A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মাঠে থাকতে ইমরানের ওপর বামপন্থীদের প্রবল চাপ | Probe News

Ganojagoron-Mancha_3.jpg

 

প্রোবনিউজ, ঢাকা: যেকোনভাবে শাহবাগ অঞ্চলে উপস্থিতি বজায় রাখা এবং গণজাগরণ মঞ্চের রাজনৈতিক সত্তা টিকিয়ে রাখতে সংগঠনের মুখপাত্র ইমরান এইচ. সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে বামপন্থী দলগুলো।
বামপন্থীদের চাপেই ইমরান সরকার শাহবাগে সমাবেশের মতো কর্মসূচি দিয়েছেন আবারও যা সরকারের একটি অংশ উস্কানিমূলক হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ইমরানের এই কর্মসূচির পরদিনই সরকারের প্রভাবাধীন প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাকে মঞ্চের ‘মুখপাত্র’ পদ থেকে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে।
ইমরানের সহযোগিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশি লাঠিচার্জের পর ৫ এপ্রিল থেকেই বিভিন্ন বামপন্থী দলের নেতৃবৃন্দÑ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে হতোদ্যম না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। সরকারের সমর্থক হিসেবে বিবেচিত ৩-৪ জন বুদ্ধিজীবীও তাকে একই পরামর্শ দিয়ে শাহাবাগ না ছাড়ার জন্য বলেছে।
গত দুই দিন ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবি ও জাসদের বিভিন্ন স্তরে কথা বলে জানা গেছে, গণজাগরণ মঞ্চের প্রতি সরকারের হঠাৎ নেতিবাচক মনোভাবে দলগুলো উদ্বিগ্ন। তাদের মূল্যায়নে মঞ্চ না থাকলে একদিকে আওয়ামী লীগের ওপর তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাবে; অন্যদিকে, সামাজিক উপস্থিতির পরিসরও ছোট হয়ে আসবে তাদের। বিশেষ করে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ এই ভেবে উৎকণ্ঠিত মঞ্চ না থাকলে সরকারের সহযোগী হিসেবে তারা বর্তমান অবস্থান হারিয়ে ফেলবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর একজন সদস্য এ সম্পর্কে বলেন, ‘মঞ্চের কারণেই আমরা এতদিন চাপে রাখতে পেরেছিলাম তাদের। এটা না থাকলে সরকারি দল বামদের অপ্রয়োজনীয় ভাববে।’
মন্ত্রিসভায় সদস্য হওয়ার কারণে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ-এর পক্ষ থেকে সরাসরি ইমরানের পক্ষ নেয়া সম্ভব না হলেও গত প্রায় সাতদিন ধরে জাসদের প্রাক্তন ছাত্র নেতারা শহরের বিভিন্নস্থানে কয়েক দফা বৈঠকে করেছেন ইমরানকে সহযোগিতার কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে। তারা আগামী ১৮ এপ্রিল ইমরানপন্থীদের সমাবেশে লোক সমাগম করা এবং সেখানে ছাত্রলীগের হামলা হলে তার বিপরীতে নিরাপত্তা সুবিধা দেয়ার কৌশলও খুঁজছেন।
বামপন্থীদের মধ্যে ইমরানের পক্ষে সবচেয়ে প্রকাশ্য ও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে সিপিবির অঙ্গ সংগঠনগুলো। তারা যেকোন মূল্যে গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় ‘রাজনৈতিক উপস্থিতি’র পক্ষে। বিশেষ করে সিপিবির দুটি অঙ্গসংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন ও উদীচীর নেতৃবৃন্দ ইমরানের পাশে রয়েছে। সিপিবি মনে করছে, সরকার জামায়াতের সঙ্গে আপোসের চেষ্টা করছে এবং তাকে প্রতিরোধ করতে হলে গণজাগরণ মঞ্চ হলো সবচেয়ে ভালো বিকল্প, কারণ এর মাধ্যমেই তাদের গণসংগঠনগুলো গত এক বছরে ব্যাপক নতুন রিক্রুট করতে পেরেছে।
‘বামমোর্চা’ নামে পরিচিত বামপন্থীদের অপর ক্ষুদ্র অংশ এমুহূর্তে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে নিজেদের কিছুটা সরিয়ে নিয়েছে। গতবছর মঞ্চের কার্যক্রম শুরুর সময় বামমোর্চার নেতারা নিয়মিতই সেখানে যেতেন এবং গণমাধ্যমে এই ‘জাগরণ’-এর পক্ষে ছিলেন উচ্চকিত। কিন্তু মঞ্চের আওয়ামীকরণ যত প্রকাশ্য রূপ পেয়েছে ততই এই ঘরানার সংগঠকরা শাহবাগে কোনঠাসা হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে সেখান থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন।
তবে গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে নানামুখী অবস্থান ও তৎপরতা সত্ত্বেও বামপন্থী কোন দলই চায় না ইমরানপন্থী মঞ্চকর্মীরা এখনি রাজনৈতিক দল আকারে আত্মপ্রকাশ করুক। যদিও ইমরান ও তার স্বল্পসংখ্যক সহযোগী এক্ষেত্রে আগ্রহী।
এদিকে মঞ্চের ইমরান বিরোধী অংশ বলেছে, তারা এখন থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্যানেলের মাধ্যমে মঞ্চের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এদিকে, গণজাগরণ মঞ্চের দ্বিধাবিভক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতেও সম্প্রতি মৃদু উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়ন ইমরানের পক্ষ নেয়ায় ১৪ দলীয় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব বেড়েছে।
এদিকে গণজাগরণের চলতি সংকট সম্পর্কে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ছাত্র ইউনিয়ন মঞ্চের সঙ্গে ছিল এবং থাকবে। সরকারের উচিত তার ক্যাডাররা যাতে মঞ্চে নাক না গলায় সে ব্যবস্থা করা। ইমরান বড় কথা নয় গণজাগরণ মঞ্চের স্বপক্ষে আছি আমরা। মঞ্চের বিরোধিতার অর্থ বিপক্ষশক্তিকে শক্তিশালী করা।’
জনাব সেলিম এও বলেন, ‘মঞ্চকেন্দ্রীক চলতি ঘটনাবলীর নেপথ্যে জাতীয় রাজনীতিও যুক্ত আছে আমরা একে সেভাবেই দেখছি।’

 


প্রোব/আপা/জাতীয়/১৩.০৪.২০১৪

 

 

 

১৩ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১০:১১:৩২ | ১৬:০৭:৪৮

জাতীয়

 >  Last ›