A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মিয়ানমারের জাতিগত উত্তেজনায় এবার জড়িয়ে গেল জাতিসংঘ | Probe News

myanmar-census.jpg

আলতাফ পারভেজ, প্রোবনিউজ, ঢাকা: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানরা স্বীয় জাতিগত পরিচয়ে জনগণনা ও খানা জরিপে [আদমশুমারী] নথিভুক্ত হতে না পারায় দেশটির বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আরাকান তথা রাখাইন প্রদেশে নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে এবং এই উত্তেজনায় মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ জাতিসংঘের বিরুদ্ধে।

প্রায় ৩১ বছর পর গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন এই জনগণনা চলবে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত এবং পুরো শুমারি প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ ও এর অন্যতম অঙ্গসংস্থা জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল [ইউএনএফপিএ] ও সংশ্লিষ্ট রয়েছে।

unfpaদীর্ঘ তিন দশক পর জনগণনা ও খানা জরিপের এই উদ্যোগ নেয়া হলেও দেশটিতে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তা প্রায় দুর্লভ। সে কারণে শুমারি ফর্ম তৈরি ও শুমারি কর্মীদের প্রশিক্ষণে শুরু থেকে জাতিসংঘ ও [ইউএনএফপিএ] পদ্ধতিগতভাবে যুক্ত। শুমারিতে প্রায় সাত কোটি ডলার খরচ হচ্ছে। তার দুই-তৃতীয়াংশেরও অধিক যোগান দিচ্ছে [ইউএনএফপিএ] ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা সংস্থা ডিএফআইডি। তবে শুমারি কার্যক্রম শুরু হওয়া মাত্র সরকারিভাবে জানিয়ে দেয়া হয়, যারাই জাতিগত পরিচয় হিসেবে নিজেদের ‘রোহিঙ্গা’ উল্লেখ করবে তাদের এই গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। ২৯ মার্চ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিই নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে দেশে-বিদেশে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয় এবং এইরূপ একটি বর্ণবাদী গণনা প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের যুক্ত থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক দল ‘ইউনিয়ন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট পার্টি’র তরফ থেকেও জানানো হয়েছে, তাদের সদস্যরা রোহিঙ্গা জাতিগত পরিচয় দিয়ে শুমারি কর্মীদের দ্বারা প্রত্যাখাত হচ্ছে। বিশেষ করে, আরাকানের মংডু ও ভুথিডংয়ের মতো রোহিঙ্গা প্রধান শহরে এর ফলে গণনা কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যর্থ হতে চলেছে এবং জাতিগত উত্তেজনা আরও বেড়েছে কারণ, সরকারের সিদ্ধান্তকে বৌদ্ধরা স্বাগত জানিয়েছে।

[ইউএনএফপিএ] এখন বলছে, সরকার রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে যে অবস্থান নিয়েছে তা মিয়ানমারের নীতিনির্ধারকদের প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ এবং সরকারের এই ভূমিকায় তারা ‘উদ্বিগ্ন’ জাতিসংঘ মিয়ানমার সরকারকে জনগণনায় ‘আন্তর্জাতিক মানদন্ড’ মেনে চলারও আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ বলছে, জাতিসংঘ ও [ইউএনএফপিএ] প্রথম থেকে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন মেনেই এই কার্যক্রমে যুক্ত যে আইন অনুযায়ী মিয়ানমারে ১৩৫টি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী উপস্থিতি রয়েছে বলে মনে করা হয় তবে তাতে রোহিঙ্গাদের নাম নেই। উপরোক্ত তথ্যের আলোকে রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো বলছে, জাতিসংঘ মিয়ানমারের পুরানো জাতিগত উত্তেজনাকে আরও উষ্কে দিয়েছে চলতি গণনা কার্যক্রমের মাধ্যমে। তারা বরাবরই ‘১৩৫টি নৃগোষ্ঠী থাকার’ ধারণাকে একটি অসম্পূর্ণ ও ভুল ধারণা বলেই মনে করে।

সরকারি একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে বর্তমানে মিয়ানমারে ৪০ লাখ মুসলমান রোহিঙ্গা রয়েছে বলে মনে করা হলেও গণনায় তা দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে, যা একদিকে রাখাইন প্রদেশের বৌদ্ধদের উত্তেজিত করে তুলতে পারে বলে সরকার আশংকিত; আবার অন্যদিকে, তা আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের প্রভাব বাড়িয়ে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত দুই বছর ধরে রাখাইন [আরাকান] প্রদেশে মুসলমানদের জানমাল আক্রান্ত হচ্ছে উত্তেজিত বৌদ্ধদের দ্বারা এবং তাতে সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত ২৮০ জন মারা গেছে এবং এক লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাড়ি-ঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গত মার্চে এই প্রদেশের রাজধানী সিত্তউইয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর অনেকগুলো ভবনেও উত্তেজিত বৌদ্ধরা হামলা করে ও ভাংচুর চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়ন সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে মনে করে থাকে বৌদ্ধরা।

আগামী জুলাইয়ে বিতর্কিত চলতি জনগণনা ও খানা জরিপের প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করা হবে এবং ২০১৫ সালে প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত তথ্যাদি। ঐ বছর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের কাজে নতুন শুমারির তথ্যই ব্যবহৃত হবে বলে জানা যায়।

মিয়ানমার সরকার নতুন শুমারিতে দেশের বাইরে অবস্থানকারী নাগরিকদেরও গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষভাবে, থাইল্যান্ডে অবস্থানকারী মিয়ানমারের প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার শরণার্থীও।

রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গাকেন্দ্রিক সমস্যা ছাড়াও কাচিন, শান, কেইন ইত্যাদি প্রদেশ জুড়ে জাতিগত সহিংসতাও চলতি গণনা কার্যক্রমের সফলতা ক্ষুণ করছে বলে জানা গেছে। অনেক স্থানে সহিংস পরিস্থিতির কারণে গণনাকারীদেরও প্রবেশেরই সুযোগ নেই।

প্রায় এক লাখ শিক্ষক এই শুমারি কাজে যুক্ত। শুমারির শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে: ‘জাতীয় শুমারি চলছে চল সবাই অংশ নিই।’ ১৯৮৩ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ শুমারিতে দেশটিতে লোকসংখ্যা গণনাভুক্ত হয়েছিল তিন কোটি ৫৪ লাখ। বর্তমানে দেশটিতে লোকসংখ্যা ছয় কোটি বলে মনে করা হয়।

প্রোব/আপা/দক্ষিণএশিয়া/০৪.০৪.২০১৪

৪ এপ্রিল ২০১৪ | আন্তর্জাতিক | ২১:০৩:৫৯ | ১০:০৩:৪০

আন্তর্জাতিক

 >  Last ›