A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মুশফিকদের শেষ ভরসা অস্ট্রেলিয়া | Probe News

banvsausএনামুল হক, প্রোবনিউজ: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও টানা চার ম্যাচে হেরে দারুণ মরিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কোথাও সান্ত্বনার বাণী পাচ্ছে না মুশফিক বাহিনী। ফিকে হয়ে গেছে তাদের জয়ের স্বপ্ন। তবুও টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বপ্ন দেখছেন মুশফিকরা। দলে জয়ের প্রত্যাশাটা বেশি কিন্তু সামর্থ্য কতটুকু রয়েছে তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ভরসার ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে পরাজয়ের পর মুশফিক সংবাদ সম্মেলনে নিজের কাঁধে পরাজয়ের গ্লানি মাখিয়েছেন। পরাজয়ের জন্য পেসাদেরও অনেকটা দায়ী করেছেন তিনি। শেষ স্পেল ভালো হচ্ছে না পেসারদের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ত্রয়োদশ ওভারে জিয়াউর রহমান ২২ রান দিয়ে ফেলেছেন। অন্যদিকে, ১৯ তম ওভারে মাশরাফি দিয়েছেন ২৪ রান। আগে নিজের দ্বিতীয় ওভারে ১৮ রান খরচ করার কথাও কিন্তু মনে পড়ে। বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ প্রায় একটা খরচে রেকর্ড করে ফেলেছিলেন। চার ওভারে দিয়েছেন ৬৩ রান। আর জিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ওই তিন ওভারে রান হয়েছে ৬৪ আর রান খরচের খাতায় থাকছেন না মাশরাফি বিন মর্তুজা। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনজুরির কারণে মাঠে নামতে পারছেন না। হাঁটুতে চোট পাওয়ার কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না অভিজ্ঞ এই পেসার। তাঁর পরিবর্তে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেতে যাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ।
বিশ্বকাপে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে দীর্ঘ হতাশা ফুটে উঠেছে মুশফিকের মুখে, ‘‘সুপার টেনে আমরা ভালো করতে পারিনি। হারের ব্যবধান চোখে লাগার মতো। এতোটা খারাপ হবে কখনো ভাবিনি। গত দুই মাসে শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রথম ওয়ানডে, এশিয়া কাপে আফগানিস্তান আর প্রথম রাউন্ডে হংকংয়ের কাছে হার ছিল আমাদের জন্য বিশাল ধাক্কা।” এশিয়া কাপের পর আবার আহমেদ শেহজাদের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের কাছে হারল বাংলাদেশ। পাকদের পক্ষে টি-টোয়েন্টি প্রথম সেঞ্চুরি করায় শেহজাদের প্রশংসা করেছেন মুশফিক। ব্যাটিং পরিকল্পনা সম্পর্কে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান বলেন, “দিনের প্রথম খেলা বলে জানতাম স্পিনারদের বল গ্রিপ করতে কোনো সমস্যা না হবে না। তাই তাদের বিপক্ষে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। পেসারদের বলে যত বেশি সম্ভব রান নেয়ার পরিকল্পনা ছিল।” তিনি আরো বলেন “বাড়তি কিছু করার চেষ্টা করিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাট করার চেষ্টা করেছি। অধিনায়ক বলে পাঠিয়েছিলেন, আমাদের শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। অন্যরা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করবে। টি-টোয়েন্টিতে এটাই হয়, একজন বা দুজন পারফরম করে।’’
হংকংয়ের বিপক্ষে ১০৮ রানে অলআউট হবার পর থেকেই যেন বদলে গেছে বাংলাদেশ দলের ব্যাটস্যামনদের মানসিকতা। এই নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় আদায় করা সম্ভব নাও হতে পারে মুশফিকদের। টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে বহুদূর পেছনে পড়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে অসিদের ৮৬ রানে অলআউটের প্রসঙ্গটি বাদ দিয়ে পাক আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটিং সেটাই প্রমাণ করে। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে গেলেও ১৯১ রানের জবাবে ১৪০ রান কম নয়। মিডল অর্ডারের জুটিগুলো আরো একটু সময় ক্রিজে টিকলেও তো খবর হয়ে গিয়েছিল পাক শিবিরের। সেই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের কতটুকু সামলাতে পারবে বাংলাদেশের বোলিং। আর কত রানের স্কোর করতে পারবে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। পরিসংখ্যানও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই কথা বলছে। ২০০৮ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুশফিকদের হারিয়েছে ৯ উইকেটে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২৭ রানের হার। এবার নিয়ে তৃতীয়বার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি। যার সবকটি টি-টোয়েন্টি ফরমেটের আসর বিশ্বকাপে।
হতাশার কথা অনেক আছে আমাদের তবুও অন্তত একটা জয় পাওয়ার জন্য অনেকটা আশাবাদী বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আবারো নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে। কেননা এই টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই পরাজয়ের গ্লানিতে মর্মাহত। গত রোববার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ৭৩ রানে হারিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। এতে আত্মবিশ্বাসের দারুণ আঘাতপ্রাপ্ত অস্ট্রেলিয়া। এমন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বোলিং আক্রমণে একটু পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এক্ষেত্রে স্পিন বিভাগকে আরো শক্তিশালী করার প্রয়াস রয়েছে। কেননা, অস্ট্রেলিয়া স্পিনারদের বিপক্ষে ভালো স্কোর করতে পারে না। ভারতের বিপক্ষে অশ্বিন মাত্র ১১ রান খরচ করে চারটি উইকেট ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, অমিত মিশ্র দুটি ও ভুবেনশ্বর কুমারও একটি উইকেট তুলে নিয়েছে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে মুশফিক বাহিনীকে। বাংলাদেশের ষোল কোটি হৃদয়ের আকুল আবেদন সোনার দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্ততপক্ষে শেষ জয়টুকু দেখতে পায়।
প্রোব/এহ/ খেলা/৩১.০৩.২০১৪

৩১ মার্চ ২০১৪ | খেলা | ২০:১৮:০৮ | ২০:১১:২৩