A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বাসদ ও সিপিবি'র তিস্তা মার্চ | Probe News

Tista march.jpgপ্রোব নিউজ, ঢাকা: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদী তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ‘তিস্তা মার্চ‘ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। রাজধানী থেকে শুরু হয়ে তিস্তা নদী অভিমুখে এ ‘মার্চ’ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।
তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে বাসদ ও সিপিবি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন আয়োজকরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তাবরা বলেন, পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর পরেই বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত চতুর্থ বৃহত্তম আন্তর্জাতিক নদী তিস্তা। ৩১৫ কি.মি. দীর্ঘ তিস্তা নদীর ১১৫ কি.মি. এবং ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ১৭ শতাংশ পড়েছে বাংলাদেশে।
তিস্তার পানি ব্যবহার করে বাংলাদেশে বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও বগুড়া জেলার ৭ লক্ষ ৫০হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়ার লক্ষে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বক্তারা বলেন, ১৯৯৩ সালে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প চালু হয়। এর আওতায় সেচ সুবিধা পায় ১ লক্ষ ১১ হাজার হেক্টর জমি।
কিন্তু উজানের দেশ হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় ভারত পানি সরিয়ে নেয়ায় শুষ্ক মৌসুমে অনেকাংশেই অকার্যকর হয়ে পড়ে তিস্তা ব্যারেজ। প্রমত্তা ও খরস্রোতা তিস্তা পরিণত হয় ধু ধু বালির প্রান্তরে। আবার, বর্ষা মৌসুমে ভারতের অতিরিক্ত পানি ছাড়ার ফলে বাংলাদেশ অংশে দেখা দেয় বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের প্রকোপ।

বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেবে, ঐতিহাসিকভাবে শীত মৌসুমে তিস্তা নদীতে ১৪ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতো। কিন্তু সীমান্তের ৬৫ কিলোমিটার উজানে গজলডোবা ব্যারেজে ভারতের পানি প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশ অংশে পানি প্রবাহ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার কিউসেকে।
খরা পরিস্থিতিতে এ প্রবাহ আরো কমে বর্তমানে সর্বনিম্ন ৫শ’ কিউসেকে দাঁড়িয়েছে। ফলে তিস্তা অববাহিকার ১২ উপজেলার ৬৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানের চারা জমিতে শুকিয়ে যাচ্ছে।
তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে অনেক আলোচনা হলেও, কোন সরকারই পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ-ভারত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে একটি সমঝোতা হয়। এই সমঝোতায় ভারত ৩৯ শতাংশ ও বাংলাদেশ ৩৬ শতাংশ পানি পাবে। বাকি ২৫ শতাংশ পানি বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত তিস্তার গতিপথ বাঁচিয়ে রাখার জন্য কতটুকু প্রয়োজন এবং এটা কিভাবে ভাগাভাগি হবে সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের অনাগ্রহের কারণে ওই সমঝোতা আর কার্যকর হয়নি।
তবে ২০১০ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি তিস্তা পানি বণ্টনের ব্যাপারেও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে বলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আগাম ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আপত্তির অজুহাতে আলোচ্যসূচি থেকে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি প্রত্যাহার করে নেয় ভারত। ফলে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিটি আর স্বাক্ষর হয়নি।
তিস্তার পানির বন্টন নিয়ে ভারতের অসহযোগিতা ও বাংলাদেশ সরকারের নিষ্ক্রিয়তার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায়ের লক্ষে কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এ সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৭ এপ্রিল দেশব্যাপী ‘দাবি দিবস’। ১৭ এপ্রিল বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ এবং সমাবেশ শেষে তিস্তা অভিমুখে যাত্রা ‘তিস্তা মার্চ’, যা শেষ হবে ১৯ এপ্রিল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সিপিবির কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহম্মেদ ও কমরেড জহির হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

প্রোব/মুআ/জাতীয় ০৫.০৪.১৪

৫ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১৬:৪৫:৩৯ | ১৩:২০:৪০

জাতীয়

 >  Last ›