A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলা তুর্কি ষড়যন্ত্র: মার্কিন সাংবাদিক | Probe News

Syria.jpgপ্রোবনিউজ, ডেস্ক: গত বছর দামেস্কের কাছে কথিত রাসায়নিক গ্যাস হামলাটিকে সিরিয়ার ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার তুর্কী ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন স্বনামধন্য এক মার্কিন সাংবাদিক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক সিইমুর হার্শ এক মন্তব্যে দাবি করেন, এটি ছিলো তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফসল।। হার্শ, তুর্কি সরকার ওই হামলার দায় সিরিয়ার আসাদ সরকারের ওপর চাপানোর ষড়যন্ত্র করে যাতে আমেরিকা প্রতিবেশী এই আরব দেশটির ওপর হামলা চালায়। হার্শ বলেছেন, তুর্কি প্রধানমন্ত্রী এরদোগান বাশার আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত আলকায়দার সহযোগী গ্রুপ আন নুসরাকে সহায়তা দিয়ে আসছেন।

বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক হার্শের এইসব বক্তব্য আজ (রোববার) লন্ডন রিভিউ অফ বুকসের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে হার্শ আরো জানিয়েছেন, গত বছরের মে মাসে দক্ষিণ তুরস্কে আন নুসরার দশজন সদস্যকে দুই কেজি সাইরিনসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু গত গ্রীষ্মকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মস্কোয় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত আইদিন সেজজিন এই খবর অস্বীকার করে বলেন, উদ্ধারকৃত ‘সাইরিন’ ছিল আসলে ‘এন্টি-ফ্রিজ বা হিমায়ন-প্রতিরোধক’।

হার্শ একজন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার কথাও উদ্ধৃত করেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ আমরা জানতাম যে তুর্কি সরকারের কেউ কেউ এ ঘটনায় জড়িত’। মার্কিন কর্মকর্তারাও বিশ্বাস করতেন যে এ ধরনের হামলার দায়ভার আসাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ওবামাকে যুদ্ধ ঘোষণায় বাধ্য করা যাবে।

গত বছরের আগস্ট মাসে দামেস্কের একটি এলাকায় রাসায়নিক গ্যাস হামলায় শত শত মানুষ প্রাণ হারায়। সিরিয়ার সরকার ওই হামলা চালিয়েছিল বলে মার্কিন সরকার ও তাদের বড় বড় প্রচারমাধ্যমগুলো প্রচারণা চালায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা সিরিয়ার ওপর হামলা চালানোর জন্য পেন্টাগনকে প্রস্তুত হতে বলেন। আমেরিকার ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র সরকারগুলো যুদ্ধ-বাধানোর ওই প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিয়েছিল।

কিন্তু এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এটা জানতেন যে এ ব্যাপারে তাদের সরকারের দাবি ছিল মিথ্যা ও বানোয়াট এবং মার্কিন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটাও জানতো যে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি করছে। ওই রাসায়নিক হামলার সঙ্গে সিরিয় সরকারের সম্পর্ক থাকার কোনো চিহ্ন বা প্রমাণ এখন পর্যন্ত খুঁজে পাননি জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি সিরিয়ার সরকার বলেছে, বিদ্রোহীরা আসাদ সরকারের বদনাম করার জন্য দেশটিতে আরো একটি রাসায়নিক হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করছে। এ ছাড়াও সম্প্রতি ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে পড়া একটি অডিও ফাইল থেকে জানা গেছে, তুর্কি সরকার তার অনুচরদের সিরিয়াতে ঢুকিয়ে দিয়ে সেখান থেকে তুরস্কে কয়েকটি গোলা বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ষড়যন্ত্র করেছিল যাতে এই ঘটনার দায় সিরিয়ার ওপর চাপিয়ে দিয়ে দেশটির ওপর হামলা চালানো যায়।

তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় চার কর্মকর্তা এক গোপন বৈঠকে এই হঠকারী ষড়যন্ত্রের নীল-নকশা বাস্তবায়নের যে শলা-পরামর্শ করছিলেন তার রেকর্ড ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউ-টিউবে ফাঁস হয়ে যায়। তুর্কি সরকার গোপন আলাপের রেকর্ড ফাঁস করার জন্য দেশটির বিরোধী দলকে তিরস্কার করেছে।

এই ঘটনার পর তুর্কি সরকার সেদেশে ইউ-টিউব বন্ধ করে দেয়। এর আগে তুর্কি সরকারের দুর্নীতির খবর প্রকাশের কারণে টু্‌ইটারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এরদোগান সরকার।

প্রোব/বান/আন্তর্জাতিক ০৮.০৪.২০১৪

৮ এপ্রিল ২০১৪ | আন্তর্জাতিক | ১৩:০১:৩৫ | ১৩:২৩:০৫

আন্তর্জাতিক

 >  Last ›