A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বাংলাদেশ সম্পর্কে বিজেপি নেতাদের ধারাবাহিক উস্কানি | Probe News

BJP Picture2.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সম্পর্কে একের পর এক উস্কানিমূলক মন্তব্য করার পরও বাংলাদেশ সরকার বা বিরোধী দল কেউ কোন প্রতিবাদ বা আপত্তি না করায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিজেপি নেতৃবৃন্দের এরূপ ভূমিকায় ঢাকার গণমাধ্যমও চূড়ান্ত নীরবতা অবলম্বন করে চলেছে।
লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণাকালে ভারতে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রথম উস্কানিমূলক মন্তব্যটি আসে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির তরফ থেকে। ২২ ফেব্রুয়ারি আসামে নির্বাচনী প্রচারণায় এসে মোদি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব হিন্দু অভিবাসী আসবে তাদের ভারতীয় সমাজে জায়গা করে দিতে হবে। কারণ, তারা নির্যাতিত হয়ে আসছে। এদের ভোটাধিকারের বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের আরও নমনীয় হওয়া প্রয়োজন। তিনি এও মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ থেকে ‘হিন্দু নয়’ এমন যারা আসামে যাচ্ছে তাদের অবশ্যই পুশব্যাক করা উচিত। বাংলাদেশ আসামকে হয়রানি করছে বলেও মন্ত্রব্য করেন তিনি।
মোদির এই মন্তব্যের পরই ৩০ মার্চ বিজেপির সভাপতি রাজনাথ আসামের করিমগঞ্জের আরেক জনসভায় বলেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে যারা বাঙলাদেশ থেকে এসেছে সে অবৈধদের খুঁজে বের করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বিশেষ একটি ধর্মের বিপুল মানুষ ভারতে ঢুকে পড়েছে, এটা সবাই জানে এবং ভারতের বিশেষ একটি দল এদের মদদ দিয়ে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ থেকে আসা নির্যাতিত হিন্দুদের পাশে দাড়াচ্ছে না তারা।’
মোদি ও রাজনাথের পর সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি এসেছে গত ১৮ এপ্রিল বিজেপির আরেক গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক সুব্রানিয়াম স্বামীর পক্ষ থেকে। আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে প্রকাশ্য জনসভায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ এখন ভারতে বসবাস করে, এদের বাংলাদেশে যদি ফেরত না নেয় তা হলে তাদের থাকার জায়গা করে দিতে বাংলাদেশ থেকে তার ভূমির এক তৃতীয়াংশ নিয়ে নেয়া উচিত।’ সুব্রানিয়াম বাংলাদেশ থেকে মুসলমানদের ভারতে ক্রমাগত অনুপ্রবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের কারো তরফ থেকে বিজেপি নেতাদের এরূপ ধারাবাহিক উস্কানিমূলক বিষোদাগারের কোন প্রতিবাদ না আসায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এর ফলে বহির্বিশ্বে নীরবে এটা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে যে, বাংলাদেশে হিন্দুরা ব্যাপকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে এবং ভারতে অবস্থানকারী মুসলমানদের বিরাট সংখ্যকই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সেখানে গিয়েছে এবং যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, বিষয়গুলো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের সাথে সম্পর্কিত হলেও রাজনৈতিক দলগুলো কথা বলছে না, কারণ এরকম একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ভারতের সাহায্য ছাড়া তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই তারা ভারতকে চটাতে চাইছে না। দিলারা চৌধুরী ভারতের জাতীয় নেতৃবৃন্দের এরূপ বক্তব্যকে সুপরিকল্পিত বলে উল্লেখ করে বলেন, তারা একটা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থেকে এসব বলছে। ভারত সাময়িকভাবে, চটজলদি কিছু বলে না। আজকে প্রতিবাদ না করার কারণে এর ভবিষ্যত তাৎপর্য হবে ভয়াবহ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক জেনারেল (অব.) মুনীরুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ভারতের যে দলটি ক্ষমতায় আসবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে তার নেতার কাছ থেকে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এরকম অভিযোগ গুরুতর এবং সার্বভৌমত্বের জন্য অবশ্যই বিপদজনক। বিজেপি নেতাদের বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ জায়গা দাবি করা সরাসরি বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্ব লংঘন করছে। অথচ বাংলাদেশের কেউ এর প্রতিবাদ করছে না। যা বিস্ময়কর। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো বক্তব্য থাকা উচিত ছিল। ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত ছিল।
প্রোব/জাতীয়/আপা/পি/২০.০৪.২০১৪

 

২১ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১০:০৪:৪৬ | ১৫:১৯:৫৮

জাতীয়

 >  Last ›