A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

পাপমুক্তির পুণ্যস্নানে লাখো ভক্ত | Probe News

punnosnan.jpgপ্রোবনিউজ, নারায়ণগঞ্জ : ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর’ এ মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য জগতের যাবতীয় সংকীর্নতা ও পঙ্কিলতার আবরনে ঘেরা জীবন থেকে পাপমুক্তির বাসনায় লাখ লাখ হিন্দু পূণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নান করছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এ মন্ত্র পাঠ করে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে সব পাপ মুক্ত হয়ে আশাতীত পূণ্য সঞ্চয় হয়। লাঙ্গলবন্দের মন্দির গুলোতে ভক্তিমূলক গান, বাধ্য বাজনা আর আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অষ্টমী স্নানে অংশ নিচ্ছেন পূণ্যার্থীরা।
রোববার দিবাগত রাত রাত ১টা ৫৫ মিনিট ১১ সেকেন্ড থেকে শুরু হয়েছে স্নানোৎসব। চলবে সোমবার দিনগত রাত ৩টা ৪৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ড পর্যন্ত। রোববার রাত থেকে স্নান শুরু হলেও সোমবার সকাল থেকে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে স্নান ঘাটগুলোতে। সোমবার সকাল ৮টা ১৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড থেকে ৯টা ৫৪ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড হলো উত্তম সময়। আর এ কারণে এ সময়টাতে ছিল ভক্তদের সবচেয়ে বেশী ভীড়।
চৈত্র মাসের অষ্টম তিথিতে পবিত্র নদ ব্রহ্মপুত্রে স্নানমন্ত্র পাঠপূর্বক নিজ নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী ভক্তরা ফুল, বেলপাতা, ধান, দুর্বা, হরীতকী, ডাব, আম্রপ্ল্বব ইত্যাদি দিয়ে পিতৃকূলের তর্পণ করেন। স্নান উপলক্ষ্যে রোববার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার পূণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র নদ এলাকায় ভীড় করতে থাকেন। রাত ২টার আগেই বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার নারী ও পুরুষ বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্ধ থেকে সাবদি পর্যন্ত প্রায় কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ১৪টি ঘাটে জড়ো হন।
লগ্ন শুরুর পরেই শুরু হয় স্নান। কে কার আর স্নান করবে তা নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতায় নামে পূণ্যার্থীরা। তবে বৃহস্পতিবার সকালেই মানুষের ঢল নামে বেশি। তিথি শুরুর আগে থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পূর্ণাথীরা লাঙ্গলবন্দে এসে জড়ো হন। অষ্টমীর স্নানে লাঙ্গলবন্দে আগত পূর্ণাথীদের জন্য জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ ক্যাম্প। যেখানে পূণ্যার্থীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা, প্রসাদ বিতরণ, শিশুদের জন্য বিনামূল্যে দুগ্ধ বিতরণ, স্নান শেষে তীর্থস্থানে আগত নারীদের পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থা। রাখা হয়েছিল বিশুদ্ধ খাবার জলের ব্যবস্থা।
বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এ সব ক্যাম্প পরিচালনা করছেন। নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে আগত পূর্ণাথীদের জন্য ফ্রি চিকিৎসা প্রদানে বসানো হয়েছিল দুটি মেডিকেল টিম। লাঙ্গলবন্দের বিভিন্ন মন্দিরগুলোতে চলছে ভক্তিমূলক গান। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাধুগণ এসে তাদের নিজ নিজ আস্তানায় অবস্থান নিয়েছেন। সরকারীভাবে গঠিত স্নানোৎসব ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মেরাজ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এবছর প্রায় ২০ লাখেরও বেশী লোকের সমাগম ঘটবে আশা করা যাচ্ছে।
১৪ টি স্নান ঘাটের জন্য ২৮টি চেঞ্জিং রুম তৈরী করা হয়েছে। এছাড়াও স্নানঘাটসহ যাতায়াত পথে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, ৭০টি টয়লেট, ২৫টি পানির ট্যাংক, ৫০টি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। লাঙ্গলবন্দ স্ননোৎযাপন পরিষদের সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা বাংলানিউজকে জানান, মন্দিরের ঘাটগুলোতে কাপড় পাল্টানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্নান উপলক্ষ্যে ৩২টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্যাম্প করে সেবা প্রদান করছেন। সেবা দেওয়া হচ্ছে বিশুদ্ধ খাবার জল, অসুস্থদের চিকিৎসা প্রদান, স্নান করার মন্ত্রও জানানো হবে পূণ্যার্থীদের।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনোজকান্তি বড়াল জানান, এ বছর লাঙ্গলবন্দে নতুন পরিবেশে পুণ্যার্থীরা স্নান করছেন। পর্যটন বোর্ডের বরাদ্দকৃত প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি স্নান ঘাটে টাইলস বসানো হয়েছে। এছাড়াও মহিলাদের জন্য চেঞ্জিং রুম, নতুন পানির পাইপ বসানোসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে।

প্রোব/বান/জাতীয় ০৭.০৪.২০১৪

৭ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১৪:৩১:৩৩ | ২১:১৫:৪৯

জাতীয়

 >  Last ›