A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ঢাকার নিখোঁজ শিলালিপির খোঁজে | Probe News

SHILALIPY1.jpgএনামুল হক, প্রোবনিউজ: কী ভাবতো আমাদের পূর্বপুরুষ আর পূর্বনারীরা? কেমন ছিলো তাদের বিরহ-আবেগ-ভালোবাসা-রাগ-অভিমানের পরিসর? কেমন ছিলো সেই সময়ের সমাজ? আমাদের পূর্ব প্রজন্মের মানুষের এইসব চিন্তা, দর্শন, সংস্কৃতি আর মানসিক অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত শিলালিপিতে। সেকারণেই ‘যে সকল শিলালিপির অস্তিত্ব বর্তমানে রয়েছে, কেবল সেগুলো নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিখোঁজ শিলালিপির খোঁজ নেয়া প্রয়োজন’- এমন উপলব্ধি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু তরুণ শিক্ষার্থী শিলালিপি অনুসন্ধান, জরিপ ও প্রকাশের কাজ শুরু করে। শিলালিপিকে ঘিরে রয়েছে তাদের আগ্রহ আর অনুসন্ধানী মানসিকতা।
প্রাচীন ঢাকার বিভিন্ন নিখোঁজ শিলালিপি অনুসন্ধানের কাজ করছে স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটি। এরইমধ্যে সংগঠনটি ‘ঢাকায় স্থাপত্য’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ বছরের অনুসন্ধানের বিষয় সম্পর্কে মাঠ কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রাচীন ঢাকার স্থাপত্য অনুসন্ধান নিয়ে কাজ করছেন তারা। ‘ঢাকায় স্থাপত্যে এশীয় ভাষার শিলালিপি: প্রাচীনকাল থেকে কোম্পানি আমল’, ‘ ঢাকায় স্থাপত্যে এশীয় ভাষার শিলালিপি: ব্রিটিশ আমল’, ‘ঢাকায় স্থাপত্যে ইউরোপিয় ভাষার শিলালিপি: ব্রিটিশ আমল’ এর প্রতিবেদন এ বছরের মধ্যেই প্রকাশ করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। প্রাচীনকাল থেকে মুঘল আমলের ঢাকাই স্থাপত্যের চিত্রকর্মও রয়েছে তাদের হাতে। ঢাকার স্থাপত্য আলোকচিত্রে প্রকাশ পাচ্ছে প্রাচীনকাল থেকে মুঘল আমলের শিলালিপি। আরো থাকছে প্রাচীনকাল থেকে মুঘল আমল পর্যন্ত সময়ে ঢাকায় স্থাপত্যের নকশা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটি ২০০৮ সালে প্রাচীন শিলালিপিবিষয়ক অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও প্রকাশের কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। কমিটির সদস্যরা পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার বিভিন্ন মহল্লার মসজিদ, মাজার, মন্দির, গির্জা, আখড়া ও কবরস্থানে গিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বিভিন্ন ভাষা থেকে প্রাপ্ত শিলালিপির পাঠোদ্ধার করে অনুবাদ, বাংলা অর্থ এবং তৎকালীন সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে আনছেন গবেষকরা। যাতে করে প্রাপ্ত শিলালিপি মানুষের আগ্রহের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়।
জানা গেছে,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা, ইতিহাস, আরবি, ফারসি, ইসলামিক শিক্ষা, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষকসহ আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী ধারার গবেষক, শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, মসজিদের ইমাম, চার্চের যাজক, মাদ্রাসার শিক্ষক সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কাজ করছেন। অন্যদিকে, আগ্রহী ও অনুসন্ধানী মাঠকর্মীরাও কাজ করছে। যাদের অধিকাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী।
এ পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক শিলালিপি তারা খুঁজে পেয়েছেন। গত বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচীনকাল থেকে মুঘল আমল অর্থাৎ ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত ঢাকায় পাওয়া শতাধিক শিলালিপির আলোকচিত্র প্রদর্শন করেছে। যেখানে ২৩টির বেশি শিলালিপি তারা নতুনভাবে প্রকাশ করেছেন। প্রাপ্ত শিলালিপির মধ্যে ১৮টি শিলালিপি ইতিমধ্যে বিভিন্ন গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। দুইশতাধিক শিলালিপির সন্ধান এর আগে কেউ জানতো না। মুখে মুখে জানা থাকলেও সংগ্রহের কাজ কেউ করেনি। স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির মাঠকর্মী তরুণ সরকার বলেছেন, ‘ঢাকার বিভিন্ন সময়ের বেশ কিছু শিলালিপির সন্ধান প্রথমবারের মতো আমরাই করেছি। বর্তমানে বেশ কিছু দুলর্ভ শিলালিপির সূত্র এখান থেকেই নিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন। আমরা পাণ্ডুলিপি আকারে শতাধিক শিলালিপির প্রকাশনার কাজ হাতে নিয়েছি। আশা করছি চলতি বছরেই প্রদর্শন করতে পারবো।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শাহনেওয়াজ প্রোব নিউজকে বলেন, সুলতানি ও মুঘল যুগের ইতিহাসের যতোটা আমরা পেয়েছি, তার প্রায় সবটাই রাজনৈতিক ইতিহাস। এতে রাজনৈতিক ক্ষমতাশালীদের ভাষ্যই লিপিবদ্ধ হয়েছে। অধ্যাপক শাওনেওয়াজ মন্তব্য করেন; “যদি সত্যিই মুঘল ও সুলতানি আমলের শিলালিপি খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়, তাহলে সেটা খুবই আশাব্যঞ্জক এক ঘটনা হবে।” তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে ঐ সময়ের সত্যিকারের জন-ইতিহাসের খোঁজ মিলতে পারে।
স্থাপত্য বিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া বলেন, ‘শিলালিপিগুলোর পাঠোদ্দার, উচ্চরণ ও অনুবাদের কাজ করছি। এরই মধ্যে আমরা ২৩টি নিখোঁজ শিলালিপির প্রকাশ করেছি। এশীয় ভাষার শিলালিপি নিয়ে অনুসন্ধানের কাজও চলছে।’
‘ঢাকায় স্থাপত্য’ গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘শিলালিপি অনুসন্ধান, প্রদশনীর আয়োজন ও পাণ্ডুলিপি তৈরি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে কাজটি সেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত হচ্ছে। এটা তাদের ইতিহাস সচেতনতারই অংশ। এরমধ্য দিয়ে তারা নতুন প্রজন্মকে দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাস জানার প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যবিদ্যা বিষয়ে কোন বিভাগ নেই। শিক্ষার্থীদের শিলালিপি অনুসন্ধানকে কোন বিভাগে অধীনে আনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজকে আগ্রহের সঙ্গে দেখছি। এজন্যই শিলালিপি অনুসন্ধানকে অনুপ্রাণিত করেছি। গ্রামীণ স্থাপত্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা কোর্স চালু করার পরিকল্পনা আছে। এখনও বিষয়টা নিয়ে কিছু বলতে পারছি না।’
প্রোব/এহ/পি/ জাতীয় ২০.০৪.২০১৪

২০ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১২:৪৫:২৩ | ১৫:১৯:৫৮

জাতীয়

 >  Last ›