A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

গুজরাট গণহত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় সাত বছর পর | Probe News

mks.JPGগুজরাট গণহত্যার শুরু শবরমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটা বগিতে অগ্নিকান্ডকে কেন্দ্র করে। ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গুজরাটের পাঁচমহল জেলার গোধারা রেল স্টেশনের পাশে উল্লিখিত ট্রেন বগি পুড়ে ৫৮ জন হিন্দু তীর্থযাত্রী মারা যান। তাদের মধ্যে ২৫ নারী ও ১৫ শিশুও ছিল। এ সময় কৌশলে এই মিথ্যা প্রচারণা ছড়িয়ে দেয়া হয় যে, মুসলমানরাই ওই অগ্নিকা- ঘটিয়েছে যেহেতু আশপাশে প্রচুর মুসলমানের বাস এবং বরাবরই গোধারায় সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছিল তীব্র। এর পরপরই গুজরাটজুড়ে মুসলমানদের হত্যালীলা শুরু হয়। এতে দুই হাজারের অধিক মানুষ মারা যায়। হাজারের মানুষ আহত হয় এবং প্রদেশজুড়ে মুসলমানদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে অর্থনৈতিক মেরুদ- ভেঙে দেয়া হয়।
গুজরাটে ট্রেনে আগুন লাগা ও মুসলমানদের পদ্ধতিগতভাবে হত্যার সময় মোদি ছিলেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী। সে সময় বহু আবেদন সত্ত্বেও মোদি প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে হত্যালীলা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অনেক পরে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার সাত বছর পর ২০০৯ সালের এপ্রিলে ভারতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে গুজরাট হত্যালীলা তদন্তে একটি বিশেষ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়। ওই অনুসন্ধান শেষে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে মোদিকে নির্দোষ বলে অভিহিত করা হয় তদন্ত দলের পক্ষ থেকে। তবে ভারতে আজও সুপ্রিম কোর্টের উল্লিখিত তদন্তের নিরপেক্ষতা ও যথার্থতা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক চলছে।
উল্লেখ্য, সাধারণভাবে ভারতে মুসলমান সমাজে দারিদ্র্য, অশিক্ষা ইত্যাদি বহুমাত্রিক যে বিপন্নতা বিদ্যমান এর মধ্যে গুজরাটের মুসলমানরা ছিলেন তুলনামূকভাবে ভালো অবস্থায়। ফলে ভারতজুড়ে নিজ সমাজের উন্নয়নধর্মী অভ্যন্তরীণ নানান উদ্যোগে গুজরাটের মুসলমানরা অর্থনৈতিকভাবে নেতৃত্ব দিতেন। ২০০২ সালের হামলার সময় দেখা গেছে, হাতে মুদ্রিত তালিকা ধরে ধরে আক্রমণকারীরা রাজ্যে মুসলমানদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় আক্রমণ করছে। এর পেছনে যে বিশেষ আর্থসামাজিক বিবেচনা কাজ করেছে, তা সহজেই অনুমেয়। পরবর্তীকালে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাসের পর মাস ধরে এসব তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল।


গুলবার্গ সোসাইটি ম্যাসাকার ও মোদি

২০০২ সালে গুজরাটজুড়ে সেসব হত্যাকা- ঘটে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গুলবার্গ সোসাইটি ম্যাসাকার। প্রদেশটির প্রধান শহর আহমেদাবাদের মুসলমান অধ্যুষিত একটি হাউজিং এলাকা গুলবার্গ। মূলত মুসলিম পরিবারগুলোকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা এবং মারার আগে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ, শিশুদের টুকরো টুকরো করে তা প্রদর্শন ইত্যাদিই ছিল ‘গুলবার্গ সোসাইটি ম্যাসাকার’-এর বিভৎসতার মূল দিক। ৬৯ জনকে হত্যা করা হয় এই ঘটনায়। হতভাগ্যরা একাংশ লোকসভার কংগ্রেসদলীয় সাবেক সদস্য এহসান জাফরির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। তার বাড়ির এক কিলোমিটারের মধ্যে ছিল পুলিশ স্টেশন। মুসলমান হতভাগ্যরা ভাবতে পারেননি, আক্রমণকারীরা এহসান জাফরির বাড়ি বা তার আশপাশের বাড়িতে এসে এ রকম বর্বরতা প্রদর্শন করবে। মামলার বিবরণ থেকে দেখা গেছে, আক্রমণের আগে গুজরাটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জাফরি বার বার যোগাযোগ করেছেন তাকে ও তার আশ্রয়ে থাকা মানুষজনকে রক্ষা করার জন্য। তিনি যাদের কাছে আবেদন করেন, তাদের মধ্যে মোদিও ছিলেন। তদন্তে এও দেখা গেছে, স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে সেদিন প্রায় দেড় শতাধিক পুলিশ উপস্থিত ছিল। কিন্তু হত্যাকা- চলার সময় ওই পুলিশকে তা প্রতিরোধে মোতায়েন করা হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি জাফরি ও তার পাশের ১৮টি বাড়িতে আশ্রয় নেয়া মানুষজনকে আটকিয়ে ধর্ষণ, নির্যাতন ও কোপানোর পর নিহতদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয় প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে। উল্লেখ্য, জাফরি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সুপরিচিত নেতা হওয়া সত্ত্বেও তার হত্যার বিচার আদায়ে দলটি খুব বেশি সক্রিয়তা দেখায়নি। এমনকি গুজরাটের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনগুলোয় তারা ‘হিন্দুরা চটে যাবে’ ভয়ে ২০০২ সালের গণহত্যার বিষয়টি প্রচারণার বিষয় হিসেবে সচেতনভাবে অনুপস্থিত রাখে।
ভারত রাষ্ট্রের মননশীল মানুষের কারো কারো তৎপরতায় নানানভাবেই গুজরাট গণহত্যার প্রসঙ্গ ওঠে আসে। এখানকার হত্যালীলা নিয়ে ২০০৭ সালে ‘পারজানিয়া’ নামে একটি সিনেমাও হয় যদিও ‘আরও হত্যার উস্কানি তৈরি হবে’ বলে গুজরাটের সিনেমা হলগুলো তা প্রদর্শন করেনি। রাহুল ডোলাকিয়া (জধযঁষ উযড়ষধশরধ) ছিলেন ছবিটির পরিচালক। একই ঘটনা উপজীব্য করে তৈরি ২০০৩ সালে নির্মিত রাকেশ শর্মার ডকুমেন্টারি ‘ফাইনাল সলিউশন’ও প্রথম দিকে সেন্সর বোর্ডের অনুমতি পাচ্ছিল না। পরে ব্যাপক জনআন্দোলনের মুখে অনুমতি দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। গুজরাট গণহত্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্য মামলার মতোই ওই ঘটনারও ন্যায্য বিচার হয়নি।
এসব ঘটনা সত্ত্বেও মোদি কোনোভাবেই যে অনুতপ্ত নন, সেটিই উঠে এসেছে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে রয়টার্সের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারে যেখানে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো অপরাধবোধ নেই। আমার সরকার পূর্ণ শক্তিতেই দায়িত্ব পালন করেছে সে সময়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাড়ির নিচে পড়ে একটি কুকুরছানা মারা গেলেও আমার দুঃখ লাগে। সেভাবেই ২০০২ সালের দাঙ্গা নিয়েও আমি দুঃখিত।’ এই বয়ানের মধ্য দিয়ে তিনি পরোক্ষে মুসলমানদের গাড়ির নিচে পড়া কুকুরছানার সঙ্গে তুলনা করেন এবং বুঝিয়ে দেন, ২০০২ সালের ঘটনা কোনো গণহত্যা নয় সচরাচর ভারতে যা হয়, সে রকম এক ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা’ মাত্র এবং কেবল কিছু কুকুরছানা মারা গেছে এতে।
গুজরাট গণহত্যাকালে গুলবার্গ সোসাইটির মতোই আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনাস্থল ছিল ‘বেস্ট বেকারি।’ মুসলমানদের মালিকানাধীন ছোট একটি বেকারিতে ১৪ জনকে পুড়িয়ে মারার সময় আক্রমণকারীরা জানতো না, নিহতদের মধ্যে তিনজন হিন্দু কর্মচারীও রয়েছে।namo.jpg ২০০২ সালের ১ মার্চ ঘটনাটি ঘটে। দ্রুত বিচার শেষে স্থানীয় আদালত ২০০৩ সালে ‘বেস্ট বেকারি মামলা’র সব অভিযুক্তকে খালাস দেয়। পরের বছর সাড়া জাগানো সাপ্তাহিক তেহেলকা গোপনে ধারণ করা এক অডিও-ভিডিওর ভিত্তিতে রিপোর্ট করে দেখায়, বিজেপির বিধায়করা কীভাবে এই মামলার সাক্ষীদের ঘুষ দিয়ে প্রভাবিত করেছেন মিথ্যা সাক্ষী দিতে। এরপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মহারাষ্ট্রের আদালতে পুনরায় মামলাটির বিচার হয়। এতে ২০০৬ সালে ৯ জন অভিযুক্ত যাবজ্জীবন কারাদ-ের শাস্তি পায়। এটি থেকে প্রমাণিত হয়, অন্য মামলাগুলো নিরপেক্ষ স্থানে তদন্ত ও বিচার হলে কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হতো। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, ‘সাক্ষী-প্রমাণ নাই’ অজুহাত দেখিয়ে প্রদেশজুড়ে প্রায় দুই হাজার মামলা খারিজ করে দেয়া হয়েছিল। গুজরাট গণহত্যায় কেবল যে ন্যায্য বিচার হয়নি তা নয়, ভারত রাষ্ট্র ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত লাখো মানুষকে পুনর্বাসনেরও যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। ঘটনার কিছুদিন পর জোর করে শরণার্থী শিবিরগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়। গণহত্যার পর গুজরাট গণহত্যায় ধর্মীয় পরিচয়কে উপজীব্য করে মানুষ হত্যার ব্যাপকতা সম্পর্কে ইতোমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওই সময় কেবল মানুষই মারা হয়নি শত শত মসজিদ-মাদ্রাসা ও দরগার ধ্বংস সাধন হয়েছে। এর মধ্যে অনেকটিই ছিল কয়েক শতাব্দীর পুরনো এবং বহু শ্রদ্ধাভাজন দরবেশদের কবরস্থান। উইকিপিডিয়ার গুজরাট ভায়োলেন্সের ওপর সংকলিত তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় এক লাখ বসতবাড়ি, এক হাজার একশ’ হোটেল, ১৫ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিও ধ্বংস করা হয় সে সময়। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, ঘটনার সময় যাদের আটক করা হয় তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমান। আর আক্রমণরতদের মধ্যে যাদের আটক করা হয়, তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই দ্রুত জামিন পায়। এই গণহত্যার ব্যাপকতা থামার পর স্থানীয় মুসলমানদের জীবনে নেমে আসে আরেক বিপর্যয়। হাজারো মুসলমানকে কর্মস্থল থেকে বিদায় দেয়া শুরু হয়।
নরেন্দ্র মোদি ঘটনার পর পরই কেপিএস গিলকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। এই কেপিএস গিল পাঞ্জাব রাজ্যের সাবেক পুলিশপ্রধান এবং নির্মমভাবে শিখদের খালিস্তান আন্দোলন দমনে ‘সফলতা’র জন্য খ্যাত ছিলেন। গুজরাটে তার নতুন নিয়োগ ছিল মুসলমানদের জন্য সুস্পষ্ট বার্তাবহ। এ সময় বিজেপির ভাতৃপ্রতিম সংগঠন শিবসেনার জাতীয় প্রধান বাল থ্যাকরের বিবৃতি ছিল নি¤œরূপ
‘মুসলমানরা ভারতে ক্যান্সারের মতো... ক্যান্সার একটি দুরারোগ্য ব্যাধি। এটির জন্য অপারেশন লাগে। ওহ! হিন্দুরা, তোমরা অস্ত্র হাতে নাও। তোমার মূল থেকে এই ক্যান্সার উপড়ে ফেলো।’ আরএসএসের আরেক অঙ্গ সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ তোগাড়িয়ার বিবৃতি ছিল এ রকম ‘হিন্দুত্ববিরোধী সবার জন্য মৃত্যুদ- বরাদ্দ হলো।’ হিন্দু পরিষদের তখনকার সভাপতি অশোক সিংগাল-এর মতে, গুজরাটের ঘটনাবলি ‘একটি সফল পরীক্ষা’। এটিকে দেশের অন্যত্র অনুসরণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, মোদির নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কেপিএস গিল পরবর্তীকালে বলেন, মোদির দায়িত্বহীনতায় নয় গুজরাটে হত্যালীলা ঘটেছে সেখানকার পুলিশের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারণে। মোদির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী যে তার দোষ খুজে পাবেন না, সেটিই স্বাভাবিক। তবে তিনি সংক্ষিপ্ত এই মন্তব্যে অন্য একটি গুরুতর সমস্যার দিকেও অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। সেক্যুলার ভারতের পুরো প্রশাসন যে পুরোপুরি মুসলমানবিদ্বেষী রূপ নিয়েছে, বিশেষত পুলিশ প্রশাসন সেটিরই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে বিখ্যাত মুসলমান প-িত আসগর আলি ইঞ্জিনিয়ার দীর্ঘদিন ভারতে গবেষণা করেছেন। তার মতে

গুজরাট পুলিশ আসলে দাঙ্গাকারীদের দুষ্কর্মে সহায়তা করেছে। ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (আইএএস)-এর সদস্যদের ভূমিকাও সে সময় সমালোচনার কারণ হয়েছিল। পুরো প্রশাসন যেন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের কাছে আত্মসমার্পণ করেছিল। এর প্রতিবাদে হর্ষ মান্দার (ঐধৎংয গধহফধৎ)-এর মতো আইএএস কর্মকর্তারা সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ওই কর্মকর্তার মন্তব্য ছিল, দাঙ্গার ১০ দিন আমি গুজরাটে ছিলাম। অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম আমি। আমার আত্মা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। কারণ দায়দায়িত্ব তো আমার মতো মানুষজনের ওপরও বর্তায়। পুলিশকে দেখেছি এমনভাবে ভীতসন্ত্রস্ত মানুষের কাফেলাকে নির্দেশনা দিচ্ছে যাতে তারা নিখুঁতভাবে দাঙ্গাকারীদের হাতে গিয়ে পড়ে।’ কেবল হার্শ মান্দারই নন, এ রকম ভাষ্য আমরা পাবো মহারাষ্ট্রের সে সময়কার পুলিশপ্রধান জুলিয়ো রিবেইরোর মতো অনেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার কাছ থেকেই। গণহত্যার সময় ও পরে গুজরাটের থানাগুলোয় যে সঠিকভাবে এফআইআরও লেখা হয়নি, এর উল্লেখ করেছেন রিবেইরো ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারে এভাবে আক্রমণকারীদের সুনির্দিষ্ট নাম জানা সত্ত্বেও সেখানে লিখে রাখা হয়েছে ‘অজ্ঞাতনামা’ শব্দ। এমন অসম্পূর্ণ এফআইআরগুলোই গণহত্যার জন্য দায়ীদের নির্বিঘে আইনের হাত ফসকে যেতে সাহায্য করেছে।

বহুমুখী এ রকম ষড়যন্ত্রমূলক পরিবেশে গুজরাটের ক্ষতিগ্রস্তরা যে বিচার পাবেন না, তা ছিল অনুমানযোগ্য এবং কার্যত সেটিই হয়েছে। এ নিয়ে যত মামলা হয়েছে, সেগুলো আদালতে গতিহীন হয়ে পড়ে ধীরে ধীরে। উপরন্তু সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা সমাজে হয়রানির শিকার হতে শুরু করেন। যেসব মানবাধিকার কর্মী এই ঘটনার বিচার চাইতেন, তারা ক্রমাগত হুমকির স্বীকার হন। বিশ্ব কাঁপানো এই ঘটনার জাতীয় পর্যায়ে প্রথম বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় ২০০৯ সালে ঘটনার সাত বছর পর।
ইতোমধ্যে গণহত্যার প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন ২-১টি মামলা ছাড়া গুজরাটের মুসলমানরা তাদের আত্মীয়স্বজন ও সম্পদ হারানো এবং নিপীড়িত হওয়ার ভয়াবহতম অভিজ্ঞতার জন্য ব্যাপকভিত্তিক ন্যায়বিচার আজও পাননি। বিশেষত ঘটনাবলিতে যুক্ত রাজনৈতিক দল, রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের সম্পৃক্ততা এখনো শাস্তির আওতায় আসেনি। সবচেয়ে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, গণহত্যা-পরবর্তী নির্বাচনেই মোদির নেতৃত্বে বিজেপি প্রচুর ভোটে গুজরাটে আবার বিজয়ী হয়।

পরবর্তী কিস্তি: লোকসভায় ৫৪৩ সদস্যের মধ্যে মুসলমান মাত্র ৩০ জন

৩ এপ্রিল ২০১৪ | বিবিধ ১ | ১৮:৪৬:০২ | ২০:৫৬:১৯