A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব মোদির জন্য কাঁটা হয়ে উঠতে পারে | Probe News

modi Lead.jpgসুতীর্থ গুপ্ত, ভারত থেকে: নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই ভারতবাসীর সামনে মোদীকে ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরার জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি যে প্রয়াস নিয়েছিল তার সুফল অবশ্য তারা পেয়েছেন। একসময়ের চা-ওয়ালা, পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচারক নরেন্দ্র দামোদরভাই মোদীকে নিয়েই এখন দেশের সর্বত্র আলোচনা।
কোথাও মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর জনতা, কোথাও মোদী আতঙ্কে ত্রস্ত জনতা। এই দুই বৈপরিত্যের কথা আগাম জানা সত্ত্বেও গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার জন্য আগেই ছক কষার কাজটি সেরে ফেলেছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের কট্টর হিন্দুবাদী নেতারা। তাদের প্রচারককে দেশের সর্বোচ্চ আসনে বসানোর সুযোগ তাদের সামনে এনে দিয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সার্বিক ব্যর্থতা।
গত পাঁচ বছরে ইউপিএ জোটের শাসনে যেভাবে কেলেঙ্কারির পর কেলেঙ্কারি হয়েছে তাতে মানুষ ক্ষুব্ধ। নীতিহীনতার পাঁকে ঘুরপাক ঘেয়েছে সরকার। দুর্ণীতির বিরুদ্ধে সরব মানুষ কংগ্রেসের নাম শুনলেই মুখ বিকৃত করছেন। এছাড়া রয়েছে অ্যান্টি ইনকামবেন্সি হাওয়া। স্বাভাবিভাবেই নির্বাচনের এই অনুকুল হাওয়ায় বিজেপি মোদীকে নিয়ে প্রচারের হাওয়া তুলতে পেরেছে। পথে ঘাটে এখন মোদীকে নিয়ে বিস্তর আলোচনা। এমনকি যেসব রাজ্যে মোদীর দলের কোনও প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা নেই সেই সব রাজ্যেও মোদীকে নিয়ে বিস্তর তর্ক-বিতর্ক চলছে প্রতিদিনই। তবে মোদীকে নিয়ে এই উন্মাদনা নির্বাচন পর্যন্ত স্থায়ী হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
jaswant-singh.jpgমোদী হাওয়ার রথে চড়ে বিজেপির একাংশ ক্ষমতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেও মোদীর একনায়কতন্ত্র নিয়ে শঙ্কিত বিজেপির নেতারাই। দলের নির্বাচনী কমিটির প্রধান হিসেবে নরেন্দ্র মোদীকে দায়িত্ব দেবার পর থেকে নির্বাচনে সাতদিন আগে পর্যন্ত বিজেপিতে সব কিছুই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে মোদীরই অঙ্গুলি হেলনে।
দলের সভাপতি রাজনাথ সিং সংঘ পরিবারেরনির্দেশে মোদী ভজনাতেই আপাতত নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। আর তাই দলের প্রবীন নেতাদের নিয়ে মোদী যেভাবে ছিনিমিনি খেলছেন তা নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ ধুমায়িত হচ্ছে। অবশ্য এক বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, গুজরাটে মোদীর শাসনেও এই একনায়কতন্ত্রের ঝোঁক এতটাই প্রবল ছিল যে, তার বাইরে আর কোন মন্ত্রীর নাম খুব একটা কেউ জানেন না। জাতীয় রাজনীতিতেও মোদীর সেই ঝোঁক পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে । ফলে বিজেপির মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব মাঝে মাঝেই প্রকাশ্যে এসে পড়ছে।
বিজেপিকে এক সময় সুদিন দেখিয়েছিলেন যে লালকৃষ্ণ আদভানি তিনি এখন দলের মধ্যে প্রায় পেছনের সারিতে। দলের এক সময়ের লৌহমানব যে ভেঙ্গে পড়েন নি সেটা বোঝাতে তিনি মাঝে মাঝেই সমালোচনার রাশ খুলে দিচ্ছেন। বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে হিটলার বলতেও পিছপা হন নি। আবার দলের সভাপতির কাজ নিয়েও সমালোচনার ঝড় তুলেছেন তিনি সোস্যাল নেটওয়াকিং সাইটে। বিজেপির বর্তমান নেতৃত্ব যে আদভানিকে উপেক্ষা করছেন তা স্পষ্ট হয়েছে তার মত নেতার নাম দলের প্রার্থী তালিকার প্রথম তালিকায় জায়গা না পাওয়ায়। শুধু তাই নয় আদভানী তার পছন্দের ভোপাল আসনও আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন মোদীর একগুয়েমির কাছে। শেষপর্যন্ত মোদীর ইচ্ছে অনুযায়ী সংঘ পরিবারের মধ্যস্ততায় আদভানিতে গান্ধী নগরে লড়াই করতে বাধ্য করা হয়েছে।
আর এই উদাহরণ দিয়েই বিজেপির সহযোগী পার্টি শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে দলের মুখপত্রে লিখেছেন, বিজেপিতে মোদী যুগ শুরু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাই বলে আদভানি যুগের ইতি ঘটেছে বলে মনে করা ঠিক নয়। শুধু আদভানিই নয়, দলের অনেক প্রবীণ নেতাদের প্রতিই বিজেপির বর্তমান নেতৃত্ব উপেক্ষাই দেখিয়ে চলেছেন।
তাই মুরলি মনোহর যোশির মত নেতাকে নিজের বারানসি কেন্দ্র থেকে সরানোর আগে কোনও কথাই বলা হয় নি। একইভাবে দীর্ঘদিনের বিজয়ী সাংসদ লালজি ট্যান্ডনকে লক্ষ্মৌ আসন থেকে সরানোর আগে সামান্য পূর্বাভাসও দেওয়া হয় নি। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিজেপির যশবন্ত সিংকে তার পছন্দের মত আসন তো দেওয়া হয়ই নি এমন কি তাকে প্রার্থীও করা হয় নি।
Rajnath-Singh.jpgদলের নেতাদের এই ঔদ্ধত্যের জবাব দিতে যশবন্ত সিং তার পছন্দের কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে বিজেপির প্রার্থীর বিরোধতিায় সামিল হয়েছেন। এজন্য অবশ্য যশবন্তকে দল ছয়বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে। অবশ্য বহিষ্কারের আগেই দলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে যশবন্ত বলেছেন, বিজেপিতে এখন স্পষ্ট বিভাজন। দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত দল। একটি গোষ্ঠী হল আসল গোষ্ঠী। অন্য গোষ্ঠী হল নকল। ডুপ্লিকেট এই গোষ্ঠীতে অবস্থান করছেন, সদ্য দলে ভেড়া বহিরাগতরা। তারাই এখন দলে রাজত্ব করছে।
গত একমাসে বিজেপিতে এমন অনেক ব্যক্তিকে স্বাগত জানানো হয়েছে যাদের সঙ্গে বিজেপির নীতি বা মতের কোনও মিল নেই। দুইজন কুখ্যাত ব্যাক্তিকে মোদীর ইচ্ছায় দলে নিয়ে পরের দিনই দলে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় দল থেকে বাদ দিতে হয়েছে। এদেরই একজন বিহারে নীতিশ কুমারের দল থেকে আসা সাবির আলিকে বিজেপিতে নেওয়া নিয়ে বিজেপির দীর্ঘদিনের সংখ্যালঘু মুখ মুকতার আব্বাস নকভি সোস্যাল নেটওয়াকিং সাইটে এজন্য দলের সমালোচনা করে লিখেছিলেন, এরপর হয়তো দাউদ ইব্রাহিমকেও বিজেপির সদস্যপদ দেওয়া হবে।
সাবি আলির বিরুদ্ধে নকভির প্রধান অভিযোগই ছিল ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন নেতা ইয়াসিন ভাটকলের ঘনিষ্ট তিনি। ইসলামি জঙ্গীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। এরপরই সাবির আলিকে দেওয়া দলের সদস্য পদ খারিজ করতে বিজেপি দ্বিধায় ছিল। কিন্তু এবারও সংঘ পরিবারের হস্তক্ষেপে তার সদস্যপদ খারিজ করা হয়। আসলে বিজেপির মধ্যে অনৈক্য যে চোরাবালির মত অবস্থান করছে তা মাঝে মাঝেই বিদ্রোহের আকারে বেরিয়ে আসছে। কিছুদিন আগেই বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজ যেভাবে কর্ণাটকে খনি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেলঘাটা একজন কলঙ্কিত ব্যাক্তিকে প্রার্থী করা নিয়ে প্রকাশ্যে দলের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন তাতে দল অস্বস্তিতেই পড়েছে।
আবার বিদ্রোহী যশবন্তের পক্ষে উমেদারি করেও সুষমা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, দলে সব ঠিকঠাক চলছে না। ফলে শেষপর্যন্ত মোদী হাওয়া সত্যি সত্যিই বিজেপিকে দু শ’র উপরে টেনে নিয়ে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে বিজেপির মধ্যেকার একটি অংশের সংশয় রয়েছেন। মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি যদি অপ্রত্যাশিত ফল করে তাহলে সব বিরোধীতাকেই তিনি সংঘ পরিবকারের সমর্থনে উড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন। তা না হলেই বিজেপিতে নতুন করে নেতৃত্ব নিয়ে বিদ্রোহ দেখা দেওয়া অসম্ভব নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
অনেকের ধারণা, বিজেপির একসময়ের লৌহমানব’ আদভানি সেই সুযোগের অপেক্ষায় ঘাপটি মেরে বসে রয়েছেন ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। আর তখন তার অনুগত বলে পরিচিতরাও এসে জড়ো হবেন তার পাশে। তবে সংঘ পরিবার যেভাবে তাদের এক সময়ের প্রচারককে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসানোর জন্য সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছে তাতে সেক্যুলার জনতা যেমন সংশয়ে রয়েছে তেমনি প্রবল আতঙ্কে রয়েছে সংখ্যালঘুরাও।
প্রোব/এসজি/সাউথএশিয়া/০১.০৪.২০১৪

১ এপ্রিল ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ২০:৫৯:৫১ | ১১:৩৩:৩৩

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›