A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

জেলা পরিষদ হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পুনর্বাসনকেন্দ্র | Probe News

Barisal, zila parishad.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: আইন অনুযায়ী নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বারা জেলা পরিষদ পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও কবে তার বাস্তবায়ন হবে কেউ জানে না। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে তিনটি পার্বত্য জেলা ব্যতীত বাকি ৬১টি জেলা পরিষদে সরকার রাজনৈতিকভাবে দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়। সেই থেকে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম চলছে।
বিবিধ কারণে যেসব দলীয় রাজনীতিবিদদের এমপি পদে মনোনয়ন দেয়া যাচ্ছে না, সরকার সেসব ‘বর্ষিয়ান’ রাজনীতিবিদদের জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়ায় বর্তমানে স্থানীয় সরকারের এই স্তরটি ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রতি মাসে জনগণের করের অর্থ থেকে পাওয়া পরিষদের নিজস্ব আয় থেকে অনির্বাচিত এই প্রশাসকদের পেছনে রাষ্ট্রের মাসিক খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। যার মধ্যে রয়েছে প্রশাসকদের বেতন (২৭ হাজার টাকা), আপ্যায়ন ভাতা (৩ হাজার টাকা) এবং জ্বালানি ভাতা (মাসে ১৯ হাজার টাকা)।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইনে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ইত্যাদি জেলা-অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন স্তরের নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের দ্বারা পরোক্ষ নির্বাচনী পদ্ধতিতে জেলা পরিষদে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ ও ৫ জন মহিলা সদস্যদের নির্বাচিত হওয়ার বিধান থাকলেও গত ১৪ বছরে তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। জেলা পরিষদের এই পঙ্গুত্বের জন্য স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বরাবরই দায়ী করেন দেশের সাধারণ প্রশাসনের অনাগ্রহ ও রাজনৈতিক মহলের অঙ্গীকারহীনতাকে। অথচ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে জেলা পরিষদকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০১৪ সালের সাম্প্রতিক নির্বাচনের আগেও সরকারি দল জেলা পরিষদের কাছে বাড়তি দায়িত্ব হস্তান্তরের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু কার্যত এসব প্রতিশ্রুতির কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।
বর্তমানে পরিষদের কার্যক্রম পুরোপুরি অনির্বাচিত প্রশাসক নির্ভর হওয়ায় জেলার উন্নয়নে জেলা প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই স্তরটি প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। নির্বাচিত সদস্য না থাকায় পরিষদগুলোতে বর্তমানে উন্নয়ন সংক্রান্ত কোন স্থায়ী কমিটিও কাজ করছে না।
এবিষয়ে স্থানীয় সরকার বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা সুজন’র সম্পাদক স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমানে যেভাবে প্রশাসক দিয়ে জেলা পরিষদকে পরিচালনা করা হচ্ছে সেটা সংবিধানের লংঘন। কারণ সংবিধানের বিধান মতে, ‘আইনানুগ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে’ জেলা পরিষদের গঠন বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে আদালতের রায়ও রয়েছে, কিন্তু সরকার তা মানছে না।
প্রোবের পক্ষ থেকে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মসজিদ-মন্দির-কবরস্থান ইত্যাদি সীমিত কিছু বিষয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা ছাড়া জেলা পরিষদগুলোর উল্লেখযোগ্য আর কোন কার্যক্রম নেই। অনেক জেলাতেই জেলা পরিষদ কীরূপ উন্নয়ন উদ্যোগ নেবে সেটা প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরাই নির্ধারণ করে দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সচরাচর জেলা পরিষদ স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর থেকে যে আয় পায় তা নিজস্ব রাজস্ব খাতেই খরচ করে। আর সরকারি অনুদান থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে কিছু কিছু উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করে থাকে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পরিষদীয় কাঠামোর দুর্বলতার কারণে পরিষদগুলো ‘বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ’দের অধীনে দলীয় রাজনীতির এক ধরনের অপ্রাতিষ্ঠানিক কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন একদল দলীয় কর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে প্রশাসকরা অফিস করেন এবং পরিষদীয় অর্থ থেকে কর্মীদের আপ্যায়ন করতে হয়। এরূপ দলীয় আবহের কারণে সাধারণ জনগণও জেলা পরিষদগুলোতে আসা-যাওয়ার ব্যাপারে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না।
এদিকে জেলা পরিষদগুলোর অবস্থা সম্পর্কে সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধান শেষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলেছে, ‘প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হলেও তিনি জেলার উন্নয়ন সংক্রান্ত কোন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং কোনটা পারবেন না সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তা ছাড়া প্রকল্প পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে তার এখতিয়ার বিষয়েও তিনি অবহিত নন।’
প্রোব/আপা/জাতীয়/১৫.০৪.২০১৪

১৫ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১১:৪৬:১৭ | ১১:৪৮:১৭

জাতীয়

 >  Last ›