A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বহুমুখী সংঘাতে গণজাগরণ মঞ্চ | Probe News

imran 1.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: গত এক বছর গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকরা যখন পিজি হাসপাতালের ক্যান্টিনে সভা করতেন তখন বাইরে অজ্ঞাত পরিচয় গানম্যানরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেন। পিজির অন্তত তিনটি রুমে এই সংগঠকরা রাত-দিন খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাসহ থাকতেন তখনও একই ধরনের নিরাপত্তা সুবিধা পেতেন তারা। সেই সংগঠকরা যখন ৪ মার্চ পিজিতে ঢুকতে যান তখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেন। ইমরান এইচ সরকার ও তার অনেক সহযোগীর জন্য এটা ছিল বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। ফলে গত শনিবার প্রথমবারের মতো পিজির বাইরে পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে সভা করতে হয়েছে মঞ্চের সংগঠকদের।
এই সভার বিষয়ও ছিল গতানুগতিকতার বাইরে নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে। মঞ্চকে পুলিশ শাহবাগে আর সভা করতে দিচ্ছে না। গত কয়েক মাস ধরে ঢাকায় সকল রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনকে পুলিশী অনুমতি নিয়ে সভা করতে হলেও জাগরণ মঞ্চকে তা করতে হতো না। তারা যখন ইচ্ছা পুলিশ প্রহারায় রাস্তা বন্ধ করে সভা করতে পারতো। এমনকি তাদের সমাবেশের কারণে এক নাগাড়ে কয়েক সপ্তাহ শাহাবাগ মোড় দিয়ে গাড়ি চলাচলও স্থগিত করে দেয়া হয়েছিল। গত ২ দিন ধরে এসব সহযোগিতা আর মিলছে না। এমনকি তাদের উপর লাঠিচার্জও হয়েছে।
‘নতুন পরিস্থিতি’তে তাই করণীয় ঠিক করতে পরীবাগে সভায় বসেছিলেন মঞ্চ কর্মীরা ৫ এপ্রিল শনিবার। ইতিমধ্যে শাহাবাগে একদল পুরানো সহযোগী কর্তৃক অবাঞ্ছিত ঘোষিত হয়েছেন ইমরান সরকার। সরকার ইতিমধ্যে ইমরান সরকারের নিরাপত্তা সুবিধা সরিয়ে নেয়ায় তিনি এখন ব্যক্তিগত রক্ষী নিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করেছেন। ২-৩ জন সহযোগী এক্ষেত্রে তাকে সহায়তা দিচ্ছেন।

বিরোধের অন্তরালে
গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর পুলিশী একশান গত কয়দিন ধরে সারাদেশে বিশেষ আলোচ্য বিষয়। রাজনৈতিক পরিমন্ডলে সবাই এ ঘটনার পটভূমি ও পরিণতি জানতে উৎসুক। অনুসন্ধানে জানা যায়, নেতৃত্বের সংঘাতের পাশাপাশি আর্থিক বিষয় এই টানাপোড়েনের মূলে থাকলেও বামপন্থী কয়েকটি সংগঠনের সাথে আওয়ামী লীগের imran 4.jpgসম্পর্কের শীতলতাও এতে একটি উত্তেজক উপাদান হিসেবে কাজ করেছে। মঞ্চের অন্যতম সাংগঠনিক ভিত্তি ব্লগারদের সংগঠন ‘বোয়ান [BOAN]’-এর ‘রাজনৈতিক দল’ হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রাজনৈতিক পরিমন্ডলে আওয়ামী নীতিনির্ধারকদের অনেককে আশংকিত করে

 তুলেছে এই আন্দোলনের ভবিষ্যত অভিমুখ নিয়ে। তারও ছাপ পড়েছে পুলিশী লাঠিচার্জে। ইমরান সরকার অবশ্য বলেছেন, ‘জনগণ চাইলে

 আমরা একটা পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবো।’ উল্লেখ্য, অন্তত ছয় মাস পূর্বে ইমরানের কয়েকজন নির্বাচিত সহযোগী একটি সম্ভাব্য পার্টির গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করলেও অজ্ঞাত কারণে তা নিয়ে মঞ্চ আর এগোয়নি। সিদ্ধান্ত কোথা থেকে আসে সংগঠকরা তা জানেন না!
দীর্ঘ একবছর আলোড়ন সৃষ্টিকারী আন্দোলনের সংগঠক হলেও গণজাগরণ মঞ্চের কোন সাংগঠনিক কাঠামো নেই। অনেক সংগঠকের দাবি সত্ত্বেও এটা হয়নি। আপাতদৃষ্টিতে শান্ত ও ধীরস্থির ‘ডা. ইমরান এইচ. সরকার মঞ্চের নেতৃত্ব কুক্ষিগত করে আছেন’ এই অভিযোগ তাই অনেকের। ইমরানের অনেক সহযোগী তাই এখন তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। এমনকি পুলিশী নিগ্রহের পরও তারা ইমরানকে দেখতে যাননি। তাদের একজনের ভাষায়, ‘নিজের নেতৃত্ব নিরংকুশ রাখতে আজও তিনি মঞ্চের কোন সাংগঠনিক কমিটি গঠন করেননি। প্রায় ২০টি সংগঠন মঞ্চের কাজে যুক্ত হলেও তাদের কোন সমন্বয় কমিটি নেই। তিনি ভিন্নমত শুনেন, কিন্তু কাউকে সঙ্গে নিতে চান না। মঞ্চের সিদ্ধান্ত কোথা থেকে হয়- তা আমরা জানি না। সিদ্ধান্ত কীভাবে পাল্টায় সেটাও আমাদের অজানা।’

ইমরান এইচ. সরকারকে নিয়ে সহযোগীদের আরেক অভিযোগ অর্থ প্রবাহ নিয়ে। ‘গত এক বছরে মঞ্চের কাজে প্রচুর অর্থ এসেছে প্রচুর অর্থ খরচ হয়েছে। ৩০-৪০টি গাড়ির বহর নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সফর করেছি আমরা। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ব্যান্ড শো হয়েছে। কিন্তু কোন হিসাব নেই। হিসাব নেয়া বা দেয়ার কোন ফোরাম নেই’ মন্তব্য আরেক সংগঠকের। একই সংগঠক জানান, দেশের একজন অর্থনীতিবিদÑ যিনি একটি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন তিনি একসময় প্রচুর অর্থ যোগাড় করে দিয়েছিলেনÑ যার কোন হদিস মিলছে না।
এছাড়া সকল গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকই বিভিন্ন সূত্র থেকে অর্থ পেতেন। কিন্তু কীভাবে, কোথায় এ টাকা খরচ হয়েছে তার কোন হিসাব কারো জানা নেই। এসবের বিরুদ্ধে ইমরানের বক্তব্য, ‘আমরা নিজেরা চাঁদা দিয়ে সকল কাজ করেছি।’ এ বক্তব্য নিয়েও প্রতিপক্ষ প্রশ্ন তুলেছে। কারণ দীর্ঘদিন ইমরান সরকার আয়রোজগারমূলক কোন পেশায় নেই। যদিও তিনি খুব দামি একটি গাড়ি ব্যবহার করেন এবং শাহাবাগের পাশেই বিলাসবহুল ফ্লাটে থাকেন।

দেশজুড়ে প্রচুর কৌতূহল, সন্দেহ, অবশ্বিাস থাকলেও গণজাগরণ মঞ্চের তরফ থেকে বরাবরই দাবি করা হয়, একদল অনলাইন একটিভিস্ট এই আন্দোলনের জন্ম দেন। তবে বাস্তবে আন্দোলনের শক্তিভিত হিসেবে দেখা গেছে সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, বাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মীদের। সাথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণও ছিল। অনেক শিল্পী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীও আন্দোলনকে গাইড করতেন। বিশেষ করে শাহরিয়ার কবির, কামাল লোহানী, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, খুশী কবির প্রমুখের ছিল এই আন্দোলনে উপদেষ্টামূলক ভূমিকা। দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে এরা আনুষ্ঠানিকভাবে উপদেষ্টা হবেন এমনই কথা ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সম্মেলনের মধ্যদিয়ে এরূপ প্রক্রিয়া শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটি আর এগোয়নি। এর জন্যও কর্মীদের অভিযোগের তীর ইমরানের দিকে। ছাত্রলীগের ইমরান বিরোধী অবস্থানের পর ঐ উপদেষ্টারাও এখন তাকে এড়িয়ে চলছেন। গতকাল শাহারিয়ার কবিরের নেতৃত্বাধীন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ইমরানপন্থীদের উপর বৃহস্পতিবারের হামলার নিন্দা জানালেও বিবাদ মিটিয়ে ফেলতে উভয়পক্ষকে চাপ দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

উল্লেখ্য, ইমরান সরকার নিজে একসময় রংপুর মেডিক্যালে ছাত্রলীগ সভাপতি ছিলেন। ফলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সাথে আগে থেকেই তার সখ্যতা ছিল। মঞ্চের আন্দোলনকালে দলটির একজন সম্পাদক তাকে বিশেষভাবে নির্দেশনা দিতেন বলে কথিত রয়েছে। যদিও গতকাল সেই সম্পাদক জাতীয় মিডিয়াকে বলেছেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মঞ্চের এখন আর দরকার নেই।’

এদিকে, সাম্প্রতিক নাজেহালের পর ইমরান আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ছাত্র ইউনিয়ন ও জাসদ ছাত্রলীগের কিছু কর্মী ব্যতীত তার পাশে পুরানো সহযোগীদের অধিকাংশই নেই। ফলে ছাত্রলীগের মনোভাব না পাল্টালে আপাতত তিনি শাহাবাগে পুরানো সা¤্রাজ্য ফিরে পাবেন বলে মনে হয় না।
প্রোব/আপা/জাতীয়/০৭.০৪.২০১৪

৭ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১২:০৪:০৪ | ১৪:৫৬:৫১

জাতীয়

 >  Last ›