A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ভারতে নিষিদ্ধ মাওবাদীদের প্রথম ইশতেহার প্রকাশ | Probe News

india 2.jpgসুতীর্থ গুপ্ত, প্রোবনিউজ, ভারত: নিষিদ্ধ কমিউনিষ্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া-মাওবাদী দলের পক্ষ থেকে যদিও নির্বাচন বয়কটের ডাক দেয়া হয়েছে কিন্তু কৌশল পাল্টে দলের পক্ষ থেকে একটি স্বল্প মেয়াদী ভীষণ ডকুমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এক কথায় এটিকে ইশতেহার হিসেবে অভিহিত করা চলে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র অভয় ওরফে মাল্লোজুলা ভেনুগোপাল রাও স্বাক্ষরিত এই ইশতেহারে জণগণের কাছে বর্তমানে দেশে যে মেকী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে ও মাওবাদীদের প্রতিশ্র“ত প্রকৃত গণতন্ত্রের মধ্যে একটিকে বাছাই করে নেবার আবেদন জানানো হয়েছে।
মাওবাদীরা তাদের ইশতেহারে ভারতের সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান রজনারও প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়েছে। সিপিআই মাওবাদী সংগঠনের উপর থেকে নিষেজ্ঞা প্রত্যাহার করে এটিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেবার দাবি জানানো হয়েছে। বলা হযেছে, তারা কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন নয়, বরং তারা মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং গরীব মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম করছেন।
রাঁচীতে দলের পূর্বাঞ্চলের মুখপাত্র সঙ্কেত চার পাতার এই ইশতেহার প্রকাশ করে বলেছেন, প্রাচীন ভারতেশান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে পঞ্চশীল নীতির ভিত্তিতে সব কিছু পরিচালিত হতো, মাওবাদীরাও সেই পঞ্চশীল নীতির উপর ভিত্তি করে সবকিছু পরিচালনা করবে। ইশতেহারে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অধিকার, চাকুরির নিশ্চয়তা, জমায়েত হওয়া ও প্রতিবাদ জানানোর স্বাধীনতাসহ প্রতিদিনের সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকার সম্বলিত একটি নতুন সংবিধান রচনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইশতেহারে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, নকশালবাড়ি আন্দোলনের সময় থেকে মানুষের মৌলিক ইস্যুগুলির সমাধানের লক্ষ্যে সংগ্রাম করে চলেছে, যাতে প্রকৃত ভ’মি সংস্কার, প্রকৃত গণত›ত্র ও স্বয়ম্ভর উন্নয়নের ভিত্তিতে ভারতের প্রগতি ও সমৃদ্ধি সাধন করা যায় সেজন্য শান্তির পথে লড়াই চালয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। মাওবাদীরা পুরুষতান্ত্রিক আইনি ব্যবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি নারী নির্যাতরকারী ও ধর্ষকদের জন্য ফাঁসির প্রস্তাব করেছে। তবে মাওবাদীরা এই প্রথম নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করে জানিয়েছে, কমিশন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে কাজ করে চলেছে। তবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ফেরত আনার অধিকার দেবার দাবিও জানানো হয়েছে। মাওবাদীরা জানিয়েছে, দেশে এখন মেকী গণতন্ত্র চালু রয়েছে। পূর্বাপর সব সরকারের ভুল অর্থনৈতিক নীতির ফলে সাধারণ মানুষের দুর্গতি বেড়ে চলেছে। গরীব ও ধনীর মধ্যে ব্যবধান বেড়ে চলেছে। ২০১১ সালের অর্জুন সেনগুপ্তের ন্যাশানাল কমিশন ফর এনটারপ্রাইজেস-এর রিপোর্টেও উল্লেখ করে মাওবাদীদের ভিশন দলিলে বলা হয়েছে, দেশের ৮৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ যেখানে দারিদ্রসীমার নীচে এবং প্রতিদিন ২০ রুপি খরচ করার মত অবস্থায় নেই সেখানে শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদরা ফোরবেসের ধনীর তালিকায় নাম তোলার জন্য একে অন্যের হয়ে কাজ করে চলেছে। মাওবাদীদের এই ইশতেহারকে বুজরুকি বলে অভিহিত করেছেন ঝাড়খন্ড বিকাশ মোর্চার প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি। তিনি বলেছেন, মাওবাদীরা যদি প্রকৃতই শান্তি আলোচনায় বিশ্বাসী হবেন- তাহলে কেন তারা হিংসাকে বর্জন করছেন না ? কেনই বা সমর্থন বাড়ানোর জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না? এরান্ডির পুত্র ২০১২ সালে মাওবাদীদের হাতে খুন হয়েছেন। তিনি বলেন, মাওবাদীরা তাদের সমর্থনের ভিত্তি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে ভীত হয়ে পড়েছে। এবারের নির্বাচনী মাওবাদী এলাকায় মানুষ যেভাবে ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে ভোট দিয়েছেন তা থেকেই এটা প্রমাণিত হচ্ছে।
প্রোব/সুগু/দক্ষিণ-এশিয়া/২২.০৪.২০১৪

২২ এপ্রিল ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১১:২৩:২২ | ১২:৫১:৩৯

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›