A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

নিষিদ্ধ হলে কী করবে জামায়াত? | Probe News

Bangladesh-Jammat-E-Islami-1.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: নিষিদ্ধ করা হলে জামায়াতের পক্ষে আর প্রকাশ্য রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে না, সেক্ষেত্রে দলের সাংগঠনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে এনজিও-র আদলে সমাজকল্যাণমূলক কাজে মনোনিবেশ করবে সবস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে লিখেছেন আনোয়ার পারভেজ হালিম ও মো. বেলায়েত হোসাইন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার চলছে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের। একই অভিযোগে সংগঠন হিসেবে বিচার চলছে জামায়াতেরও। বিভিন্ন মহল থেকেও দলটি নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে। এভাবে রাজনীতির ময়দানে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে দলটি। শেষ অব্দি যদি নিষিদ্ধ করা হয়, তবে কী করবে জামায়াত? দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিষিদ্ধ হলে তাদের পক্ষে আর প্রকাশ্য রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে না বিধায়Ñ তারা এনজিও-র আদলে সমাজকল্যাণমূলক কাজে মনোনিবেশ করবে।

দলীয় সূত্র মতে, দলের ওপর এ জাতীয় আঘাত আসলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা হবে সে বিষয়ে শীর্ষ নেতারা জেলে যাবার আগেই তা সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন এবং কারাগারে থাকা অবস্থায়ও তারা বিভিন্ন সূত্রে বর্তমান নেতৃত্বকে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে দলের শীর্ষ ফোরামে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যদি জামায়াত নিষিদ্ধ হয়, তবে নাম বদল করে নতুন নামে রেজিষ্ট্রেশন নেয়া হবে। নতুন নাম হতে পারে ‘জাস্টিস পার্টি’। যার গঠনতন্ত্রের খসড়াও তৈরি করা হয় তখন।

সেই সিদ্ধান্তের পর এখনো দল নিষিদ্ধ না হলেও ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে এবং শিগগির রাজনৈতিকভাবেও দলটি নিষিদ্ধ হবে বলে আশংকা করছেন এই দলের নেতা-কর্মীরা। তাদের আরেকটি শংকা চলতি বৈরি ও কোনঠাসা পরিবেশে তারা জাস্টিস পার্টি নামেও কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

জানা যায়, বিগত মেয়াদে সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নিলেও মধ্যপ্রাচ্যসহ কোন কোন ইসলামি রাষ্ট্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই নিষিদ্ধের বিপক্ষে ছিল। নিষিদ্ধ হলে জামায়াত আন্ডার গ্রাউন্ডে চলে যেতে পারেÑ এটাই ছিল সবার অভিমত। সেক্ষেত্রে দেশে ভয়াবহ জঙ্গী উত্থান ঘটতে পারে। এ বিবেচনায় সরকারও কিছুটা পিছু হটে এবং সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে অবস্থান নেয়।

জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার পক্ষ নতুন কৌশল নেয়। দলটির Jamat_48352.jpgঅপেক্ষাকৃত উদার ও আধুনিকমনা কোন কোন নেতাকে প্রস্তাব দেয়া হয়, কারাবন্দী নেতাদের বিচার হলে জামায়াত কলংকমুক্ত হবে, তাই তাদের বাঁচানোর জন্য সহিংস আন্দোলনের পথ পরিহার করতে হবেÑ বিনিময়ে সরকার কেবল মানবতাবিরোধীদের বিচার শেষ করেই ক্ষান্ত হবে, জামায়াতকে আর ঘাটাবে না এবং নতুন নেতৃত্ব দল পরিচালনা করবে। কিন্তু সরকারের প্রস্তাবনা মেনে নেয়নি দলটির কারাগারের বাইরে থাকা সংগঠকরা। তারা এটিকে সরকারের ফাঁদ হিসেবে মূল্যায়ন করেছিল।

জামায়াত সূত্রের দাবি, সরকারের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় চাপের মুখে গুরুত্বপূর্ণ এক নেতাকে দেশও ছাড়তে হয়েছে। তার নামে মিথ্যা মামলাও দায়ে করা হয়েছে। নতুন পরিস্থিতিতে দলটি যে নিষিদ্ধ হবে সে বিষয়ে জামায়াতের অধিকাংশ সংগঠক এখন প্রায় নিশ্চিত।

উল্লেখ্য, গত বছর ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে শাহবাগে আন্দোলন গড়ে তোলে গণজাগরণ মঞ্চ। তাদের দাবির মুখে সরকার ওই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে। এতে ট্রাইব্যুনালের সাজার বিরুদ্ধে সরকার পক্ষকে আপিল করার সুযোগ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচারের বিধান করা হয়। এরই মধ্যে গত বছর ১ আগস্ট হাইকোর্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায়ে একাত্তর সালে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। এ অবস্থায় গত বছরের ১৮ আগস্ট জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।

গত ২৭ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নানা কর্মকা- তদন্ত করে সাতটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর ২০(২) ধারায় অপরাধী ব্যক্তির শাস্তি কী হবে, তা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অপরাধী কোনো সংগঠনের শাস্তি কী হবে, তা বলা নেই। তবে আইনে বলা আছে, অপরাধ প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল যেরূপ মনে করেন, সেরূপ শাস্তি দিতে পারবে। আইনের এ ধারাটির আওতায় ট্রাইব্যুনালের বিচারে দোষী যে কোনো সংগঠনকে শাস্তি দেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ। তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে নজির হিসেবে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের আদেশ অনুসরণ করার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হতে পারে’ ।

এদিকে, সরকারের নির্বাহী আদেশে কিংবা আদালতের রায়ে, যেভাবেই নিষিদ্ধ হোক না কেন, সে অবস্থায় জামায়াত কী ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করলে টিকে থাকতে পারবে, তা গবেষণা করার জন্য দুটি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসালটেন্ট নিয়োগ করেছে দলটি। ওই গবেষণা প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে জামায়াত ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

সূত্র মতে, নিষিদ্ধ হলে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিদায় নেবে জামায়াত। নেতা কর্মীরা প্রচলিত এনজিও-র আদলে সমাজকল্যাণমূলক কাজে মনোনিবেশ করবে। তবে এনজিওর রেজিষ্ট্রেশন নিতে গেলে সরকারের বাধার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে- এ বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় রয়েছে। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন এনজিও গঠনের প্রয়োজন পড়বে না। জামায়াত নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষ পরিচালনায় দেশে বর্তমানে কয়েকশ’ এনজিও সক্রিয় রয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী থাকাকালে দলটির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা বিশেষ আনুকূল্যে অনেক এনজিও-র রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে।

জানা গেছে, সমাজকল্যাণ কাজের মধ্যে চিকিৎসা, শিক্ষা, ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রচারকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। এক্ষেত্রেও দেশে জামাত ঘরাণার অসংখ্য শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

জামায়াতের একজন তাত্ত্বিক প্রোবনিউজকে বলেছেন, ‘নিষিদ্ধ হলে জামায়াত খুব দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন পরিহার করবে। ক্ষমতা বড় কথা নয়। আগে সংগঠনকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। এ কর্মসূচি ৫ বছর এমনকি ১০ বছরের জন্যও হতে পারে’। তিনি মনে করেন, ‘যেহেতু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলমান এবং কোন বাধা না আসলে এ পরিকল্পনা শতভাগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

সমাজকল্যাণ কাজের নেপথ্যেও রয়েছে জামায়াতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। তারা মনে করে, ১০ বছর, ২০ বছর পর হলেও এই সামাজিক সংগঠনই একদিন রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর হবে। একাজে জামায়াত তুরস্কের ‘জাস্টিস পার্টি’কে অনুকরণ করবে বলে জানা গেছে।

তবে সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে কাজ করলেও কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো আগের মতই থাকবে।

জামায়াত সূত্র বলছে, রোজা ও কোরবানি ঈদে সেমাই, খেজুর, চিনি বিতরণ, দুঃস্থদের সহোযোগিতা, গ্রামে গ্রামে ওয়াজ মাহফিল করাসহ নানামুখি সামাজিক কর্মকা- আগের মতই চালিয়ে যাবে তারা। তবে এর আড়ালে চলবে রাজনৈতিক কর্মকা-। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের সকল নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ গ্রহণ করবে এসব সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা। আর পরিস্থিতি বুঝে জাতীয় নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের চেষ্টা চালাবে।

নতুন নাম বা অন্য কোন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে যাওয়ার চিন্তা না করে- এনজিও করার কারণ সম্পর্কে জানাতে প্রোবের মুখোমুখি হয়েছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের এক সদস্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, ‘বর্তমানে মিডিয়ার সতর্ক দৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে অন্য কোন নাম বা কোন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে গিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না জামায়াত। সেখানেও হস্তক্ষেপ করবে সরকার। এ কারণেই রাজনীতি বাদ দিয়ে সমাজকল্যাণ কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে’।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জামায়াতের যেহেতু অর্থসংকট নেই, কর্মীরা যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় অভ্যস্ত এবং দলটির সপক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে, তাই নিষিদ্ধ করা হলেও জামায়াতকে নির্মূল করা সহজ হবে না।
প্রোব/আপা/রাজনীতি/০৫.০৪.২০১৪

৫ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ২০:৫৯:৩৮ | ১৬:২৮:৩১

জাতীয়

 >  Last ›