23.jpgপ্রোবনিউজ, ডেস্ক: ২৪ এপ্রিল ভয়াবহ রানা প্লাজা ভবন ধসের এক বছর পূর্তি। ভবনটি ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নেয় পশ্চিমা বিশ্ব। পাঠানো হয় পরিদর্শক দল। তবে এক বছরে কতটুকু সফলতা পেয়েছে তারা? নাকি নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে কারখানা নিয়ে মূল্যায়নের মূল উদ্দেশ্যটুকুই হারিয়ে ফেলছেন পরিদর্শকরা? আর এগুলো নিয়ে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লড়াই’ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস-এর অনলাইন সংস্করণে।
প্রথম পাতায় বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শুরুতে, ২০০৫ সালে স্পেকট্রাম সোয়েটার ফ্যাক্টরির ভবন ধসে ৬৪ জনের মৃত্যুর কথা স্মরণ করা হয়। আর পরে গত বছরের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১’শ ২৯ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে একে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পোশাক কারখানা দুর্যোগ হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে রানা প্লাজা ধসের কয়েক মাস আগে তাজরীন ফ্যাশনে আগুন লাগার ঘটনায় ১১২ জনের মৃত্যুর কথাটিও।
এর আগে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তা বাড়াতে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি উল্লেখ করে এতে বলা হয়, রানা প্লাজা ঘটনার পর তীব্র জনরোষের মুখে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তা জোরদারে চাপ দিতে থাকে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো। পরে প্রতি মাসে বিভিন্ন কারখানায় মনিটরের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। তবে একসাথে কাজ করার পরিবর্তে ব্র্যান্ডগুলো বিভক্ত হয়ে পড়ে বলে সমালোচনা করা হয় প্রতিবেদনটিতে।
কারখানা পরিদর্শনে বাংলাদেশ অ্যাকর্ড ফায়ার এ- সেফটি নামে কাজ করছে এইচ এ- এম এর মত ইউরোপিয় কয়েকটি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ১৪টি মার্কিন কোম্পানিসহ ১৫০টিরও বেশি সদস্যের একটি দল। আর দ্য অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ সেফটি নামে কাজ করছে ওয়ালমার্ট, গ্যাপসহ ২৬টি মার্কিন এবং কানাডিয় কোম্পানি। তবে কাজের চেয়ে নিজেদের কৃতিত্ব জাহিরে দল দুটো ব্যস্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন অ্যালায়েন্স দলটির দাবি, ইউরোপিয়দের চেয়ে বেশি ভবন পরিদর্শন করেছে তারা। অন্যদিকে অ্যাকর্ড দলের সদস্য ব্র্যান্ডগুলোর দাবি অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনগুলোতে খুব একটা কঠোরতা ছিল না। তবে শ্রমিক সংঘগুলোর সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার মাধ্যমে কাজে অগ্রগতি হয়েছে বলে অ্যাকর্ড সদস্যদের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা বন্ধ করে দেয়ার পর শ্রমিকদের মজুরি দিতে তারা সক্ষম হয়নি বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে অ্যালায়েন্স সদস্যরা।
এদিকে অ্যালায়েন্সের কর্মকা-ে আরেক ধাপ হতাশা যোগ করে কলম্বিয়া, ডিউকসহ ১৫ টি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের কাছে অ্যাকর্ডের কর্মসূচি বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।
তবে এতকিছুর পরও দুটি দলের পরিদর্শন নিয়েই আশার বাণী শুনিয়েছেন কর্মক্ষেত্র বিশেষজ্ঞ দারা ও রোক। তিনি বলেন, অ্যালায়েন্স এবং অ্যাকর্ড-এ দুটি গ্রুপই বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখছে। একে অভ’তপূর্ব ঘটনা বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এদিকে সোমবার নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেস থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যখন পরিদর্শকরা ৫ হাজারেরও বেশি পোশাক কারখানার মধ্যে ২ হাজারটি কারখানা পরিদর্শন করবে তখন সাধারণভাবেই সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকবে বাকি তিন হাজার কারখানা। পশ্চিমা ব্র্যা-গুলোর পক্ষ থেকে প্রায় গোপনে এদের কাজের অর্ডার দিয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিদর্শকরা ভবনের স্তম্ভে ফাটল, আগুন লাগার সময় ব্যবহারের জন্য বাইরে কোন সিঁড়ির ব্যবস্থা না থাকাসহ বেশ কিছু ভয়াবহ সমস্যা পেয়েছেন। পরিদর্শক দলের প্রধান ব্র্যাড লোয়েন বলেন, “যতগুলো কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে তার প্রায় সবগুলোতে আমরা সমস্যা পেয়েছি। আর ৯০ শতাংশ কারকানার গেটগুলোতে রয়েছে তালা বন্ধ রাখার ব্যবস্থা। এমনকি মাঝে মাঝে আমাদের প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে বন্ধ রাখা হয়েছিল অনেক কারখানার গেইট।”
ভবন ধসের ঝুঁকি থেকে চারটি কারখানা সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আরও চারটি কারখানা বন্ধ করতে সরকারি কমিটিকে আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে অনেক বেশি কারখানা পরিদর্শনের পরও অ্যাকর্ড কেন মাত্র একটি কারখানা বন্ধের সুপারিশ করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অ্যালায়েন্স দলের সদস্যরা।
এদিকে অ্যালায়েন্স এর উপর শুধু শুধু দোষ চাপানো হচ্ছে উল্লেখ করে এর ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা আয়ান স্পোল্ডিং বলেন, কাঠামোগত সমস্যার কারণে আরও চারটি কারখানা বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারকে সুপারিশ করেছেন তারা।
মার্চে বন্ধ হয়ে যাওয়া সফটেক্স কারখানার আড়াই হাজারেরও বেশি কর্মীকে অ্যাকর্ড পারিশ্রমিক পরিশোধ করেনি বলেও দায়ী করেছে অ্যালায়েন্স। তাদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের মজুরির অর্ধেক পরিশোধ করা হয় উল্লেখ কওে অ্যালায়েন্স আরও জানায়, অ্যাকর্ডের বন্ধ করে দেয়া কারখানায় মালিকদেরই পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হয়। কারখানার মালিক রেজওয়ান সেলিমের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিকদের কোন মজুরি বাকি রাখেননি তিনি এবং এক্ষেত্রে অ্যাকর্ড থেকে তাঁকে কোন ধরনের সহযোগিতা করা হয়নি।
বাংলাদেশের ৪০০টি কারখানা পরিদর্শন করেছে অ্যালায়েন্স। আর ৩০০টি কারখানা পরিদর্শন করেছে ইউরোপিয় নেতৃত্বাধীন অ্যাকর্ড। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ৬৩০টি বাংলাদেশি কারখানা পরিদর্শনের লক্ষ্য রয়েছে অ্যালায়েন্সের। আর অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেড় হাজার কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে অ্যাকর্ডের।

প্রোব/ফাউ/জাতীয়/২২.০৪.২০১৪

২২ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১৪:১৭:০৪ | ১৯:০১:২৫

জাতীয়

 >  Last ›