A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

নিহত-আহত শ্রমিক পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ পায়নি আজও | Probe News

Rana Plaza 2.jpgআলতাফ পারভেজ, প্রোবনিউজ: সমকালীন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত শিল্প দুর্ঘটনা রানাপ্লাজা ট্রাজেডির প্রায় একবছর পরও আহত-নিহত শ্রমিক পরিবারগুলো দাবিকৃত ক্ষতিপূরণ পায়নি।
আগামী ২৪ এপ্রিল এই দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকী পালিত হবে দুঘর্টনায় প্রায় ১১৩৮ জন শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এবং আরও প্রায় তিনশত শ্রমিকের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিধ্বস্ত ভবনস্থল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার পাওয়া প্রায় দুইহাজার শ্রমিক বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্বের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
সারা বিশ্বকে শোক ও ক্ষোভে উদ্বেল করা এই ট্রাজেডির পর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে ‘রানাপ্লাজা ডোনার ট্রাস্ট ফান্ড’ নামে একটি তহবিল গঠন করা হয় এবং ৪০ মিলিয়ন ডলার অর্থসংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়। নয়তলা ভবনের রানাপ্লাজায় অবস্থিত ৫টি গার্মেন্ট কারখানায় যেসব আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হতো মূলত তাদের ঐ তহবিলে অর্থদানের জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উল্লিখিত ‘ট্রাস্ট ফান্ড’ শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার মতো ‘পর্যাপ্ত অর্থ’ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ফান্ডে ১৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ জমা পড়েছে এ পর্যন্ত। প্রায় ২৯টি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড রানাপ্লাজার কারখানাগুলো থেকে পোশাক তৈরি করলেও এ পর্যন্ত ট্রাস্ট ফান্ডে অর্থ দিয়েছে মাত্র অর্ধেক ব্র্যান্ড কোম্পানি। ফলে ভবন ধসের প্রথম বার্ষিকীর আগেই ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়া যাবে কি না, সে নিয়ে এখনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক কোন মহল থেকে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়া হচ্ছে না। যদিও আইএলও’র তরফ থেকে ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল ২৪ এপ্রিলের পূর্বেই ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করতে ইচ্ছুক।
বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থে সক্রিয় আমস্ট্রাডামভিত্তিক সংগঠন ‘ক্লিনক্লথ ইন্টারন্যাশনাল’ জানিয়েছে, রানাপ্লাজায় পোশাক প্রস্তুতকারী উল্লিখিত ২৯টি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সম্মিলিত মুনাফার পরিমাণ ২২ বিলিয়ন ডলার। আর রানাপ্লাজা ট্রাস্ট ফান্ডে তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হচ্ছে মুনাফার মাত্র দশমিক ২ শতাংশ।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো অর্থদানের ক্ষেত্রে এটাকে ‘ক্ষতিপূরণ’-এর পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্তদের ‘অনুদান’ হিসেবে উল্লেখ করতে আগ্রহী। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলো চাইছে ‘ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া’য় তাদের যুক্ত করতে।
এদিকে ক্ষতিপূরণের অর্থদানে ব্যর্থতার পাশাপাশি এই ট্যাজেডিতে নিখোঁজ শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহের কোন অগ্রগতি ঘটেনি আজো যা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক পরিবারগুলোর জন্য গভীর দুঃখ ওRana Plaza 3.jpg শোকের কারণ হয়ে আছে। এইরূপ পরিবারগুলো বিভিন্ন সময় ৩২৯ জন হারিয়ে যাওয়া স্বজনের কথা জানালেও উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট সেনাকর্তৃপক্ষ ২৬১জন শ্রমিকের নিখোঁজের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রানাপ্লাজা দুর্ঘটনা বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের বঞ্চনা ও অনিরাপদ জীবনের বাস্তবতাটি বিশ্বব্যাপী গভীর উদ্বেগ তৈরি করলেও গত এক বছরে একদফা মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমআইনের মৃদু সংশোধন ছাড়া এখাতে আর কোন বড় পরিবর্তন হয়নি। এমনকি মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টিও এখনও সকল কারখানায় বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানা গেছে। কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সূত্রে জানা গেছে, তাদের পর্যবেক্ষণে এখনো ৩০ ভাগ কারখানায় নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন হয়নি যদিও গত ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন দেয়ার কথা। ২০১৩ সালের নভেম্বরে এই মজুরি কাঠামো নির্ধারণ হয়েছিল।
এদিকে, ২০১৩ সালের ৬ মে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন এক আদেশে রানাপ্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের হার নির্ধারণের আদেশ দিয়েছিল। এই আদেশের পর সরকার একটি কমিটি গঠন করে যাতে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসিকেও যুক্ত করা হয়। এই আদেশের পর ২৯ আগস্ট ক্ষতিপূরণের অংশ নির্ধারণের জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হয় যার একটির প্রধান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ। প্রোবনিউজের তরফ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ক্ষতিপূরণের একটি কাঠামো নির্ধারণ করে গত মাসে তারা আদালতে জমা দিয়েছেন যাতে নিহতদের জন্য ১৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের জন্য বলা হয়। এছাড়া অন্যান্যদের ক্ষতিপূরণের অংক সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত বলতে অস্বীকার করেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র বলেছে, সরকারের এই কমিটি মৃতদের উপরোক্ত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে কর্মহীনদের ১৪.৫ লাখ, হাত বা পা হারানোদের ৭.৫ লাখ, অন্যান্য আঘাতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাধীনদের ৪.৫ লাখ এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১.৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করেছে। ১.৫ লাখ টাকা হলো সরকারি কমিটি সুপারিশকৃত সর্বনি¤œ ক্ষতিপূরণ।
তবে সরকারি এই কমিটির ক্ষতিপূরণ সুপারিশ সম্পর্কে শ্রমিক সংগঠনগুলো আপত্তি তুলে বলেছে, নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে তাদের মৃত্যুর বয়স ও বাংলাদেশে গড় আয়ুর ব্যবধানকে বিবেচনায় নিতে হবে। যেকোন নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের এটাই আন্তর্জাতিক মানদ-। সে বিবেচনায় তারা মৃতদের জন্য ২৮ লাখ টাকা এবং সর্বনি¤œ ক্ষতিপূরণ ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্ডাস্ট্রি-অল বাংলাদেশ কাউন্সিল নামে শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট গত ১ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে রানাপ্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রি-অল এর মহাসচিব রায় রমেশচন্দ্র সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী এইরূপ দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুঃখ-দুর্দশার ক্ষতি, বর্তমান ও ভবিষ্যত আয় হারানোর ক্ষতি, মৃত্যুর ক্ষতি, পরিবারের ক্ষতি ইত্যাদি নানান বিষয় এখতিয়ারে নিতে হয়। তারা সেভাবেই ক্ষতিপূরণের উপরোক্ত অংক নির্ধারণ করেছেন।
এদিকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে তাদের কাছে এ পর্যন্ত ২৩৮টি আবেদন জমা পড়েছে।
প্রোব/আপা/পি/জাতীয়/১৬.০৪.২০১৪

১৬ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১২:২৮:২৫ | ১৯:৩৫:৪৪

জাতীয়

 >  Last ›