A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

দেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা আড়াই কোটি; ছয় মাসে কোটিপতি বেড়েছে ৩৪১৯ | Probe News

Lead12.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: স্বাধীনতার চার দশক পরও বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যায় অতিদরিদ্র খানার উপস্থিতি দেশের সার্বিক উৎপাদনশীলতাকে নিম্নগামী করে রেখেছে। যা একই সঙ্গে সমাজে চরম অসমতা ও শ্রেণীবিভাজনকেও উস্কে দিচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়। ২০১০ সালের রাষ্ট্রীয় খানা জরিপ কর্মসূচিতে দেখা যায়, দেশে এখনো প্রায় ১৮ ভাগ মানুষ অতিদ্ররিদ্র আর্থিক অবস্থায় রয়েছে। এরূপ খানার সংখ্যা এখন প্রায় ৬০ লাখ। জনসংখ্যার হিসাবে যা এখন প্রায় আড়াই কোটি।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি শতাব্দির প্রথম দশকে যে দ্রুততায় অতিদরিদ্রদের আর্থিক উন্নয়ন ঘটেছে পরবর্তী দশকে তা ক্রমে শ্লথ হয়ে এসেছে। জাতীয় অর্থনীতির সাম্প্রতিক শ্লথ গতিও এক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এ অবস্থায় অতিদরিদ্র অবস্থা দ্রুত নির্মূল করার জন্য একটি জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা না হলে আগামী ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরে Poverty-Alleviation.jpgজনসংখ্যার সকল অংশকে অতিদরিদ্র অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানোর রাজনৈতিক লক্ষ্য অধরাই থাকবে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আলোকে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর যদি ১০ লাখ পরিবারকে দরিদ্র অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানো যায়; তা হলেই কেবল হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী থেকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান প্রোবনিউজকে বলেন, ‘সামগ্রিক একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ছাড়া অতিদ্রুত হতদরিদ্রদের সংখ্যা কমানো যাবে বলে মনে হয় না। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে হলেও এটা প্রয়োজন।’
উল্লেখ্য, সাধারণভাবে যাদের দৈনিক খাদ্য গ্রহণ মাত্রা ২১২২ কিলোক্যালরির কম তারা দরিদ্র এবং যাদের খাদ্যগ্রহণ মাত্রা ১৯০৫ কিলোক্যালরির কম তারা ‘হতদরিদ্র’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকেন। বর্তমানে এইরূপ দরিদ্র ও হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের প্রায় ৮৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে এবং এতে বাজেটের প্রায় ১০-১২ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশ থেকে হতদরিদ্র দূর করার জাতীয় কর্মসূচির জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নে ৬০ লাখ খানার প্রত্যেকের জন্য ৫০০ ডলার হিসাবে মোট ৩০০ কোটি ডলারের আর্থিক সংস্থান প্রয়োজন। এই অংক হতে হবে বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয়কৃত অর্থের অতিরিক্ত। তবে অর্থের সংস্থানের পাশাপাশি অতিদরিদ্রদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা সহজতর করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কারও প্রয়োজন। বিশেষত দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধির প্রধান শিকার হতে হয় অতিদরিদ্রদেরই। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো নিয়ে গণমাধ্যমে প্রায়ই এরূপ দুর্নীতির তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। উপরš,‘ এরূপ কর্মসূচি এখনো সমগ্র হতদরিদ্রদের অর্ধেকের বেশিকে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে, দেশে দরিদ্র ও অতিদ্ররিদ্রদের সংখ্যা কমার হার অতি শ্লথ হলেও কোটিপতি বৃদ্ধির হার অতি দ্রুত বাড়ছে। যেমন, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় কোটিপতি আমানতধারী ছিলেন ৪৯ হাজার ৫৫৪ জন। অথচ ১৯৭২ সালে এরূপ কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৫ জন এবং ১৯৭৫ সালে ছিল ৪৭ জন। কেবল ২০১৩ সালের শেষ ছয় মাসে দেশে ৩ হাজার ৪১৯ নতুন কোটিপতি আমানতকারী যুক্ত হয়েছেন ব্যাংক ব্যবস্থায়।
প্রোব/আপা/জাতীয়/১৯.০৪.২০১৪

 

১৭ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১৩:২৫:২২ | ১৬:২৫:০৮

জাতীয়

 >  Last ›