A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

পাসপোর্ট করার অধিকার না পেয়ে উর্দুভাষী ক্যাম্পগুলোতে ক্ষোভ ও উত্তেজনা | Probe News

Biharee2.jpgআলতাফ পারভেজ, প্রোবনিউজ: দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দুভাষী নাগরিকদের পাসপোর্ট করতে না দেয়ায় তাদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়ছে। জন্মনিবন্ধন পত্র, নাগরিকত্বের সনদ, নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত পরিচয়পত্র থাকার পরও তারা পাসপোর্ট করতে যেয়ে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, দেশজুড়ে ১৩টি জেলায় প্রায় তিন লাখ উর্দুভাষী নাগরিক রয়েছেন। এরা অধিকাংশই ১১৬টি ক্যাম্পে বসবাস করছেন। ২০০৮ সালের ১৬ মে উচ্চ আদালতের এক রায়ে ক্যাম্পে বসবাসকারী এই উর্দুভাষীদের ভোটাধিকারসহ সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা প্রদানের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। ঐ রায়ের পর প্রায় সকল উর্দুভাষী নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত পরিচয়পত্র গ্রহণ করে। দেশের অন্যান্য নাগরিকদের এই পরিচয়পত্র এবং স্থায়ী আবাসস্থল থেকে পাসপোর্ট দেয়া হলেও উর্দুবাসীদের ক্যাম্পে বসবাসের পরিচয় পাওয়া মাত্র সরকারের বিশেষ বিভাগের কর্মীরা পাসপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি তুলছেনÑযদিও সেই আপত্তির পক্ষে কোন সরকারি নির্দেশনা দেখাতে পারছেন না তারা।

ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খুবই মানবেতর পরিবেশে বসবাসকারী ক্যাম্পবাসীদের প্রায় ৬০ ভাগই ৩০-এর কম বয়সী। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় নাগরিকত্বের অধিকার ও নিয়মিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পরও পাসপোর্ট করার অধিকার না পেয়ে ক্যাম্পবাসী তরুণ সমাজ খুবই ক্ষুব্ধ। ক্যাম্পগুলোর পরিবেশ নিয়েও তারা প্রতিবাদী। প্রায় সর্বত্র আশে-পাশের বাঙালি সমাজ এই ক্যাম্পগুলোকে ‘বিহারি ক্যাম্প’ হিসেবে অভিহিত করে থাকে এবং নিরব অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে সেগুলোকে দেখে থাকে। বাঙ্গালিদের তরফ থেকে ‘মুহাজির’ ‘নন-বেঙ্গলি’ ‘রিফুইজি’ ‘মাড়–য়া’ ইত্যাদি বহু নামে ডাকা হয় ক্যাম্প-শরণার্থীদের। এসব সম্বোধনের অধিকাংশই ঘৃণাসূচক। যে ঘৃণার মুখোমুখী হতে হয় ক্যাম্পবাসী শিশুদের আশেপাশের স্কুলেও। একসময় হতোদ্যম হয়ে শিক্ষার পাঠ ছেড়ে দেয় ঐ শিশুরা। ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাবে উর্দুভাষীরা অফিস-আদালতে উচ্চতর পদে কোন কাজও পাচ্ছে না।

মুক্তিযুদ্ধের পরপরই মুক্তিযোদ্ধাদের রোষানল থেকে নিরাপদ করতে সাময়িক সময়ের জন্য শরণার্থী হিসেবে প্রায় পাঁচ লাখ উর্দুভাষীর জন্য জেনেভাস্থ আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংস্থার উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যেসব ক্যাম্প তৈরি হয়েছিল শরণার্থীরা এখনো সেসব ক্যাম্পেই থাকছেন। প্রায় দুই লাখ শরণার্থী ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপায়ে পাকিস্তান চলে যেতে সম্ভব হলেও গত তিন দশক ধরে এরূপ প্রত্যাবাসন বন্ধ থাকায় বাকি ক্যাম্পবাসীরা বাংলাদেশেই স্থায়ী হয়ে গিয়েছেন। চার দশকে এসব শরণার্থী পরিবারের লোকসংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও ৮ ফুট বাই ৮ ফুটের আবাসস্থলের আয়তন আর বাড়াতে পারেননি তারা। ফলে এক অবিশ্বাস্য অমানবিক পরিবেশে আজকের উর্দুভাষী শিশুদের বাস। একই কক্ষে পিতা-মাতার পাশেই ঘুমাতে হচ্ছে ছেলে ও ছেলের বৌকে। কখনো কখনো মেয়ে ও মেয়ের জামাইকেও।

মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে যেয়ে দেখা গেছে, ৪০.১১ বিঘার উপর ৫ হাজার ৫০০ পরিবার থাকছে। বিস্ময়কর ঘনত্ব। এই বিশাল সংখ্যার শরণার্থীরা প্রতিদিন যে ময়লা পয়দা করে সেটাও সিটি কর্পোরেশন অপসারণ করে না।

কয়েকজন ক্যাম্পবাসী জানালেন ভোটার আইডি কার্ড দেয়া হলেও সেই কার্ড দিয়ে আশেপাশের ‘বাঙ্গালি সমাজ’ যেসব নাগরিক সুবিধার দাবি করতে পারেন ক্যাম্পবাসী তা পারে না। বলা হয়, ‘সরকারি অনুমোদন’ নেই। দেশের বহু নির্বাচনী এলাকায় বিহারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক এখন। কিন্তু জাতীয় সংসদে তাদের ভোটে নির্বাচিত কোনো ‘জনপ্রতিনিধি’ কখনো ক্যাম্প জীবনের দুর্দশা নিয়ে কথা বলেছেন বলে শোনা যায় না।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের মার্চে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার ক্যাম্পগুলো ভেঙ্গে বিহারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৪৫টি সু-উচ্চ ভবন নির্মাণ করা হবে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগ সম্পর্কে এর পর থেকে আর সামান্যতম অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানা যায় না।

অন্যদিকে, ক্যাম্পে বসবাস করলেও ২০০৩ সাল থেকে এই জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত রেশন ব্যবস্থাও বাতিল করা হয়েছে।
প্রোব/আপা/পি/জাতীয/২০.০৪.২০১৪

 

 

২০ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১১:৩১:২২ | ১৯:৩৪:৩৪

জাতীয়

 >  Last ›