A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মার্কেজ: ল্যাটিন যাদুবাস্তবতার মহানায়ক | Probe News

profile-3.jpgবাধন অধিকারী, প্রোবনিউজ: গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। স্পেনীয় ভাষায় তাঁর পূরো নাম Gabriel José de la Concordia García Márquez. তবে গাবো নামেই বেশি পরিচিত তিনি। জন্ম ১৯২৭ সালের ৬ই মার্চ কলম্বিয়ায়। তবে জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি বসবাস করেছেন মেক্সিকো এবং ইউরোপে। 

শুরুতে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতা। ১৯৫০ সালে আইন পড়া বন্ধ করে এল এস্পেক্তাদোর সংবাদপত্রে যোগ দেন তিনি। পরে বারানকিইয়া (Barranquilla) শহরের এল এরাল্দো (El Heraldo) পত্রিকায় প্রতিবেদক এবং কার্তাহেনা (Cartagena) শহরের এল উনিবের্সাল (El Universal) পত্রিকায় সম্পাদকের কাজ করেন। এই সময়েই তিনি অপ্রচলিত লেখক এবং সাংবাদিকদের দল হিসেবে পরিচিত বারানকিইয়া গ্রুপে যোগ দেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই তিনি তাঁর পরবর্তী সাহিত্যজীবনের অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

profile-1.jpgতাঁর প্রথম ছোটগল্প প্রকাশিত হয় লা তের্সেরা রেসিগ্নাসিওন এল এসপেক্তাদোর পত্রিকায়।মার্কেজের প্রথম বড় কাজ ছিল “দ্য স্টোরি অফ এ শিপরেক্ড সেইলর” (Relato de un náufrago রেলাতো দে উন্ নাউফ্রাগো)। ১৯৫৫ সালে পত্রিকার জন্য ধারাবাহিক হিসেবে এটি রচনা করেন মার্কেজ। একটি সত্য ঘটনাকে কল্পবাস্তবতার রূপ দিয়ে লেখা এ বইয়ে ফুটে ওঠে কলম্বিয়ার নৌবাহিনীর একটি দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজের কাহিনী; যা চোরাচালানির পণ্যের অতিরিক্ত ভারে ডুবে গিয়েছিল। বইটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়, কেননা সরকারি বিবরণীতে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ঝড়ের কথা বলা হয়েছিল এবং জীবিত নাবিকদের বীরের মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। এর ফলশ্রুতিতেই মার্কেসের বিদেশী সংবাদদাতা জীবন শুরু হয়, কেননা দেশে তখন তিনি জেনারেল গুস্তাবো রোহাস পিনিয়ার (Gustavo Rojas Pinilla) চক্ষুশূল হয়ে গিয়েছিলেন। এই সিরিজটি পরবর্তীকালে একটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয় এবং অনেকে এটিকে উপন্যাস হিসেবেই গ্রহণ করেন।

কল্পকাহিনী কিংবা বাস্তবধর্মী; দুই পরস্পরবিরোধী বাস্তবতাকে একখানে করতে সক্ষম হয়েছিলেন মার্কেজ। একটি প্রতিশোধপরায়ণ খুনের ঘটনা অবলম্বনে রচিত “ক্রোনিকা দে উনা মুয়ের্তে আনুন্সিয়াদা” (Crónica de una muerte anunciada, ১৯৮১) এবং “এল আমোর এন লোস তিয়েম্পোস দেল কোলেরা" (El amor en los tiempos del cólera, ১৯৮৫) গল্পে মার্কেজ বর্ণনা করেছেন তাঁর অভিভাবকের আদালত জীবনের কাহিনী। এই দুটি কাজ ছাড়াও তার অনেক কাজই “গাব্রিয়েল গার্সিয়ার বিশ্বে” সংঘটিত হয় যেখানে চরিত্র, স্থান এবং ঘটনাসমূহ বারবার বিভিন্ন বইয়ে পুনর্ঘটিত হতে দেখা যায়।

profile-4.jpgতাঁর সবচে ব্যবসাসফল উপন্যাস "নিঃসঙ্গতার একশ বছর" (Cien años de soledad সিয়েন আনিওস দে সোলেদাদ) সারা ফেলে সারা বিশ্বে। বিক্রি হয় ১০ মিলিয়নেরও বেশি কপি। এতে বুয়েনদিয়া পরিবারের বেশ কিছু প্রজন্মের কাহিনী চিত্রিত হয় যাদের বাস দক্ষিণ আমেরিকার কল্পিত গ্রাম মাকোন্দোতে। এই বইটির জন্য তিনি ১৯৭২ সালে রোমুলো গ্যালাওস পুরস্কার জিতে নেন। আর ছোটগল্প আর উপন্যাসকে ভিত্তি করে ১৯৮২ সালে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় তাঁকে।

১৯৯৯ সালে তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়ে।মার্কেজের মধ্যে তৈরী হয় স্মৃতিকথা লেখার অনুপ্রেরণা। ২০০২ সালে তাঁর তিন খণ্ডের আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় যা স্পেনীয় ভাষাভাষীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বেস্টসেলারে পরিণত হয়। ২০০৩ এর নভেম্বরে প্রকাশিত হয় আরেকটি বেস্টসেলার; এডিথ গ্রসম্যানের ইংরেজি অনুবাদ “লিভিং টু টেল দ্য টেল” । ২০০৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বোগোতা দৈনিক এল তিয়েমপো মার্কেসের একটি নতুন উপন্যাসের কথা ঘোষণা করে, যার নাম মেমোইরা দি মিস পুতাস ত্রিসতেস। প্রেমের এই উপন্যাসটি অক্টোবরে প্রকাশিত হয় এবং এর প্রথম সংস্করণের দশ লক্ষ কপি নিঃশেষিত হয়ে যায়। তবে আত্মজীবনীর পরের দুই খণ্ড আর লিখে যেতে পারেননি মার্কেজ।

Lead__Inner.jpgজীবনের শেষ দুই যুগ ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে কমিয়ে দেন লেখালেখি। জনসংযোগ ও ভ্রমণ হয়ে পড়ে সীমিত। ২০১২'র জুলাই মাসে আক্রান্ত হন স্মৃতিহীনতায়।
বিশ্বখ্যাত এই কলম্বিয়ান ঔপন্যাসিক বিংশ শতাব্দীর শেষার্দ্ধের সবচে আলোচিত এবং সবচে প্রভাবশালী লেখক হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলেন। সাহিত্যবিশারদদের মতে তিনি হোর্হে লুইস বোর্হেস (Jorge Luis Borges) এবং হুলিও কোর্তাসারের (Julio Cortázar) সাথে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দক্ষিণ আমেরিকান কথাসাহিত্যিক। তিনি একই সঙ্গে জনপ্রিয় এবং মহৎ লেখক হিসেবে চার্লস ডিকেন্স, লেভ তলস্তয় ও আর্নেস্ট হেমিংওয়ের সঙ্গে তাঁর নাম এক কাতারে উচ্চারিত হতো।

কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে প্রবাদপ্রতীম বন্ধুত্ব ছিলো মার্কেজের। চিন্তাচেতনায় বিরুদ্ধবাদী এই লেখককে ল্যাতিন আমেরিকার বিপ্লবী রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক মনে করা হতো, তবে কখনও এর সাপেক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার দিতে গিয়ে সুইডিশ একাডেমী মন্তব্য করে: তাঁর প্রতিটি নতুন গ্রন্থের প্রকাশনা গোটা বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

এই এপ্রিলের ১৭ তারিখে মার্কেজের মৃত্যুও তাই কাঁদিয়ে তোলে গোটা বিশ্বকে। পৃথিবীর সমস্ত সাহিত্যপ্রেমীর কান্না যেন বাস্প হয়ে উড়ে যেতে থাকে ল্যাটিন আমেরিকার আকাশে-বাতাসে। একদিন ঠিক বৃষ্টি হবে! হবে কোনো এক যাদুবাস্তবতার গল্প। হয়তো বৃষ্টির জল নয়, আকাশ থেকে ঝরতে থাকবে মার্কেজের লেখনি!
প্রোব/বান/আন্তর্জাতিক ১৮.০৪.২০১৪

১৮ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১৯:০৩:৩৭ | ১২:৪৩:৩০

জাতীয়

 >  Last ›