A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, প্রশাসন নমনীয় | Probe News

Untitled-2 copy.jpg

প্রোবনিউজ, ঢাকা: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগ নেতা সাদ নিহত হওয়ার চারদিন পর শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেক ছাত্রলীগ নেতা রুস্তমকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছাত্রলীগ এ দুটো হত্যাকান্ডের সঙ্গে শিবির জড়িত বলে দাবি করছে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র বলছে, ময়মনসিংহে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাদকে হত্যা করেছে তারই সংগঠনের অপর গ্রুপের কর্মীরা। আর রাজশাহীতে ছাত্রলীগের হল কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রনেতা রুস্তম হত্যার শিকার হতে পারেন বলে ধারনা করছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা।
তবে এ দুটি হত্যাকান্ড ছাড়াও গত পাঁচবছরে সারাদেশের শিক্ষাঙ্গণে সংঘটিত হত্যাকান্ডগুলোকে ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তার এবং ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণতি বলে আখ্যায়িত করেছেন অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতারা। তারা বলছেন, ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস কায়েম করে অন্যদের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো যে তাদের দখলে রয়েছে সেটা জানান দিতেই প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসসহ খুন খারাবির মত ঘটনা ঘটাচ্ছে ছাত্রলীগ। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা যেমন বিঘিœত হচ্ছে, তেমনি তাদের লেখাপড়াও ক্ষতি হচ্ছে।

ru logo.jpgজানাগেছে, মঙ্গলবার ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা সাদ ইবনে মোমতাজকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার সহপাঠী আরেক ছাত্রলীগের নেতা সুজন কুমার কুন্ডুসহ আরো কয়েকজন। কিন্তু ছাত্রলীগ বলছে, সাদ হত্যার সঙ্গে শিবির জড়িত রয়েছে।
অপর ঘটনায় শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী নিজ কক্ষে গুলিতে নিহত হয়েছেন।
জানাগেছে, ঘটনার সময় অন্যান্য ছাত্ররা জুমার নামাযের জন্য মসজিদে অবস্থান করছিল। তারা হলে ফিরে এসে রুস্তমকে নিহত অবস্থায় দেখতে পায়। ছাত্রলীগ বলছে, শিবির গুপ্ত হামলা চালিয়ে রুস্তমকে হত্যা করেছে। তবে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক সুজন নাজির প্রোবনিউজকে জানিয়েছেন, ‘বর্তমানে ক্যাম্পাসে শিবির অবস্থান করছে না’ তিনি আরো বলেন, ‘১০ এপ্রিল ছাত্রলীগের সোহরাওয়ার্দী হল শাখার কমিটি ঘোষণা করা কথা রয়েছে। কমিটি গঠন নিয়েও এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে’।
রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ দুটো হত্যাকান্ড সম্পর্কে ছাত্রফন্টের সভাপতি সাইফুজ্জামান সাকন বলেন, ‘যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করে। ছাত্রলীগের ছাত্র রাজনীতিতে কোন আদর্শ নেই। তারা সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজিকেই আদর্শ মনে করে’।
এ প্রসঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কোন শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না, সে যে সংগঠনেরই হোক না কেন। হত্যাকারী যে দলেরই হোক তাকে খুব দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে’।
গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী প্রোবকে বলেন, ‘ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি হত্যাকান্ডই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ছাত্রলীগের ব্যাপারে নমনীয়।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওযায়েদুল হক নাসির জানান, ‘ছাত্রলীগের নিজস্ব কোন আদর্শ নেই। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস কায়েম করে অন্যদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে তারা’।
সাদ ও রুস্তম হত্যার ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম প্রোবকে বলেন, ‘দুটি হত্যাকান্ডের সঙ্গেই শিবির জড়িত’।
তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউদ্দিন বাবুল বলেন, ‘এই নিহতের সঙ্গে শিবিরের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। ছাত্রলীগ নিজেদের কোন্দলে এই ঘটনা ঘটাতে পারে’।
প্রোব/এহ/জাতীয় ০৪.০৪.২০১৪

৪ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ২০:৪৩:৪৪ | ১৪:৫২:০১

জাতীয়

 >  Last ›