A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মার্কেজ এবং যাদুবাস্তবতা | Probe News

image_370_69629.jpg‘কোনো মৃত্যুই থামানো যায় না, যাবেও না। গাব্রিয়েল মার্কেজের মৃত্যুও সেই অর্থে অপ্রত্যাশিত নয়, শারীরিক মৃত্যু। এটি মেনে নিতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো উপায়ও নেই। তবে তাঁর মৃত্যু সাহিত্যের অনেক বড় ক্ষতি করে গেল। এ ঘটনার মাধ্যমে সৃষ্টির জাদুকরকে আমরা হারালাম।’ বাংলাদেশের গল্পে যাদুবাস্তবতার সর্বত্তোম প্রয়োগ যার হাত ধরে; উপমহাদেশখ্যাত সেই কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক প্রোবনিউজকে এমনটাই বলছিলেন। প্রোবনিউজের জন্য তিনি স্মরণ করেছেন যাদুবাস্তবতার মার্কেজকে।
......................
যাদুবাস্তবতার মতো এখন নানা তত্ত্ব চলছে। এই তত্ত্বগুলো দিয়ে কিন্তু সাহিত্যের বিচার করা কঠিন। যাদুবাস্তবতা হলো স্বপ্ন-বাস্তব। একধরণের বাস্তবকে একটি স্বপ্নে পরিণত করা। চোখের সামনে দৈনন্দিন যে বাস্তব, মানে বাড়ি থেকে বের হলে সারাদিনে কিছু না কিছু তো দেখা যায়। শুনতে পাওয়া কিংবা কেউ কথা বলছে, কেউ হাসছে, কেউ শুনছে, কেউবা ঝগড়া করছে। মোট কথা এগুলোকে আমরা সাধারণত বাস্তবতা বলে থাকি। কিন্তু এই বিষয়গুলোতো সব সময় আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু অনুভূতি দেয় না। এই বাস্তবকে অবলম্বন করে সাহিত্যে অন্য ধরণের এক বাস্তবতা তৈরি করা হলো যাদুবাস্তবতা। এতে যে বাস্তবতাকে স্বাভাবিক মনে হয়েছিলো তাকে আবার অস্বাভাবিক বলে মনে হবে।
যাদুবাস্তবতার ব্যবহার মোটামুটি সব সাহিত্যেই আছে। তবে মার্কেজের ধরণটা হচ্ছে পাঠক পরো বিষয়টি পড়ার পরে সম্ভব-অসম্ভব নানান রকমের জিনিস আসবে। মার্কেজের গল্পের ঘটনাগুলো দেখলে বুঝা যায় যে বিষয় বা ঘটনাগুলো ঘটার কথা নয়, সেগুলোও ঘটছে। যেমন, চাদরের ওপর দিয়ে কেন্যা-কুমারী ভেসে চলছে।
profile-5.jpgতার মানে যাদুবাস্তবতা হলো বাস্তবতাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা যে, বাস্তবটা সরাসরি দৈনন্দিন বাস্তবতা মনে না হয়ে একেবারেই ভিন্ন রকমের একটি পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে আমাদের সামনে আসে। সেই দিক থেকে বলতে গেলে, মোটামুটি অধিকাংশ সাহিত্যিকই বাস্তবকে সামনে আঁকেন এবং সেই বাস্তবের চেহারাটা সামনে দেখা যায়। সেটা এক অর্থে পাল্টে ফেলেন। সেই পাল্টানোটা… সবাই করে থাকেন তবে উনি (মার্কেজ) এমনভাবে করে থাকেন, যেন স্টেজের ওপর একজন যাদুকর এমনভাবে যাদু করছেন। তা থেকে যেন অন্য রকমের একটি বাস্তবতা বেরিয়ে আসে।
মার্কেজ বেশ ভালো ভাবেই গল্প বলছেন। বেশ এগিয়ে চলছে। তবে মার্কেজ কথায়, আমিতো যাদুবাস্তবতা বুঝি না এবং কিছু বানিয়েও লিখি না । দিদিমা যে কথাগুলো বা গল্প বলতেন সেই ঢং-টাকে বেছে নিয়ে আমি সাহিত্যে কাজে লাগিয়েছি।
যেমন, আমারা ছোটবেলায় অনেক গল্পশুনেছি মা কিংবা নানী-দাদিদের কাছ থেকে। যা আমরা বিশ্বাসও করেছি, এমনকি এগুলো শুনতে শুনতে একসময় আমরা ঘুমিয়ে পড়েছি। মূলত সেই বিষয়কে কাজে লাগিয়েছেন মার্কেজ। শুধু তিনিই নয়, এ ধারার আরো অনেকেই যাদু বাস্তবতাকে ব্যবহার করেছেন।
আমার মতে তত্ত্ব পড়ে বোঝা আর যাদুবাস্তবতা একই জিনিস নয়। এগুলো পড়ে লিখা হয় না। মুলত এটির লেখকের নিজস্ব বিষয়। তবে এটির মোহ পড়লে লিখা নষ্ট হয়ে যাবে। যদি কেউ পড়ে তবে সে নিজের অপঘাত ঘটাবে।
টেলিফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারের অনুলিখন।
প্রোব/খোআ/জাতীয়/১৮.০৪.২০১৪

১৮ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১৮:৫১:২১ | ১৭:৩৬:০৬

জাতীয়

 >  Last ›