A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রান্তিক হলেও ভারতের নির্বাচনী ফলাফলে নিয়ামকের ভূমিকায় থাকবে নারী: বিবিসির বিশ্লেষণ | Probe News

India Women4.jpgপ্রোবনিউজ, ডেস্ক: ১৯৬৬ সালে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর দেখা মিলেছিলো ভারতে। পেরিয়েছে প্রায় ৫০ বছর। তবে এখনও সেখানকার রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ খুবই কম। তারা রয়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ে।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভারতের রাজনীতি এখনও পুরুষশাসিত পৃথিবীর মধ্যেই বিরাজিত। নারীরা ভোট জিততে পারবেন না বলেই মনে করে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। সেন্টার ফর দ্যা স্টাডি অফ ডেভেলপিং সোসাইটি-সিএসডিএস গবেষক সঞ্জয় কুমার মন্তব্য করেন, “বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই নারীদের প্রার্থী করতে কার্পণ্য করে। এতেই বোঝা যায়, ভারতের রাজনীতিতে নারীরা বঞ্চিত।”
জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ২০১০ সালে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাশ হওয়া একটি বিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ২০০৯ সালে লোকসভার ৫৪৩ টি আসনের মাত্র ১১ ভাগ পূরণ করেছিলেন নারীরা। ১৯৫২ সালের প্রথম জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে এ হার ৬ শতাংশ বেশি। তবে রাজনীতিতে নারীদের বৈশ্বিক অংশগ্রহণের হারের (২২ শতাংশ) তুলনায় তা খুবই সামান্য।
এ বছরের নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো এখনও সব প্রার্থীদের নাম ঘোষণা না করলেও ৮ই এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় কংগ্রেসের ৪১৯ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৪৯ জন নারী যা মোট প্রার্থীর ১২ শতাংশ। আর বিজেপির ৪১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৩৭ জন নারী। শতাংশের হিসেবে তা দশেরও কম!
তবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না বাড়লেও গেলো ৫০ বছর ধরেই পুরুষ ভোটারের সাপেক্ষে দেশটিতে বাড়ছে নারী ভোটারদের সংখ্যা। ১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচনে পুরুষ এবং নারীদের মধ্যে ভোটে অংশগ্রহণের হারের ব্যবধান ছিলো ১৬.৭ শতাংশ। ২০০৯ সালে তা কমে দাড়ায় ৪.৪ শতাংশে। এই ২০১৩ সালেও পাঁচটি রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনের মধ্যে তিনটি রাজ্য ছত্তিশগড়, রাজস্থান এবং মিজোরামে পুরুষ ভোটারদের চেয়ে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বেশি ছিলো।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নারীর ক্ষমতায়নসহ বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে এর পেছনে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস-এর নৃতত্ত্ববিদ মুকুলিকা ব্যানার্জি বলেন, ভারতের নারীদের বলে দেয়া হয়, কোন পোশাক পরতে হবে, কি রান্না করতে হবে, কী বলতে হবে, কিভাবে আচরণ করতে হবে। তবে ভোটাধিকারই একমাত্র পরিসর; যেখানে নারীদের জন্য নিজেদের মতামত দেয়ার অবারিত সুযোগ থাকে। সেকারণেই আত্মপ্রকাশের সুযোগ খুঁজতেই নারীদের ভোটে অংশগ্রহণ বেশি বলে মনে করেন তিনি।
নির্বাচনে নারীদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রভাব ফেলতে পারে ১৬ তম লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবারের নির্বাচনের ফলাফলে ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকরা খুজে বের করেছেন এর পেছনের কারণ। অর্থনৈতিক নেতিবাচকতার প্রভাবের প্রত্যক্ষ শিকার হন নারীরা। ভারতে অনেক বাড়িতে সাংসারিক ব্যয় এবং ভোগ্য পণ্যের কেনাকাটা তারাই করে থাকেন। একারণেই অর্থনৈতিক দুরাবস্থার সঙ্গে নারীদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তৈরী হয়। যা ক্ষমতাসীন সরকারের উপর ক্ষুব্ধ করে তোলে তাদের। সেকারণে মার্কিন কারনেগি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিচের রাজনীতি বিজ্ঞানী মিলান বৈষ্ণব মনে করেন; ক্ষমতাসীন কংগ্রেস থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি কিংবা অন্য ছোট দলগুলোকে এখন ভোট দিতে পারেন ভারতীয় নারী ভোটাররা। একই ধরনের সিদ্ধান্ত আসে হায়দারাবাদে ইন্ডিয়ান স্কুল অব বিজনেসের গবেষণা থেকেও। মুদিত কাপুর এবং শমিকা রবির এক গবেষণা বলছে, নারীরা ব্যাপক আকারে লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিলে তা বর্তমান সরকারের জন্য হবে দুঃখজনক খবর।
পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে ২০০৫ সালে হওয়া দুটি স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষণ করেও দেখা যায়, নারী ভোটারদের অংশগ্রহণের কারণে রাজনৈতিক দলের জন্য পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে পুরুষ ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ একটি দলকে ক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ করে দেয়। আর তাই রবি বলেন, “ নারীরাই পরিবর্তনকারী।” তিনি বলেন, বিহার স্টাডিতে দেখা গেছে, ১৯৯০ এর শুরুর দিকে ভারতের গ্রাম পরিষদের এক তৃতীয়াংশ আসন নারী রাজনীতিবিদদের জন্য সংরক্ষিত। আর কিছু রাজ্যে এর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। বিশ্লেষকদের মতে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বাড়ার ক্ষেত্রে এটিও নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছেন কয়েকজন নারী। নির্বাচনে কংগ্রেস কিংবা বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তামিল নাড়ুর জয়ললিতা, পশ্চিমবঙ্গের মমতা এবং উত্তর প্রদেশের মায়াবতী; এই তিন আঞ্চলিক নেতা পরবর্তী সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে মনে করা হয়। তবে এদের কেউই নারী ভোটারদের ভরসা করতে পারেন না। ভারতের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী শিব বিশ্বনাথান বলেন, “দুনিয়াটা পুরুষের; এবং একজন নারী হিসেবে শাসনকার্য চালাচ্ছেন; এই বোধ তাদের পিছু ছাড়ে না। সেকারণেই নারী হয়েও তারা নারী বিষয়ক ইস্যুগুলোকে গুরুত্ব দেন না।
তারপরও একেবারে হতাশা না জানিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন ব্যাপক সংখ্যায় নারীদের অংশগ্রহণের কারণে একদিন হয়তো সত্যিকারের সাড়া দেবেন রাজনীতিবিদরা। হয়তো তাদের সময় হবে নারীদের কন্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেয়ার।
প্রোব/ফাউ/ আন্তর্জাতিক ১৭.০৪.২০১৪

১৭ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১৯:৩১:২৮ | ১৮:৩৪:৩৪

জাতীয়

 >  Last ›