A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

৩৫ ঘণ্টা পর রিজওয়ানার স্বামী আবু বকর উদ্ধার | Probe News

Abu Barar + Rizwana.jpg

প্রোবনিউজ, ঢাকা: অপহরণের ৩৫ ঘণ্টা পর ফিরে এসেছেন আবু বকর সিদ্দিক। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকায় তাঁকে নামিয়ে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা। এ সময় তাঁর চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আবু বকর সিদ্দিককে নারায়ণগঞ্জ আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আবু বকর সিদ্দিক সেন্ট্রাল রোডের বাসায়ই আছেন। বাসার সামনে পুলিশের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ধানমন্ডি থানায় আবু বকর সাংবাদিকদের বলেন, তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর একটি বাড়িতে নেয়া হয়। তাঁর চোখ সার্বক্ষণিক বাঁধা ছিল। ধরে নেয়ার সময় কিল-ঘুষি ছাড়া তাঁকে আর কোনো নির্যাতন করা হয়নি। ধানমন্ডি থানায় এ সময় তার স্ত্রী পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা)পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
আবু বকর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়ার সময় পকেটে ৩০০ টাকা দিয়ে দেয় অপহরণকারীরা। তিনি সেন্ট্রাল রোডের বাসায় যাওয়ার জন্য প্রথমে একটি রিকশায় উঠে কাজীপাড়া পর্যন্ত আসেন। এরপর একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা পান। অটোরিকশার চালক হাফিজুর রহমান তাঁকে সেন্ট্রাল রোডের বাসায় নিয়ে যেতে রাজি হন।
সিএনজি চালক হাফিজুর জানিয়েছেন, লোকটি এসে তাকে বলেন, তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। এরপর তিনি তাঁকে নিয়ে রওনা দেন। পথে কলাবাগান এলাকায় পুলিশ তাদের আটকায়।
কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক বাবুল রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি তল্লাশি চৌকি অটোরিকশাটিকে আটক করে। এ সময় ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অশোক কুমার চৌহান পুরো বিষয়টি জেনে আবু বকরকে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবর দেন।
অশোক চৌহান বলেন, তিনি এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলে, লোকটি জানান তার নাম আবু বকর সিদ্দিক। তিনি রিজওয়ানা হাসানের স্বামী, নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহৃত হয়েছিলেন। এ সময় কিছুটা কাপছিলেন ও কাদছিলেন আবু বকর। এরপর অশোক চৌহান তার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে ফোন করেন। ওই কর্মকর্তা এক মিনিটের মধ্যে রিজওয়ানার নম্বর দেন অশোককে। ওই নম্বরে ফোন করে অশোক ফোনটি ধরিয়ে দেন আবু বকরকে। কথা বলতে বলতেই হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন আবু বকর। এরপর তাকে ধানমন্ডি থানায় আনা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বজন-বন্ধু, গণমাধ্যমের কর্মীদের ভিড় জমে যায় থানায়। তখন রাত সোয়া একটা।
রিজওয়ানা সাংবাদিকদের বলেন, ধরে নিয়ে যাওয়ার পর এক সেকেন্ডের জন্য চোখ খুলে দেয়া হয়নি। কিন্তু কেন তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো, তা এখনও অজানা গেছে। তারা ‘মোটিভ ক্লিয়ার’ করেনি। অপহরণকারীরা নিজেরা নিজেরা টাকার কথা বলছিল। তবে কেউ টাকা চায়নি। এমনকি তার কাছে পরিবারের নম্বরও চায়নি।
রিজওয়ানা বলেন, ‘টাকার জন্য এই অপহরণ করা হয়েছে বলে আমি প্রাথমিকভাবে মনে করছি না। প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন,‘গণমাধ্যমের চাপ ছিল। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজে নির্দেশনা দিয়ে পুরো বিষয়টি তদারকি করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্ৎরতাও ছিল অনেক বেশি।
কারা এটা করেছে? জানতে চাইলে রিজওয়ানা বলেন, ‘আধা ঘণ্টার মধ্যে এত কিছু জানতে পারা যায় না। তবে অপহরণকারীরা যে অপেশাদার নয়, সেটা আমরা বুঝতে পারছি।’ রাত সোয়া তিনটার দিকে থানা থেকে বাসায় যান আবু বকর।
ঘটনা শুনে থানায় ছুটে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
আবু বকর সিদ্দিক গত বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইগড় থেকে অপহৃত হন। এরপর রিজওয়ানা হাসান ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘পেশাগত কারণে আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করে আসছি, যা অনেকের অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করেছে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এসব মহল বিভিন্ন সময়ে আমার বিরুদ্ধে প্রচারমাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে এবং বিভিন্নভাবে আমাকে আমার কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। আমার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে।’
তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অপহরণকারীরা মাইক্রোবাস দিয়ে আবু বকরকে বহনকারী গাড়িটির পেছনে ধাক্কা দেয়। চালক মো. রিপন গাড়ির কোনো ক্ষতি হলো কি না, দেখতে নামলে তাঁর ঘাড়ে পিস্তল দিয়ে আঘাত করে প্রায় অচেতন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। রিপনের চোখে পেপার স্প্রে (মরিচের মতো ঝাঁজালো এক ধরনের রাসায়নিক) ছোড়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। অপহরণকারীরা আবু বকরের মুঠোফোন দুটিও নেয়নি। আর পুরো ঘটনাটি তারা ঘটায় এক মিনিটের মধ্যে। দক্ষ ও পেশাদারদের পক্ষেই এ রকম সম্ভব বলে পুলিশ বলছে।
আবু বকরকে অপহরণের প্রত্যক্ষদর্শী মোটর মেকানিক আবুল কালাম বলেন, তিনি একটি গাড়ি মেরামতের পর তা পরীক্ষামূলক চালানোর জন্য বের হন। এ সময় তিনি লাল রঙের কার থেকে একজনকে মাইক্রোবাসে ধরে নিয়ে যেতে দেখেন। ওই রাস্তাটিতে যানবাহনের চাপ বেশি। অল্প সময়ের মধ্যেই আরও কয়েকটি গাড়ি সেখানে দাঁড়ায়। পরে তিনি ওই গাড়ির পিছু নিয়ে চিটাগাং রোড পর্যন্ত যান। গিয়ে দেখেন, গাড়িটি বাঁ দিকে ঘুরে ঢাকার দিকে গেছে। গাড়ির নম্বর প্লেটে শুধু চট্ট মেট্রো লেখাটি তিনি দেখতে পেয়েছেন।

মাইক্রোবাসের নম্বর প্লেটটি ছিল ভুয়া:
জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার রাত একটার দিকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মাইক্রোবাসের ছবিটি পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, বুধবার দুপুর দুইটা ৫৩ মিনিটে মাইক্রোবাসটি ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় টোল দেয়। গাড়িটির নম্বর প্লেট কিছুটা ঝাপসা ছিল। অনেকভাবে যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নম্বর প্লেটে চট্ট মেট্রো গ-১৭-৮৩২৭ নম্বরটি লেখা ছিল। তবে বিআরটিএতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটি ভুয়া নম্বর। সাধারণত মাইক্রোবাসের নম্বর প্লেট হয় ‘চ’ ক্রমিকের। আর কারের নম্বর হয় ‘গ’ ক্রমিকের।
প্রোব/পি/জাতীয়/১৮.০৪.২০১৪

১৮ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১০:১৪:৪০ | ১০:৫৩:৩৬

জাতীয়

 >  Last ›