A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বাকযুদ্ধময় লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণা | Probe News

India Politics.jpgপ্রোব নিউজ, ডেস্ক: প্রথম পর্যায়ের লোকসভা নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ছয়টি নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা বন্ধ থাকলেও অন্য এলাকাগুলোতে থেমে নেই সমাবেশ। আর সেসব সমাবেশে চলছে চিরচেনা সেই বাকযুদ্ধ। একের পর এক বাক্যবানে প্রতিদ্বন্দ্বিদের জর্জরিত করে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। আসছে পাল্টা বক্তব্যও।

রোববার আলীগড়ে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। আর এতে মোদি তাঁর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেন কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টি প্রধান মুলায়েম সিং যাদবকে। এতদিন ধরে নিজের নামের পাশে India Politics3.jpgসাম্প্রদায়িক শব্দটি জুড়ে থাকলেও এবার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য সোনিয়া এবং মুলায়েমকে পাল্টা দায়ী করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “গত এক বছরে সোনিয়া গান্ধীর নাকের নিচ দিয়ে ৭’শটি দাঙ্গা হয়েছে; আর এর মধ্যে ২’শ ৫০টি হয়েছে মুলায়েম সিং-এর এলাকা উত্তর প্রদেশে।”

তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশের মুসলিম নিয়ন্ত্রিত ৯০টি জেলার উন্নয়নে সোনিয়া গান্ধী ১৫ দফা বিশিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যার মধ্যে ১৫টি উত্তর প্রদেশের। কিন্তু গত বছর যখন একজন এমপি এ প্রকল্পের আওতায় কাজ করতে চাইলেন তখন সোনিয়া গান্ধীর ইউপিএ সরকার এক পয়সাও ব্যয় করতে চাইল না। আর এটাই প্রমাণ করে যে দেশের মুসলিমদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”

কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি ভোট ব্যাংকের রাজনীতির পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষতার গুণগান গায় বলেও অভিযোগ করেন মোদি।

কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি দেশের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার দিতে পারে না উল্লেখ করে বিজেপি নেতা আরও বলেন, “তাঁদের আর এক সেকেন্ডও ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন নেই।”

যেকোন রাজ্যের তুলনায় গুজরাটের মুসলিমরা অনেক ভালো আছেন দাবি করে তিনি বলেন, “উত্তর প্রদেশের মুসলিমদের ৫০ ভাগ এবং বিহারের মুসলিমদের ৬০ ভাগ দারিদ্রের মধ্যে থাকলেও গুজরাটে এ হার মাত্র ১৪ শতাংশ।”

বিদেশি ব্যাংকগুলোতে জমা থাকা কালোটাকাগুলো ফেরত আনতে কংগ্রেস ইচ্ছুক নয় উল্লেখ করে মোদি বলেন, ক্ষমতায় আসলে কালোটাকার কানাকড়ি পর্যন্ত ফেরত এনে তাঁর দল দেশের উন্নয়ন এবং দরিদ্রদের কল্যাণে কাজে লাগাবে।

এদিকে নির্বাচনী সমাবেশে বিজেপি প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনায় মুখর ছিলেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। মাভেলিকারা নির্বাচনী এলাকার চেনগানুরে এক সমাবেশে অংশIndia politis2.jpg নিয়ে রাহুল বলেন, “মানুষের সব সমস্যার সমাধান আছে বোঝানোর চেষ্টায় নরেন্দ্র মোদির এক ব্যক্তি, এক মডেল-এমন প্রচারণা মানুষ গ্রহণ করবে না। ভোটাররা এখন অনেক সচেতন।
প্রথম দফা নির্বাচনের আগের দিনও ইশতেহার প্রকাশ করতে না পারায় বিজেপির কড়া সমালোচনা করেন রাহুল। তিনি বলেন, বিজেপি এখনও একটি ইশতেহারই তৈরি করতে পারেনি। আর এর মানে তাঁরা সত্যিকার অর্থে জনগণের কথা ভাবে না। তারা মনে করে একজন লোকের কাছে সব সমস্যার সমাধান আছে এবং মোদি ভাবেন তিনি সবকিছু জানেন।’

বিজেপির অর্থনৈতিক এবং সামাজিক নীতিকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, “পাঁচ থেকে ছয়টি ব্যবসাকে শক্তিশালী করে তারা ভারতের উন্নয়নের কথা ভাবে। এ ধরনের পরিকল্পনা হল, দরিদ্রদের কাছ থেকে নিয়ে ধনীদের দেয়া।”

বিজেপির সমালোচনার পাশাপাশি কংগ্রেসের পরিকল্পনার কথা জোরালো করে তুলে ধরে রাহুল বলেন, সব ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে চায় তাঁর দল।
ইশতেহার তৈরি করতে কংগ্রেসের ছয় মাস সময় লেগেছে দাবি করে তিনি বলেন, “তরুণ, নারী, দলিত থেকে শুরু করে সবার কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে।”

শুধু রাহুলই নয়, নরেন্দ্র মোদিকে বাক্যবাণে জর্জরিত করেছেন মুলায়েম সিং যাদবও। উত্তর India4.jpgপ্রদেশের মুজাফফরনগরের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সাত মাস পর প্রথমবারের মত এলাকাটি সফর করেন তিনি। সেসময় মুসলিমদের কাছে গিয়ে তিনি দাবি করেন, সহিংসতার শিকার হওয়া মানুষদের জন্য ১’শ ১৫ কোটি রুপি দেয়া হয়েছে যেখানে গুজরাটের দাঙ্গায় মোদির সরকার এক পয়সাও খরচ করেনি। তিনি আরও বলেন, কোন দলই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। মুজাফফরনগরের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সমাজবাদী পার্টিকে দায়ী করা হলেও যাদবের দাবি দুই দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে তাঁর সরকার। উত্তর প্রদেশের ৮০ ট আসনের মধ্যে তাঁর দল ৫০ শতাংশেরও বেশি আসন পাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে বিভিন্ন সমাবেশে নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক উল্লেখ করে মোদির প্রধানমন্ত্রী হতে চাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী।

তবে শুধু তিক্ততাই নয়; নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে বিভেদ ভুলে কাছেও এসেছেন অনেকেই। বিজেপির শীর্ষ দুই নেতা এল.কে আদভানি এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ থাকলেও সম্প্রতি একজন আরেকজনের প্রশংসা করেছেন তারা। মোদির জন্য নির্বাচনী সমাবেশে ভোট চেয়েছেন আদভানি। কম যান না মোদিও। এরইমধ্যে গান্ধীনগরে আদভানির জয় নিশ্চিত করতে কাজ করার জন্য দলের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কাছে এসেছে বিজেপি এবং টিডিপিও। লোকসভা নির্বাচন এবং বিধানসভা নির্বাচনের জন্য অন্ধ্র প্রদেশে টিডিপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে বিজেপি।

সোনিয়া গান্ধীর ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেস নেতা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর ১৯৯৮ সালে দল থেকে সরে যান সরদ পাওয়ার। আর এবার ১৫ বছরের তিক্ততা ভুলে একই মঞ্চে হাজির হলেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি-এনসিপি প্রধান সরদ এবং কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া।

আর এভাবে তিক্ততা আর বিরোধের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত লোকসভা নির্বাচনের জয়ের লাগাম-কে ধরে রাখতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রোব/ফাউ/ডেস্ক/০৬.০৪.২০১৪

৬ এপ্রিল ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ২১:২২:৪০ | ১২:২৭:১৯

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›