A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ভূমি দস্যুদের হাত থেকে ধানমন্ডি মাঠ রক্ষার দাবিতে সমাবেশ | Probe News
 002মানব বন্ধন কর্মসূচী চলাকালে বক্তৃতা করছেন জামিলুর রেজা চৌধুরী, খুশি কবির, হানিফ সংকেত, মোবাশ্বের হোসেন, আশরাফুল ইসলাম

ভূমি দস্যুদের হাত থেকে ধানমন্ডি মাঠ রক্ষার দাবিতে সমাবেশ

প্রোবনিউজ, ঢাকা: ভূমি দস্যুদের অশুভ তৎপরতা বন্ধ করে তাদের হাত থেকে ধানমন্ডি মাঠ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন দেশের নাগরিক, সমাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা। ভূমি দস্যুদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তারা বলছেন, ‘উচ্চ আদালতের রায় মানতে এসব দস্যুদের বাধ্য করা হবে। যেনো মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।’


শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি খেলার মাঠ সংলগ্ন মিরপুর সড়কে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি জানিয়েছেন তারা। এসময় মাঠ রক্ষায় অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চেয়েছেন বক্তারা।


সকাল ৯টা থেকে সমাবেশে এলাকাবাসীসহ নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হতে থাকে সাধারণ মানুষ। দেড় ঘন্টাব্যাপি সমাবেশে উপস্থিত জনতার হাতে ছিল ডিজিটাল ব্যানার, বুকে ঝোলানো ছিল প্লেকার্ড আর মাথায় ‘খেলার মাঠ মুক্ত চাই’ লেখা সাদা টুপি। ব্যানার, প্লেকার্ডগুলোতে লেখা ছিল ‘ধানমন্ডি খেলার মাঠ রক্ষা কর দখলদার উচ্ছেদ কর’, ‘ধানমন্ডি খেলার মাঠে কোন স্থাপনা নয় সকলের খেলার জন্য উন্মুক্ত মাঠ চাই’, আনন্দময় শৈশব-বৈষম্যহীন শিক্ষা সুন্দর ভবিষ্যত-শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়বোই’, ‘আমাদের শৈশবকে বিকশিত হতে দিন’, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা খেলতে চাই’ ইত্যাদিসব স্লোগান।


এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য হাসাপাতলের উদ্যোক্তা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক সচিব সোহেল চৌধুরী, নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশি কবির, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ইত্যাদি’র জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম, জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার জাবেদ ওমর বেলিম, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. সাকিল আক্তার, বিআইপি’র সাধারণ সম্পাদক গোলাম রহমান, নিরাপদ ফাইন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইবনুল আই এস রানা, পরিবর্তন চাই’র নির্বাহী পরিচালক ফিদা হক, খেলাঘর আসরের পরিচালক আতিকুল হক খান।


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাবেক সভাপতি জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘দস্যুদের অশুভ তৎপরতা বন্ধ করাতে বাধ্য করতে হবে। যাতে আদালতের রায় মেনে নিয়ে মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।’


গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের উদ্যোক্তা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘ভবিষ্যত প্রজন্মের বাচ্চাদের

in 1সমাবেশ শেষে জনতা মাঠের চারদিক প্রদক্ষিণ করেন।

ক্যারাম আর লুড়– খেলা ছাড়া উপায় নেই। বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাফেরা ও শরীরচর্চা করার জায়গা নেই। সকলের প্রয়োজনে এই মাঠ রক্ষা করতে হবে।’ আদালতের রায় মানতে বাধ্য করানোর জন্য পুনরায় উচ্চ আদালতে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোকে রিট করার পরামর্শ দেন তিনি।
‘নিজেরা করি’ সংগঠনের সমন্বয়ক খুশি কবির বলেন, ‘আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাণিজ্য করছে। আমরা মাঠ দখলমুক্ত করে বাচ্চাদের খেলার উপযোগী করে তুলবো।’


বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘চিহ্নিত ভূমি দস্যুদের হাত থেকে যতদিন মাঠটি রক্ষা না করতে পারবো ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাবো আমরা।’


বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত বলেন, ‘চরদস্যু, ভূমিদস্যুর ন্যায় কিছু মাঠদস্যু ধানমন্ডি খেলার মাঠ দখল করে রয়েছে। এখানে তারা টেনিস কোর্ট করতে চায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখানে টেনিস কোর্ট বা ভবন নির্মাণ হলে শিশুদের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারবে না তারা।’
ধানমন্ডি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মঞ্জুরুল মতিন বলেন ‘ক্লাবের নাম শেখ জামাল রাখার বিরোধিতা করছি না। এখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ্য বাণিজ্য করে শেখ জামালের বিদেহী আত্মাকে কষ্ট দিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো এই মাঠ রক্ষা করে আমাদের শিশুদের খেলার সুযোগ করে দিন।’


নিরাপদ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইবনুস আই এস রানা বলেন, ‘সরকার যদি জনগণের হয়ে থাকে তা হলে আগামী ৫ দিনের মধ্যে সকলের জন্য মাঠ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। তা না হলে আমরাই খেলার মাঠ দখল করবো।’


সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশবিদ, ক্রিকেটার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবাশ্বের হোসেন বলেছেন, ‘এই খেলার মাঠে কিছু ভাড়া করা ছেলেদের এনে লোক দেখানো খেলার আয়োজন করছে দখলদাররা। এখানে আমাদের সন্তানদের পায়ের ছোঁয়া লাগে না এখন আর। বাচ্চারা খেলতে আসলে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, আপনার ভাইয়ের নামে যারা অসাধু ব্যবসা করছে তাদের কাছ থেকে মাঠ উদ্ধার করে সর্বসাধারণের জন্য মাঠ উন্মুক্ত করে দিন।’
সভাপতির বক্তব্যের পর বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত জনতাকে সঙ্গে নিয়ে মাঠের চারদিক প্রদক্ষিণ করেন। কিন্তু দখলদারদের প্রতিরোধে তারা মাঠে প্রবেশ করতে পারেননি।


ধানমন্ডি পরিবেশ উন্নয়ন জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ও বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিউটিটের সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইএবি), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ার্স

cover

সমাবেশে উপস্থিত জনতার হাতে ছিল ডিজিটাল ব্যানার, বুকে ঝোলানো ছিল প্লেকার্ড আর মাথায় ‘খেলার মাঠ মুক্ত চাই’ লেখা সাদা টুপি।

এসোসিয়েশন, গ্রীণ ভয়েস, সবুজপাতা, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ডব্লিউ বি বি ট্রাস্ট, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম, আদি ঢাকাবাসী ফোরাম, সেডাস, সেবা, পিস, উন্নয়নধারা ট্রাস্ট, পরিবর্তন চাই, আইন ও শালিস কেন্দ্র, সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ (সি ইউ এস), নিজেরা করি, নাগরিক উদ্যোগ, সুন্দর জীবন, বিআইপি, সুজনসহ ৫০টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট নাগরিকদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মত।


প্রসঙ্গত, ধানমন্ডি খেলার মাঠ দখল করে ছয় তলা ভবন নির্মাণ করছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব প্রাইভেট লিমিটেড। মাঠের জমিতে নিমার্ণাধীন ভবনে থাকবে অডিটোরিয়াম। যা বিয়ে জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেয়া হবে। ভবনে আরো রয়েছে খেলোয়াড়দের জন্য ডরমেটোরি, কনফারেন্স রুম, ক্যান্টিন, পরিচালকদের বোর্ড রুম, টেবিল টেনিস খেলার ব্যবস্থা, আন্ডারগ্রাউন্ড পাকিং, সুইমিং পুল, লন টেনিস ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট।


জানা গেছে, মাঠ দখল ও ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ক্লাবের নির্বাহী ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মঞ্জুর কাদের। ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহ আলম, নিটোল গ্রুপের চেয়ারম্যান মতলুব আহমেদ, রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান এল এ মুকুল ও পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেল। প্রকৃতপক্ষে এই মাঠের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ঢাকা সিটি করপোরেশনের আর ব্যবহার করার সম্পূর্ণ অধিকার এলাকাবাসী।
প্রোব/এহ/জাতীয় ১১.০৪.২০১৪

১১ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১৪:০৭:৪৯ | ২৩:১৭:০০

সম্পর্কিত আরো খবর

জাতীয়

 >  Last ›