A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বিজেপি ভারতের অস্থিতিশীলতার সাথে বাংলাদেশকে জড়াতে চায় | Probe News

mks.JPG

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮০ সালে দল হিসেবে বিজেপির জন্ম। এর মূল সংগঠকরা নানানভাবে রাজনীতিতেই সক্রিয় ছিলেন। বাজপায়ি ছিলেন এই দলের প্রথম সভাপতি। প্রথম দিকে এর বিকাশ আশানুরূপ ছিল না। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি মাত্র দুটি আসন পায়। এই ফল দেখে দলটি তার রাজনীতির ছক কিছুটা পাল্টে নেয়। আদভানিকে দলের সভাপতি করা হয়। একই সঙ্গে সহযোগী সংগঠন হিসেবে প্রথমে বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে দিয়ে ‘রাম জন্মভূমি আন্দোলন’ শুরু করানো হয়। শিগগির বিজেপিও যুক্ত হয় রাম জন্মভূমি আন্দোলনে। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে একটি মন্দির নির্মাণ করা। এই দাবি জনপ্রিয় করার জন্য দেশব্যাপী হিন্দু জাগরণ যাত্রার নানান আয়োজন করা হয়। বিজেপি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে এই আন্দোলনের ফল পায়। ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তারা জেতে ৮৬টি আসনে। উপরন্তু কেন্দ্রে সরকার গঠনেও তারা কলকাঠি নাড়ার সুযোগ পায়। ভিপি সিংয়ের ন্যাশনাল ফ্রন্ট সরকারকে সে সময় বিজেপির সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছিল। ইতোমধ্যে রাম জন্মভূমি আন্দোলনও তীব্র করে তারা। ১৯৯১ সালে আবার জাতীয় নির্বাচন হয় ভারতে। বিজেপির আসন আরও ৩৪টি বেড়ে যায়। স্বভাবত মুসলিমবিদ্বেষের রাজনৈতিক ফলে বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ পুরো সংঘ পরিবার তখন আত্মহারা। দ্রুত তারা পরিস্থিতিকে আরও তাতিয়ে তোলে। এক পর্যায়ে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিজেপি ও সংঘ পরিবারের অন্য সংগঠনগুলো মিলে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে সেখানে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। এরপরই শুরু হয় দেশব্যাপী প্রতিবাদী মুসলমানদের ওপর হামলা ও আক্রমণ। এতে প্রায় এক হাজার মুসলমান মারা যান এবং আহত হন লাখ লাখ। এ সময় সাময়িকভাবে আদভানিসহ অনেক বিজেপি নেতা আটক হন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদও নিষিদ্ধ হয়। কিন্তু সবই ছিল সাময়িক, বরং সাফল্যটিই হয়েছে স্থায়ী। বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রে সফলতার পর বিজেপি ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক সাফল্য পেতে শুরু করে। মসজিদ ধ্বংসের পরের বছরই তারা দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে জেতে। এরপরের বছর জেতে কর্নাটকের নির্বাচন। ১৯৯৬ সালে তারা জাতীয় নির্বাচনে দেশের একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। তারা ১৬১টি আসন পায়। ১৯৯৮ সালে আবার নির্বাচন হয় এবং বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোট কেন্দ্রে সরকার গঠন করে। বাজপায়ি প্রধানমন্ত্রী হন। এভাবে বাবরি মসজিদের ধ্বংস মূলধারার ভারতীয় ভোটারদের কাছে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা কেবল বাড়িয়েই তুলেছে। এরপর থেকে বিজেপি এ গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার জন্য মুসলমানবিরোধী বিদ্বেষই রাজনীতির প্রধান উপজীব্য করে তোলে। এরই এক চূড়ান্ত প্রকাশ ছিল ২০০২ সালের গুজরাট গণহত্যা।
এক হিসাবে দেখা গেছে, সর্বশেষ ছয়টি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল মোট ভোটের যথাক্রমে ২০.১১, ২০.২৯, ২৫.৫৯, ২৩.৭৫, ২২.১৬ ও ১৮.৮০ শতাংশ। গড়ে প্রায় ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ ভোট পায় দলটি। একই সময়ে এটি লোকসভায় আসন পেয়েছে যথাক্রমে ১২০, ১৬১, ১৮৩, ১৮৯, ১৪৪ ও ১১৬টি। গড়ে দলটি আসন পেয়েছে ১৫২টি। অথচ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দুটি নির্বাচনে (১৯৮০ ও ১৯৮৪) বিজেপি ভোট পেয়েছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৭৫ ও ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বরের বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লির ফলে দেখা গেছে, বিজেপি প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এ থেকে অনুমান করা যায়, দলটির প্রতি সমর্থন বাড়ছে।
ভোটের রাজনীতিতে বিজেপির ধারাবাহিক সাফল্যের মূল ম্যাজিকের কথা ইতোমধ্যে আমরা আলোচনা করেছি। এখন দেখা দরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসে দলটি অতীতে ভারতকে কী উপহার দিয়েছে। অর্থাৎ বাজপায়ির নেতৃত্বে এনডিএ জোটের আমলে বিজেপির শাসন ঐতিহ্যটি থেকে আমরা অনুমান করে নিতে পারবো একই দলের নতুন প্রজন্মের প্রধানমন্ত্রী মোদির জমানায় সম্ভাব্য কী ঘটবে।
বিজেপি ও বাজপায়ির নেতৃত্বে ১৯৯৮ সাল-পরবর্তী পাঁচ বছরের শাসন আমলের প্রথম বিশেষত্ব হলো এটিই কোনো অকংগ্রেসী সরকারের পূর্ণ মেয়াদকাল ক্ষমতায় থাকা। ফলে নেহরু পরিবার ও কংগ্রেসের ওপর মনোজাগতিক নির্ভরতা থেকে দেশটিকে মুক্তি দেয়ার কর্তৃত্ব অবশ্যই বিজেপির প্রাপ্য। এ সময়কার ঘটনাবলিকে অর্থনৈতিক, বিদেশনীতি, সামরিক নীতি ও সামাজিক নীতিÑ এ ৪টি প্রধান ধারায় ব্যাখ্যা করলে আমরা দেখতে পাবো
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাজপায়ি পূর্ণ অর্থনৈতিক উদারিকীরণের নীতি নেন। এর প্রধান তরঙ্গ হিসেবে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যÑ সব কিছুর প্রাইভেটাইজেশন শুরু হয়। নেহরু জমানার মিশ্র অর্থনীতির ধারণা থেকে ভারতকে একটানে বের করে নিয়ে আসে বিজেপি। ‘এনডিএ সরকারের প্রথম বছরেই রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ছোট-বড় প্রায় ৮৪ হাজার ফ্যাক্টরি বন্ধ করে Voluntary Retirement Scheme (VRS) কর্মী ছাঁটাই করে দেয়া হয়।’ এ তথ্য দিয়েছেন বিজেপির সহযোগী সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘের সাধারণ সম্পাদক স্বয়ং সম্মুখভাই দেব।
বিদেশনীতির ক্ষেত্রে এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত মিত্রতা গড়ে তোলে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যৌথ স্বার্থের অন্যতম ক্ষেত্র ছিল আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় ‘ইসলামি জঙ্গিবাদ’ নির্মূল। ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের গোপন সম্পর্কের ইতিহাস যদিও বহু পুরনো, তবুও বিজেপি তাকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে এবং ব্যাপকতা দেয়। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি ও মোদির বিজয় মানেই এ সম্পর্ক আরও বিকশিত হবে। বলা বাহুল্য, এর বড় এক অভিমুখ হবে মুসলমানপ্রধান পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। ইসরায়েল-ভারত সম্পর্কের এই বিকাশ বাংলাদেশের জন্য ইতোমধ্যে নতুন বিপদের কারণ হয়ে উঠেছে, বিশেষত যখন দেখা যায় ভারত সীমান্তজুড়ে ইসরায়েলের সামরিক প্রযুক্তি স্থাপন করছে নিরীহ বাংলাদেশিদের ওপর নজরদারির জন্য। এমন নজরদারি দ্রুতই সীমান্তে হত্যালীলা বাড়িয়ে চলেছে।
বাজপায়ির শাসন আমলে সামরিক দিক থেকে বড় দুটি ঘটনা ঘটে ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধ এবং ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো। শেষোক্ত ঘটনার মাধ্যমে ‘পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ’ হিসেবে ভারতকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করে বিজেপি। এটিকে বিশেষ গর্বের এক বস্তু হিসেবে ব্যাপকভাবে মিডিয়ায় প্রচার চালানো হয়। এরূপ সামরিক উন্মাদনার মধ্যেই বিজেপি Prevention of Terrorism Act বা PoTA নামে কুখ্যাত একটি সন্ত্রাস দমন আইন করে নেয়। এর আওতায় ‘সন্ত্রাসী সন্দেহে’ যখন-তখন যে-কাউকে দমন, হত্যা ইত্যাদি করা সহজ হয়ে ওঠে। বাজপায়ির আমলে এরপরই ঘটে গুজরাট গণহত্যা। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে আলোকপাত করেছি। গুজরাট গণহত্যা যে কেন্দ্রের বাজপায়ি সরকার ও গুজরাটের মোদি সরকারের একটি মিলিত ষড়যন্ত্র ছিল, সে বিষয়ে বাজপায়ির সময়কার রাষ্ট্রপতি আর কে নারায়ণ পরে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও বাজপায়ি এই গণহত্যা বন্ধে কোনো উদ্যোগই নেননি, বরং তার সে সময়কার মন্তব্য ছিল আরও উস্কানিমূলক। তিনি বলেন, Wherever there are Muslims, they do not want to live in peace with others. Instead of living peacefully, they want to propagate their religion by creating terror in the minds of others.


বিজেপির বাংলাদেশ নীতি

বর্তমান লেখা প্রকাশের সময় ভারতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতার পূর্ণ এক মেয়াদ (পাঁচ বছর) শেষ করেছে। বাংলাদেশের দিক থেকে এ সময়টি ছিল চরম হতাশাজনক একতরফা বন্ধুত্বের অর্ধদশক। ভারতের তরফ থেকে বাংলাদেশ এ সময় ব্যাপক অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়েছিল। পানির হিস্যা, বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি কোনো বিষয়ে বাংলাদেশের স্বার্থে অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু বছরের পর বছর সীমান্তে বিএসএফ-এর দ্বারা হত্যালীলা জারি ছিল এ সময়।
ধারণা করা হচ্ছে, মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের আমলে ভারতীয় কূটনীতির এ ধারাবাহিকতাই বজায় থাকবে কিংবা তা আরও রূঢ় রূপ নিতে পারে।
এমন অনুমানের ভিত্তি হলো বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গত পাঁচ বছরে বিজেপির বিভিন্ন আচরণ ও নীতি-অবস্থান। যেমনÑ ছিটমহলগুলো বন্দিত্ব থেকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ভূমি হস্তান্তর চুক্তিটি বিজেপির বিরোধিতার কারণেই ২ বছর ধরে লোকসভায় আলোচনার জন্য উত্থাপন করা যায়নি। ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট রাজ্যসভায় বিজেপির নেত্রী সুষমা স্বরাজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিজেপি পুরোপুরি এই চুক্তির বিরোধী। বিজেপির আরেক নেতা ও ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা এই বিরোধিতার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এরূপ বিল পাসের জন্য সংবিধানে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। ফলে সংসদে আমাদের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু চুক্তিটি স্বাক্ষরের আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি বলে আমরা এখন এর পক্ষে সমর্থন দেবো না।’ বিজেপির আসাম শাখা এই চুক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রদেশজুড়ে মিছিল-মিটিংও করে যাচ্ছে। দহগ্রাম-অঙ্গরপোতা যাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে তিন বিঘা করিডর হস্তান্তরেরও তীব্র বিরোধী ছিল বিজেপি। অথচ এই চুক্তির বিনিময়ে ভারত যা পেয়েছে, সে বিষয়ে তারা নীরব।
কেবল এ দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিরোধিতাই নয়, ভারতে সম্প্রতি সংগঠিত সব সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও জঙ্গি তৎপরতার পরই বিজেপির পক্ষ থেকে এর পেছনে বাংলাদেশের (মুসলমানদের) হাত আবিষ্কারও অব্যাহত আছে। ২০১২ সালের আগস্টে আসামে বোড় (Bodos) উপজাতির হাতে প্রায় ১০০ মুসলমানের গণহত্যার পর পরই বিজেপি এ জন্য ‘বাংলাদেশ থেকে আসামে অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের’ দায়ী করে প্রচারণা শুরু করে। অথচ বহুদিন থেকে ভারত সরকার বাংলাদেশ-আসাম সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে। উল্লেখ্য, আসামের ওই ঘটনায় প্রায় ৪ লাখ অসমীয় মুসলমান বাস্তুচ্যুত হন এবং এই আক্রমণের পর পরই সেখানে সফরকারী ভারতের ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনরিটিজ’ (এনসিএম)-এর পক্ষ থেকেও বিজেপির দাবিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করা হয়। বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি ২০১৩ সালের ২ মার্চ দলের কাউন্সিল সভায় সভাপতির ভাষণে বাংলাদেশের উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ভারতের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে। বাংলাদেশিরা এখন আসাম ছাড়াও ত্রিপুরা, মেঘালয়, অরুণাচলে ছড়িয়ে পড়ছে...’
বিজেপি কেবল যে এভাবে তাদের ভূখন্ডের অস্থিতিশীলতার সঙ্গে বাংলাদেশকে জড়াতে চায়, তা-ই নয়Ñ বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে চেষ্টা করে এবং এটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে চায়। ২০১৩ সালের ৭ মার্চ কোনো কারণ ছাড়াই বিজেপির এমপিরা ভারতীয় লোকসভায় সমস্বরে দাবি জানান, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, এতে ভারতের ‘সক্রিয় সাড়া’ দেয়া উচিত। এই বক্তব্য স্পষ্টত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য উস্কানিতুল্য। বিজেপির যে এমপি চন্দন মিত্র সেদিন লোকসভায় ওই বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন, তাকেই ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির সফরসঙ্গী হিসেবে দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশে। ধারণা করা যায়, দলটি যখন কেন্দ্রে আবার সরকার গঠন করবেÑ তখন তার ওই নীতি-অবস্থান দু’দেশের সম্পর্ককে বিষাক্ত করে তুলবে। এরই এক বিপজ্জনক ইঙ্গিত পাওয়া গেল স্বয়ং মোদির সাম্প্রতিক এক ভাষণে। তিনি বলেনÑ

A country (like India] needed to protect not only its citizens but also people of its roots in other countries, he said adding “they may have a passport of different colour but the colour of our blood is the same. We need to protect the people of Indian origins…


ওই একই বক্তব্যে মোদি এও বলেন, ‘আয়তনের বিশালত্বকে ব্যবহার করে’ ভারতের উচিত আশপাশের দেশগুলোকে ‘প্রভাবিত’ করার নীতি নেয়া। বলা বাহুল্য, এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়া সুদূরপ্রসারী এক বিপদের রণধ্বনি শোনাচ্ছে।
এমনিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এখন বিশ্ব পরিসরে আঞ্চলিক উত্তেজনার এক বিপজ্জনক ভরকেন্দ্র হয়ে আছে। এক্ষেত্রে যেখানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উচিত পারস্পরিক বিবাদ মিটিয়ে সমন্বয়বাদী আঞ্চলিক যৌথতার নীতি নেয়া, সেখানে বিজেপির রাজনীতির মনস্তাত্ত্বিক কেন্দ্র দখল করে আছে আশপাশের দেশগুলোর প্রতি অন্ধ বৈরিতা। এটি উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এক স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছে।
সমাপ্ত

৬ এপ্রিল ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১৯:৩১:৫৩ | ১৩:৪৪:০৬

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›