A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

হিযবুত তাহরির-এর প্রধান মহিউদ্দীনের জামিন! | Probe News

hizb_ut_tahrir2.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরির-এর প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দীন আহমেদ সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। সংগঠনটির প্রায় ৫০ কর্মী- সমর্থক এখনও বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন। হিযবুত তাহরির-এর একাধিক কর্মী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মহিউদ্দীন আহমেদ জামিনে মুক্ত হলেও তিনি তার কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এ যোগদানের অনুমতি পাননি। তিনি এ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর সরকার হিযবুত তাহরির নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে মহিউদ্দীনকে আর কর্মস্থলে দেখা যায়নি। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন তাও জানেন না এ বিভাগের কেউই।
তবে সম্প্রতি কর্মস্থলে যোগদানের অনুমতি চেয়ে মহিউদ্দীন আহমেদ আইবিএ-র পরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। পরিচালক ওই চিঠিটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইবিএ’র পরিচালক প্রফেসর ইকবাল আহমেদের সচিব মঞ্জুরুল হক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইবিএ’র একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, ‘সরকার হিযবুত তাহরির নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর সিন্ডিকেটের একসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহিউদ্দীন আহমেদকে বাধ্যতামূলক ছুটি প্রদান করা হয় । আমার জানা মতে, সেই ছুটি এখনও বহাল আছে।’।
জামিন পেয়ে মহিউদ্দীন আহমেদ কোথায় অবস্থান করছেন, অনুসন্ধান করেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত গ্রামীণ ফোনের সিমটি বন্ধ পাওয়া যায়। গ্রীণ রোডের টিচার্স কোয়ার্টারে তার পরিবারেরও হদিস পাওয়া যায়নি।
এদিকে সরকার হিযবুত তাহরির নিষিদ্ধ করলেও থেমে নেই এর কার্যক্রম, বরং রাজধানীসহ সারাদেশে সংগঠনটির কর্মীরা সক্রিয় রয়েছে। বছর দুয়েক ধরে হিযবুত তাহরিরের নারী সংগঠন কাজ করছে। বাড়ছে নারী কর্মী সংখ্যাও।
কোন কর্মী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলে, কিংবা সংগঠনের যে কোন খবর মিডিয়ায় প্রকাশের লক্ষ্যে কর্মীরা নিয়মিত গণমাধ্যম অফিসে গিয়ে হাতে হাতে প্রেসরিলিজ পৌঁছে দিচ্ছে। লন্ডন থেকেও মিডিয়া অফিসে ইমেইলে প্রেসরিলিজ পাঠানো হয়।
সূত্র মতে, গ্রেফতাকৃত হিযবুত কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বেশির ভাগই সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযোগ আনে। তাদের কাছে আলামত হিসেবে বড়জোর লিফলেট, পোস্টার ও বইপত্র পাওয়া যায়। এ কারণে মামলাও হয় হালকা, বেশিদিন তাদের আটক যায় না।
সংগঠনটির কর্মীদের দাবি, বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ৫০ জন কর্মী কারাগারে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর আইন শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান প্রোবকে বলেন, ‘র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১০ বছরে আমরা ১১০০ জঙ্গী গ্রেফতার করেছি। এর মধ্যে হিযবুত তাহরির-এর কর্মীও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না যে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শুধুমাত্র হিযবুত কর্মী সংখ্যা কত এবং জেলে কতজন আছে। কারণ, একদিতে ধরা পড়ে আরেক দিকে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়’। হিযবুত তাহরিরের দাবি, ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত তাদের তিন শতাধিক কর্মী আটক হয়েছে।
উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর হিযবুত তাহরির নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এ সময় থেকে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের আইবিএ’র সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দীন আহমেদকে তার গ্রিনরোডের বাসায় নজরবন্দী রাখা হয়। পরে উত্তরা থানার একটি মামলায় তাকে ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়।
একই মামলায় ২১ এপ্রিল সংগঠনটির সেকেন্ড ইন কমান্ড সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কাজী মোরশেদুল হককে মোহাম্মদপুরস্থ চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের বাসা থেকে আটক করা হয়। এছাড়া হিযবুত তাহরিরের উপদেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলাকে ২০১০ সালের ৮ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশ এলিফ্যান্ট রোড থেকে গ্রেফতার করে। এদের সবার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরিরকে সংগঠিত ও সক্রিয় করা এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। জানা গেছে, মোরশেদ এবং গোলাম মাওলা দুজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, হিযবুত তাহরির ২০০১ সালে প্রথম ধানমন্ডিতে একটি সেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম যাত্রা করে। বিশ্বের অনেক দেশেই এটি একটি নিষিদ্ধ সংগঠন।
প্রোব/পিএইচ/জাতীয়/০১.০৪.২০১৪

 

 

 

১ এপ্রিল ২০১৪ | জাতীয় | ১০:৩৬:৩৩ | ১১:৫২:৫০

জাতীয়

 >  Last ›