A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ভারতের ‘আসল রাজধানী’ নাগপুর! | Probe News

mks.JPGগত কিস্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আরএসএসের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে ‘হিন্দুত্ব’র প্রচার ও প্রতিষ্ঠাই বিজেপির রাজনীতিরও মূল বিষয়। পাশাপাশি দারিদ্র্যপীড়িত ভারতে পর্যাপ্ত শোষণ-বঞ্চনা থাকলেও সেসবের চেয়ে বিজেপি স্থানীয় পুঁজিপতি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে আসছে ঐতিহাসিকভাবে। বিশ্বব্যাংক বর্তমানে দারিদ্র্যের যে মানদন্ড অনুসরণ করে (অর্থাৎ দৈনিক ১.২৫ ডলারের নিচে যাদের আয়) সে অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যার ৩২ দশমিক ৭ শতাংশই দরিদ্র। দৈনিক ৫ ডলারের নিচে আয় সেখানকার ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের। নির্দিষ্ট বেতনের চাকুরেদের ক্ষেত্রে উপরতলার ১০ শতাংশের আয় নিচুতলার ১০ শতাংশের আয়ের চেয়ে প্রায় ১২ গুণ বেশি। এক দশক আগে তা ছিল ছয়গুণ বেশি। দেশটিতে দারিদ্র্য বিমোচনের বার্ষিক হার মাত্র শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ। কৃষিখাতে কাঠামোগত সংস্কার চালাতে যেয়ে রুটি-রুজি হারিয়ে ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় আড়াই লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছে। 

এরূপ বিপন্নতা, দারিদ্র্য বিমোচন ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের দিকে নজর দেয়ার চেয়েও বিজেপি, ভিএইচপি, হিন্দু মহাসভা ও সংঘ পরিবারের অন্য সদস্যদের কর্মকান্ড থেকে প্রতিভাত হয় হিন্দুত্ব কায়েমই তারা রাজনীতির প্রধান এজেন্ডা হিসেবে দেখতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যেই মূলত মুসলমানদের ছদ্ম প্রতিপক্ষ বানিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতে ‘বিজয় উদযাপন’ করে চলেছে এ দলগুলো। তাদের এরূপ রাজনীতিরই আদুরে নাম ‘শাইনিং ইন্ডিয়া’ যা একই সঙ্গে ভারতীয় করপোরেটদের প্রধান প্রচারপণ্যও বটে।
বিজেপি যে কেবল নির্বাচন এলেই ইসলামবিদ্বেষ তীব্র করে তোলে তা নয়। তবে নির্বাচনকালেই দলটি এর সব সহযোগী সংগঠনকে নিয়ে পুরো দেশে ইসলামবিরোধী চূড়ান্ত এক মনোবিকার সৃষ্টি করতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হয়। কখনো কখনো এবং কোথাও কোথাও তারা নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ইসলাম ধর্মকেও ব্যবহার করে। তাদের এই কৌশল বেশি দেখা গেছে উত্তর প্রদেশ ও বিহারে। এ দুই প্রদেশে বহু মুসলমানের বাস। উত্তর প্রদেশে লোকসভার আসন রয়েছে ৮০টি ও বিহারে ৪০টি। দুটি প্রদেশেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুমুখী। তাই বিজেপি সেখানে এমন কৌশল নেয় যাতে মুসলমান ভোট কোনো একক দলে কেন্দ্রীভূত না হয়। সারা ভারতে মুসলমানবিরোধী কৌশল নিলেও নির্বাচনের সময় এ দুই প্রদেশে তারা মুসলমানদের ভোট পেতে নানান কৌশলী প্রচারণা চালায়। দল হিসেবে বিজেপি ভারতে Minority ধারণার ঘোরবিরোধী, এমনকি তারা মাইনরিটিমুখী রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধারও বিরোধিতা করে। কিন্তু নির্বাচনকালে উত্তর প্রদেশ ও বিহারে তারা মুসলমান সংখ্যালঘুদের জন্য অশ্রুবর্ষণ শুরু করে। এসব প্রদেশের নির্বাচনী জনসভাগুলোয় তাদের নেতাদের বক্তব্যের বিরাট অংশজুড়ে থাকে ভারত-পাকিস্তান সুসম্পর্কের দাবি! এবারের নির্বাচনেও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এ দুই প্রদেশের দলীয় নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার মধ্যে মুসলমানও আছে মিডিয়ার সামনে এটি প্রমাণ করতে কর্মীদের মধ্যে হাজারো টুপিও বিতরণ করে বিজেপি।

আরএসএসের তৎপরতা : বাংলাদেশ যখন ‘অখ- ভারত’-এর মানচিত্রে

এই লেখায় শুরুতে আরএসএস সম্পর্কে কিছু কথা বলা হয়েছে। তবে ভারতে জঙ্গি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এই সংগঠন সম্পর্কে আরও আলোচনা এ পর্যায়ে প্রাসঙ্গিক। ১৯২৫ সালে আরএসএসের জন্ম। সারা ভারতে এর প্রায় ৪০ হাজার শাখা রয়েছে এখন। ‘শাখা’ হলো এর ভিত্তিস্বরূপ সর্বনিম্ন স্তরের সাংগঠনিক ইউনিট। ২০০৫-০৬ সালে এরূপ শাখার সংখ্যা ৫১ হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সচরাচর ২৩ সদস্য নিয়ে একটি ‘শাখা’ গড়ে ওঠে।
‘হিন্দুদের চরিত্র গঠনের জন্য শিক্ষামূলক একটা উদ্যোগ’ হিসেবে আরএসএসের আবির্ভাব হয়েছিল। তবে শুরু থেকে এটি বিকশিত হয় একটি প্যারামিলিটারি সংস্থা হিসেবে এবং সার্বক্ষণিক মুসলমানবিদ্বেষ নিয়ে। এ দুটি বৈশিষ্ট্যই আবার পরস্পর সম্পর্কিত। মুসলমানদের ‘মোকাবেলা’র জন্য সংগঠনের সদস্যদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দেয় আরএসএস। ‘মুসলমানরা ভারতকে খন্ডবিখন্ড করতে চায়। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং তাদের প্রতি সামান্যতম সহানুভূতি রয়েছে এমন প্রত্যেককেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে’ এমন এক প্রেরণা নিয়েই সক্রিয় প্রত্যেক আরএসএস ‘স্বেচ্ছাসেবক’ তথা ‘ক্যাডার’।
বর্তমানে আরএসএসের প্রধান হচ্ছেন মোহন ভগৎ। ২০০৯ সাল থেকে তিনি এই দায়িত্বে আছেন। আগে ছিলেন কে এস সুদর্শন। শুরু থেকে তার কাজ আক্রমণাত্মক ও বিদ্বেষমূলক হওয়ার কারণে আরএসএস এ পর্যন্ত চারবার নিষিদ্ধ হয়েছে ভারতে। তবে ব্যাপক সামাজিক প্রভাবের কারণে প্রতিবারই কিছুদিন পর এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। অনেকেই জানেন, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ছিলেন আরএসএসের অঙ্গ সংগঠন ‘হিন্দু মহাসভা’র সুপ্রশিক্ষিত সদস্য। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিও তখন চরম দক্ষিণপন্থী ওই সংগঠনেরই সদস্য ছিলেন। গান্ধিকে হত্যার ঘটনার পর ১৯৪৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম নিষিদ্ধ হয় আরএসএস। সে সময় আরএসএসকে নেহরু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাটেল গঠনতান্ত্রিকভাবে প্রতিজ্ঞা করিয়েছিলেন, তারা আর কখনো রাজনীতিতে যুক্ত হবে না বা রাজনৈতিক বিষয়ে নাক গলাবে না। কিন্তু কখনোই সংস্থাটি সে অঙ্গীকার রাখেনি। সর্বশেষ এর প্রমাণ হলো মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী করার জন্য অঙ্গ সংগঠন বিজেপিকে বাধ্য করা।
আরএসএস যে অরাজনৈতিক ছদ্মাবরণে ভারতের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, এর প্রমাণ হিসেবে এখানে দিল্লির সুরুচি প্রকাশনী (এটি আরএসএসের একটি অঙ্গ সংগঠন) থেকে সদানন্দ দমোদরের ‘পরম বৈভব কা পাথ পার’ (চূড়ান্ত গৌরবের পথে, ১৯৯৭) গ্রন্থ থেকে কিছু আলোচনা করা যেতে পারে। সদানন্দ দমোদর নেতৃস্থানীয় আরএসএস সংগঠক। তার দেয়া বিবরণ থেকে দেখা গেছে, এই সংস্থার ৪০টি অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে বিজেপির অবস্থান তৃতীয়। এই গ্রন্থে পরিষ্কার বলা আছে, আরএসএস কেন বিজেপি ও জনসংঘ গঠন করেছিল। কেবল হিন্দুদের মধ্যেই নয়, মুসলমান সমাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্যও এ সংস্থা তার কর্মীদের যে ছদ্মাবরণে মুসলমান সাজায়, সেটিও দমোদর উল্লেখ করেছেন। কেবল তথ্য সংগ্রহই নয়, মুসলমানদের বেশ ধারণ করে হিন্দুদের ওপর হামলার বিষয়েও যে আরএসএস যুক্ত থাকতে পারে, এরূপ সন্দেহ পোষণ করতেন খোদ দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদও।
যদিও প্রকাশ্যে ৪০টি অঙ্গ সংগঠনের কথা স্বীকার করা হয়, তবুও ভারতজুড়ে অন্তত সহস্রাধিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আরএসএস তার ভাবাদর্শিক কাজ চালাচ্ছে বলে প্রচারিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রাম উন্নয়নসহ আর্থসামাজিক সব বিষয়ে আরএসএসের কোনো না কোনো সংগঠন রয়েছে। মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এর সদর দফতর অবস্থিত। তাই কৌতুক করে অনেকে বলেন, ভারতের আসল রাজধানী হচ্ছে নাগপুর।
সাধারণভাবে প্রকাশ্যে স্বীকৃত আরএসএস অনুসারী অধিকাংশ সংগঠনেরই নিজস্ব গঠনতন্ত্র, প্রতীক ইত্যাদি রয়েছে। যেমন বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক হলো পদ্ম (লোটাস)। কিন্তু আরএসএসের প্রতীক হিসেবে দেখা যায় ‘মঙ্গল প্রদীপ’কে। উল্লেখ্য, নাগপুরে আরএসএসের কেন্দ্রীয় দফতর কিংবা অন্যত্র তাদের সব ক্যাম্পে ভারতের যে মানচিত্রটি শোভা পায়, সেখানে বাংলাদেশকে ‘অখন্ড ভারত’-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই দেখানো হয়।


সত্য-মিথ্যার ব্যবধান কমাতে সোশ্যাল মিডিয়ার মোদি ব্রিগেড

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে গুজরাটের ভৌগোলিক বিশেষত্ব বেশ পুরনো। এখানেই জন্মেছিলেন ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টির দুই প্রধান চরিত্র মোহন দাস গান্ধি এবং মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ। একই সঙ্গে গান্ধি ও জিন্নাহর জন্মস্থান হয়ে গুজরাট বৈচিত্র্য, না বিভক্তির প্রতীক হয়ে উঠতে চেয়েছিলÑ তা বিতর্কের বিষয় হলেও মোদির উত্থান গুজরাটকে বিভেদ, জিঘাংসা ও বৈষম্যের রাজনীতির সূতিকাগারে পরিণত করেছে। মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে সম্ভাব্য কী রাজনীতি নিয়ে এগোবেন, তা বোঝার জন্য আমরা তার শাসন সময়ে গুজরাটের দিনগুলোর দিকে দৃষ্টি ফেরাতে পারি সংক্ষেপে। সেক্ষেত্রে তার রাজনীতির তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখবো আমরা 
প্রথমত. হিন্দুদের প্রতি অতীত ভারতে কী কী ‘অন্যায়’ হয়েছে, সেসব নিয়ে কল্পকাহিনী তৈরি ও প্রচার;
দ্বিতীয়ত. অতীত সেই অন্যায়ের প্রতিশোধ হিসেবে এখন মুসলমানদের প্রতি কী কী বৈরিতা প্রদর্শন করা যায়, এর চর্চা;
তৃতীয়ত. ‘উন্নয়ন’ ও ‘অগ্রগতি’র এমন এক অর্থনৈতিক ‘মডেল’-এর বিকাশ ঘটানো যা হবে জবাবদিহিহীনভাবে ‘ব্যবসাবান্ধব’
উপরোক্ত তিন রাজনীতি এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে মোদি বিতর্কহীনভাবে সফল। সফল তিনি প্রচারযুদ্ধ এবং জনসংযোগেও। সোশ্যাল, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় হাজারো কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন মোদি তার ও বিজেপির ‘ভাবমূর্তি’ নির্মাণে। ওই ভাবমূর্তির মূলকথা হলো তাকে চরম পুরুষালি, আগ্রাসী ও অদমনীয় এক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা। ভারতের সমাজে রাজনীতিবিদদের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘অকার্যকর’ যে ভাবমূর্তি রয়েছে, এর বিকল্প হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে ‘বিকাশ পুরুষ’ হিসেবে তুলে ধরতে শতাধিক আরএসএস কর্মী দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। কেবল গান্ধীনগরে বিজেপির আইটি টিমে ৬ হাজার ২০০ তরুণ শ্রম দিয়ে যাচ্ছে মোদির ফেসবুক পেজগুলো আপডেট করার কাজে।
প্রধানমন্ত্রী পদের নির্বাচনী যুদ্ধে মোদির সম্ভাব্য ‘সাফল্য’-এর প্রধান এক হাতিয়ার হলো তার উপরোক্ত গোয়েবলসীয় প্রচার কৌশল। ২০০৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের APCO Worldwide-কে নিয়োগ দেন তার ইমেজ উন্নত করার কাজে। এ প্রকল্পের কাগুজে নাম ছিল Vibrant Gujrat. মূলত মোদির প্রফাইলের শ্রীবৃদ্ধিই ছিল Vibrant Gujrat প্রচারণার আপাদমস্তক। কিন্তু অচঈঙ ডড়ৎষফরিফব-কে এ জন্য প্রতি মাসে ২৫ হাজার ডলার দিতে হয়েছে গুজরাটের রাজ্য তহবিল থেকে।
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদি কীভাবে সত্য-মিথ্যার ব্যবধান কমিয়ে ফেলেছেন এবং এতে কীভাবে ভারতের প্রধান প্রধান মিডিয়াও শরিক হচ্ছেÑ এ পর্যায়ে তার দুটি উদাহরণ তুলে ধরা হলো।

মোদির মিথ্যাচার : এক
২০০২ সালের ২৯ মার্চ মোদির একটি সাক্ষাৎকার ছাপে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেখানে নিম্নোক্ত প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে

প্রশ্ন : মনে হচ্ছে, এখনো গুজরাটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। এর কারণ কী?
উত্তর : ১৮ হাজার গ্রাম আছে গুজরাটে। আপনারা যাকে স্বাভাবিক নয় বলছেন, সে রকম গ্রাম আছে হয়তো ৫০টি। গুজরাটে পৌরসভা শহর আছে ২৪২টি। ৪০টিতে হয়তো অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে।

অথচ এই একই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে স্থানীয় পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের মন্তব্য ছিল এ রকম দাঙ্গায় রাজ্যের ৪৬৪টি থানার ২৮৪টি, বিধানসভার ১৮২টি আসনের ১৫৪ এবং ১৫১টি শহর আক্রান্ত হয়েছে।

মোদির মিথ্যাচার : দুই
টাইমস অব ইন্ডিয়ার উপরে উল্লিখিত সাক্ষাৎকারে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে মোদি নিম্নোক্ত জবাব দেন
প্রশ্ন : অভিযোগ রয়েছে, আপনি বেছে বেছে সেসব পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করেছেন যারা দাঙ্গাকারীদের প্রতি কঠোর ছিল।
উত্তর : ওই সব কর্মকর্তাকে বদলি ও পদোন্নতি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। এগুলো প্রশাসনিক রুটিন ব্যাপার।

এবার দেখা যাক এটা কতটা সত্য। দাঙ্গাকালে সুপরিচিত পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন রাহুল শর্মা। তিনি দাঙ্গার ঠিক দু’সপ্তাহ আগে ২০০২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাভানগরে ডিএসপি হিসেবে নিয়োগ পান। বাভানগরে গণহত্যা নিয়ন্ত্রণে তিনি সর্বোচ্চ সক্রিয় ছিলেন। তারপরও যা ঘটেছে, এক পর্যায়ে এর তদন্তে নামেন তিনি। ঠিক তখনই ২৪ মার্চ তাকে বদলি করে দেয়া হয় আহমেদাবাদে। এভাবে ৩৮ দিনের মধ্যে দুবার বদলি হন তিনি। আহমেদাবাদে পুলিশ কমিশনার একপর্যায়ে রাহুল শর্মাকে গণহত্যা সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেন। ঠিক এর পর পরই ৩ জুলাই তাকে আবার বদলি করা হয়। বলা বাহুল্য, এসব কোনোটিই রুটিন বদলি ছিল না যেমনটি দাবি করেছেন মোদি টাইমস অব ইন্ডিয়ায় তার সাক্ষাৎকারে।

পরবর্তী কিস্তি: গুজরাট গণহত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় ঘটনার সাত বছর পর!

২ এপ্রিল ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১৯:৪৮:৪১ | ১৮:৪৫:৪৫

সম্পর্কিত আরো খবর

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›