A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মোদি মূলত ‘সংঘ পরিবার’-এর প্রার্থী | Probe News

mks.JPGভারতে আরেকদফা জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। আগামী ৩১ মে সেখানে লোকসভা নামে পরিচিত বর্তমান পার্লামেন্টের নিুকক্ষের মেয়াদ শেষ হবে। সামনের নির্বাচন হবে স্বাধীনতার পর দেশটির ১৬তম লোকসভা নির্বাচন। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বিশাল ও সক্রিয় উপস্থিতির কারণে দেশটির যে কোনো বড় রাজনৈতিক ঘটনাই বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশ ও জাতিসত্তার মানুষের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ও মনোযোগ আকর্ষণী। এ কারণে আসন্ন নির্বাচনে দেশটিতে কী ঘটছে, এর অনুসন্ধান জরুরি। ভোটার সংখ্যার বিবেচনায় ভারতের যে কোনো সাধারণ নির্বাচন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোয় ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক অনুশীলন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রায় ৭৫ কোটি ভোটার ভোট দেবেন আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে। কিন্তু ‘গণতান্ত্রিক অনুশীলন’-এর আদলে আসলে দেশটিতে কী ঘটছে, তা সরেজমিন বোঝা দরকার।


ভারতের এবারের নির্বাচনের প্রধান আলোচিত চরিত্র নরেন্দ্র দমোদরদাস মোদি। ভক্তরা তাকে আদর করে ডাকেন NaMo ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে তাকেই প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং নির্বাচন-পূর্ব জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে NaMo-ই ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন যদিও দেশ-বিদেশে তাকে নিয়ে রয়েছে তীব্র বিতর্ক। জরিপের এরূপ পূর্বাভাস কতটা সত্য হবে, তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও বিজেপি যে নির্বাচনে ভালো করবে সেটি সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনগুলো থেকে স্পষ্ট। ২০১৩ সালের সর্বশেষ চারটি বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লীতে বিজেপির আসন বেড়েছে ৮টি; রাজস্থানে বেড়েছে ৮৪টি; মধ্যপ্রদেশে বেড়েছে ২২টি। কেবল ছত্রিশগড়ে তাদের একটি আসন কমেছে। আর বিজেপির বাড়তি ভোট ও আসনপ্রাপ্তি মানেই মোদির জয়। তিনিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজেপি-র প্রচারযুদ্ধে। ইতোমধ্যে পার্লামেন্টারি এই নির্বাচনটি প্রেসিডেনশিয়াল ধাঁচের নির্বাচনে রূপান্তর করে নিয়েছেন তিনি।

মোদি বর্তমানে পশ্চিম ভারতের গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। প্রদেশটিতে চতুর্থবারের মতো তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও গুজরাটে লোকসভার আসন রয়েছে মাত্র ২৬টি, তবুও গুজরাট শাসন করার ক্ষেত্রে ‘সফলতা’ ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রিত্বে তার দাবিকে শক্তি জুগিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী পদের মনোনয়নে বিজেপিতে এল. কে আদভানিসহ সিনিয়র অন্যদের যে তিনি ডিঙিয়ে যেতে পেরেছেন, এর পেছনে রয়েছে মুসলমানবিদ্বেষী রাজনীতিতে তার লাগাতার সাফল্য, বিশেষ করে গুজরাটে মুসলমানদের নিপীড়নের ক্ষেত্রে তার সফল নেতৃত্ব।

রাজনীতিতে বরাবরই মোদির মূল শক্তিভিত হলো আরএসএস। এর মাধ্যমেই তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ও বিকাশ। ভারতজুড়ে হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠাই আরএসএসের ঘোষিত রাজনীতি ও দর্শন। অভিযোগ রয়েছে, ২০০২ সালে গুজরাট রাজ্যে মুসলমানদের ওপর ব্যাপক গণহত্যায় নেতৃত্ব দিয়ে মোদি আরএসএসের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেন। তবে গুজরাটের ‘অর্থনৈতিক সাফল্য’-এর প্রচারণাও নির্বাচনী রাজনীতিতে তার এক বড় হাতিয়ার। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সেখানকার কিছু আপাত সফলতাকে মোদি চরম সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। এছাড়া ভারতজুড়ে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ রক্ষা ও চর্চায় রাজনৈতিক দল হিসেবে কংগ্রেসের পিছু হটাও সংঘ পরিবার, বিজেপি এবং মোদিকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে। বর্তমান লেখায় ভারতের লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষ্য করে বিজেপি ও মোদি উত্থানের উপরোক্ত রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক পটভূমিগুলো তুলে ধরা হয়েছে এবং ‘গণতান্ত্রিক অনুশীলন’-এর আড়ালে দক্ষিণ এশিয়ায় হিন্দুত্ববাদের অগ্রযাত্রা সাধারণভাবে সবার ও সুনির্দিষ্টভাবে মুসলমানদের জন্য কী পরিণতি বয়ে আনতে পারে, তাও বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে।

মোদির জীবন : আরএসএসের গোপন প্রচারক হিসেবে শুরু

মোদির জন্ম ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের ভাদনগরে। তার বাবা দমোদরদাস মুলচান্দ মোদি ছিলেন মুদি দোকানদার। জীবনের শুরুতে মোদিও ভাইদের নিয়ে গুজরাটের প্রধান শহর আহমেদাবাদে একটি চায়ের দোকান চালাতেন স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে। এরপর চাকরি করেছেন গুজরাট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের স্টাফ ক্যান্টিনে। ছাত্র হিসেবে তিনি ছিলেন গড়পড়তা। তবে তার্কিক হিসেবে ছিলেন নজরকাড়া। এ যোগ্যতা ব্যবহার করেই তিনি আরএসএসের পূর্ণকালীন ‘প্রচারক’-এর কাজ নেন। সংঘ পরিবারের হয়ে গোপনে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাপূর্ণ লিফলেট বিতরণই ছিল ‘প্রচারক’ হিসেবে তার দায়িত্ব। বিশেষত ইন্দিরা গান্ধীর শাসন আমলে ‘জরুরি অবস্থা’কালে (জুন ১৯৭৫ থেকে মার্চ ১৯৭৭) তিনি ঝুঁকিপূর্ণ নানান প্রচারণায় সফলতা দেখান এবং এ প্রচারকের কাজ করা অবস্থায়ই গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করেন।

মোদির রাজনীতির প্রধান দুই পণ্য: ইসলামবিদ্বেষ ও করপোরেট প্রীতি

ভারতের রাজনৈতিক পরিম-লে আরএসএসের আরেক নাম হলো ‘সংঘ পরিবার’ এই পরিবারে পূর্ণকালীন কর্মী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায়িত্ব পাওয়ার দু’বছর পর নির্বাচিতদের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। মোদিও রাজনৈতিক জীবনের তৃতীয় বছরে মহারাষ্ট্রের শীতকালীন রাজধানী নাগপুরে আরএসএসের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেন। এরূপ প্রশিক্ষণের পর মোদির দায়িত্ব পড়ে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন ‘অখিল ভারত বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)’-এর গুজরাট শাখায় কাজ করার। আরএসএসের সঙ্গে কাজের সূত্রেই, বিশেষত নাগপুরে প্রশিক্ষণের সময় মোদির সঙ্গে পরিচয় হয় জনসংঘ নেতা গজেন্দ্রগাটকর ও নাথালাল জগদ্ধ-এর। তারাই ১৯৮০ সালে গুজরাটে বিজেপির গোড়াপত্তন করেন।

১৯৮৭ সালে মোদিকে আরএসএস সরাসরি গুজরাট বিজেপিতে ঠেলে দেয় কাজের জন্য। এ সময় স্থানীয় বিজেপির নেতৃত্বে আসীন ছিলেন শংকর সিং ভাগেলা ও কেসুভাই প্যাটেল। মোদি অল্পদিনের মধ্যে তাদের পেছনে ফেলে দেন মূলত মনোহর যোশীর ‘একতাযাত্রা’য় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার মধ্য দিয়ে। দু’বছরের মাথায় তিনি গুজরাট বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ১৯৯৫ সালে গুজরাট বিধানসভার নির্বাচনে মোদির প্রণীত কৌশল দলের জন্য বিশেষ কার্যকর প্রমাণিত হয়। ওই বছরই প্রথম এ রাজ্যে কংগ্রেসের টানা শাসনের অবসান হয়। মোদি শিগগির বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হন। দিল্লিতে চলে আসেন তিনি। সেখান থেকে হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশে দলের কাজ তিনি দেখাশোনা করতে থাকেন।

১৯৯৮ সালে বিজেপির ন্যাশনাল সেক্রেটারি হন মোদি। এ সুযোগে তিনি ১৯৯৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গুজরাটে ভাগেলার অনুগতদের বাদ দিয়ে কেসুভাই প্যাটেলের অনুসারীদের সামনে নিয়ে আসেন এবং তার এই সাংগঠনিক কৌশল দলের জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়। কিন্তু প্যাটেল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সফল ছিলেন না। শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এ সময় বিজেপি উপনির্বাচনগুলোয় হারতে থাকে। সর্বশেষ ২০০১ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে প্যাটেল প্রশাসন ছিল ব্যর্থ। কেন্দ্রীয় বিজেপি গুজরাটের জন্য একজন বিকল্প মুখ্যমন্ত্রী খুঁজতে থাকে। মোদি সেই মনোনয়ন পান ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর। দলে তার এই উত্থানে বরাবর সবচেয়ে বেশি সহায়তা দিয়ে গেছেন এল কে আদভানি। মোদি ২০১৩ সালে এসে স্বয়ং আদভানিকে দলের ভেতরে কোণঠাসা করে প্রধানমন্ত্রী পদে তার দাবি প্রতিষ্ঠা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী হয়ে করপোরেটদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী গুজরাটে প্রাইভেটাইজেশন শুরু করেন ও সরকারের আয়তন কমানোর উদ্যোগ নেন মোদি। এটি ছিল আপাতদৃষ্টিতে আরএসএসের অর্থনৈতিক দর্শনের বিরোধী। আরএসএস সাধারণভাবে প্রাইভেটাইজেশন ও বিশ্বায়নে উৎসাহী নয়। তা সত্ত্বেও আরএসএস ও বিজেপি মোদির ভাবমূর্তি নির্মাণে সর্বোচ্চ উদ্যমে সচেষ্ট থেকেছে প্রধানত ২০০২ সালের গুজরাট গণহত্যায় অতি দক্ষিণপন্থী ভূমিকার কারণে। উল্লেখ্য, প্রদেশটিতে হিন্দুদের সংখ্যা ৮৯ এবং মুসলমান ৯ শতাংশ। প্রায় ৬ কোটি মানুষের বাস এ প্রদেশটিতে।

বিজেপি, আরএসএস ও জনসংঘ : একই বৃন্তের ফুল

আগেই বলা হয়েছে, আরএসএসের আরেক নাম ‘সংঘ পরিবার’ আরএসএস হলো এই পরিবারের ভিত্তি সংগঠন। কেশব বালিরাম (উৎ. কবংযধা ইধষরৎধস ঐবফমবধিৎ) সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার অনুপ্রেরণা ছিলেন সাভারকর, অরবিন্দ, বিবেকানন্দ প্রমুখ। সদস্য, অর্থ-বিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তিতে আরএসএস কালক্রমে এত বিরাট হয়েছে যে, ধীরে ধীরে এর নেতৃত্ব বিভিন্ন লক্ষ্যে একের পর এক নানান সংগঠনের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৬০ সাল থেকে মূলত এই প্রবণতার শুরু। সংঘ পরিবারের প্রতিটি সংগঠনের ব্যবস্থাপনা স্বতন্ত্র হলেও সবটিরই আদর্শ সরাসরি ‘হিন্দুত্ব’ কায়েম। সবাই তারা ঐরহফঁঃাধ মুভমেন্টের কর্মী। এরূপ সংগঠনের সংখ্যা অগণিত এবং কেবল রাজনীতির পরিমন্ডলেই তা সীমাবদ্ধ নেই। বহির্বিশ্বে পরিচিতি রয়েছে কেবল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোরই।

উল্লেখ্য, ‘ঐরহফঁঃাধ’ ধারণার জন্মদাতা বিনায়েক দমোদর সাভারকর (২৮ মে ১৮৮৩-২৬ ফে. ১৯৬৬)। ১৯২৩ সালে তিনি এই ধারণার প্রচার শুরু করেন। হিন্দু মহাসভার সভাপতি ছিলেন সাভারকর। ভারতকে ‘হিন্দুরাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম প্রস্তাবক ও তাত্ত্বিক। গান্ধী হত্যার পেছনকার ষড়যন্ত্র খুজতে ১৯৬৬ সালে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি জিভানাল কাপুরের নেতৃত্বে এক সদস্য বিশিষ্ট যে কমিশন হয়েছিল ভারতে তাতে এই হত্যার সাথে সাভারকরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল; তারপরও অবশ্য সাভারকর মামলা থেকে খালাস পান। সারাজীবন চরম সাম্প্রদায়িকতার দর্শন প্রচার করলেও ‘সেক্যুলার ভারত’-এ তিনি আজও বিশেষ সম্মানিত আন্দামানে তাঁর নামে একটি বিমানবন্দরও রয়েছে।

বলাবাহুল্য, বিজেপি ও আরএসএসের রাজনীতিতে সাভারকর বিশেষ পূঁজণীয়। তবে আরএসএস-এর প্রথম রাজনৈতিক শাখা বিজেপি নয় জনসংঘ। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর জনসংঘের জন্ম। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আর বলরাজ মোদক ছিলেন জাতীয় সম্পাদক। নেহরুর মন্ত্রিসভায় শিল্পমন্ত্রী ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। সেই সূত্রে বলা যায়, বিজেপি-জনসংঘ পরিবারের রাজনৈতিক উত্থান মূলত কংগ্রেসের ভেতর থেকেই। জনসংঘ তার নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছিল আরএসএসের প্রতীক ‘মঙ্গল প্রদীপ’ ভাবাদর্শের ক্ষেত্রেও জনসংঘ ছিল আরএসএসের মতোই হিন্দুত্বের প্রচারক। অধিকাংশ সংগঠকও এসেছিলেন আরএসএস থেকেই। ভারতকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের আলোকেই পরিচালিত করতে চাইতেন তারা। তবে প্রথম দিকে তাদের প্রতি জনসমর্থন ছিল ক্ষীণ। ১৯৫১ সালের প্রথম লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ৩৬৪ আসনের বিপরীতে জনসংঘ মাত্র তিনটি আসন পায়। এর মধ্যে দুটিই ছিল পশ্চিমবঙ্গে। ১৯৫৩ সালে (২৩ জুন) শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুর পর দিনদয়াল উপাধ্যায় সংগঠনটির হাল ধরেন। তার হাতেই উন্মেষ ঘটে অটল বিহারি বাজপায়ি ও এল কে আদভানির মতো নতুন নেতৃত্ব পরবর্তীকালে যাদের দেখা গেছে বিজেপির নেতৃত্ব দিতে। গোয়ালিয়রে জন্ম নেয়া বাজপায়ি এবং করাচিতে জন্ম আদভানি উভয়েরই রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় প্রধানত জনসংঘ থেকেই।

১৯৭৭ সালে জনসংঘ লোকদলসহ ছোট ছোট কয়েকটি দল নিয়ে গঠন করে জনতা পার্টি এবং মোরারজি দেশাই-এর নেতৃত্বে কেন্দ্রে প্রথম অ-কংগ্রেসী সরকার গঠন করেছিল তারা। বাজপায়ি, আদভানি প্রমুখ তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন। ১৯৮০ সালে এই দল ভেঙে যায় এবং মূল অংশ ‘ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)’ গঠন করা হয়। তবে জনসংঘ নামে পৃথক একটি রাজনৈতিক সত্তা এখনো সক্রিয় এবং বিজেপির পাশাপাশি তারাও ‘সংঘ পরিবার’-এর সদস্য হিসেবেই বিবেচ্য।
ইতোমধ্যে ১৯৬৪ সালে জনসংঘের ধর্মীয় শাখা ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)’-এর গোড়াপত্তন হয়। সেক্ষেত্রেও উদ্যোগী ভূমিকায় ছিল আরএসএস। ভিএইচপি-র ঘোষিত ও লিখিত লক্ষ্য হলো :‘to organize, consilidate the Hindu socity and to serve, protect Hindu Drama.’ কেশবরাম কাশিরাম শাস্ত্রী ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বর্তমানে কার্যকরী সভাপতি হলেন প্রবীণ তোগাড়িয়া। ভিএইচপি ‘হিন্দু ধর্ম’ বলতে ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্ম ছাড়া ভারতীয় অন্যসব ধর্মকে বুঝিয়ে থাকে। তারা মনে করে সংগঠন হিসেবে ভিএইচপির দায়িত্ব হলো ভারতীয় সব ধর্ম একত্র করে মুসলমান ও খ্রিস্টানদের মোকাবিলা করা। সমকালীন ভারতে ভিএইচপির বড় সাফল্য হলো বাবরি মসজিদ ভাঙার ক্ষেত্রে নেতৃত্বদান। এ বিষয়ে এই লেখার পরবর্তী এক অধ্যায়ে বিশেষ আলোচনা রয়েছে। উল্লেখ্য, মুসলমান ও খ্রিস্টানদের পর ভিএইচপির কালো তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে কমিউনিস্টরা।

প্রোব/পার/কলাম/০১.০৪.২০১৪

(পরবর্তী কিস্তি: ভারতের আসল রাজধানী নাগপুর!)

১ এপ্রিল ২০১৪ | বিবিধ ১ | ২১:৫১:০৮ | ২০:৫৬:৪৪