A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

১৪ উপজেলায় বিএনপির ভোট বর্জন | Probe News

প্রোবনিউজ, ঢাকা: ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে এখর পর্যন্ত ১৪টি উপজেলায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ৭৩টি উপজেলায় সোমবার সকাল থেকে ভোট শুরুর পরপরই ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও ভোট শুরুর আগেই সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রেখেছেন সরকার সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন।

নির্বাচন বর্জন করা উপজেলাগুলো হলো: সাতক্ষীরা সদর, তালা ও দেবহাটা; বরগুনার বামনা, পাথরঘাটা ও আমতলী; টাঙ্গাইলের ঘাটাইল; চুয়াডাঙ্গার সদর ও আলমডাঙ্গা; পটুয়াখালীর কলাপাড়া; জামালপুরের মাদারগঞ্জ; নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আড়াইহাজার; কুমিল্লার চান্দিনা।

সাতক্ষীরায় ৩ উপজেলায় ভোট বর্জন
সাতক্ষীরা সদর, তালা ও দেবহাটা উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা বিএনপি। সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী কামরুল ইসলাম ফারুক ভোট বর্জনের এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, আগে থেকেই ব্যালট কেটে বাক্স ভর্তি করা, এজেন্টদের বের করে দেয়া, ভোটারদের ব্যালট না দেয়া, সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্র যেতে বাধা দেয়া, মারপিট করা ও প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কামরুল ইসলাম ফারুক বলেন, তালা উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বদরুজ্জামান মোড়ল, সদর উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী (কারাবন্দি) আব্দুর রউফ, দেবহাটা উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মহিউদ্দীন সিদ্দিকীসহ দল সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন।

বরগুনায় ৩ উপজেলায় ভোট বর্জন
বরগুনার বামনা, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট বর্জন করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা।

সোমবার সকালে বামনা উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবুল কালাম আযাদ রানা এবং আমতলী উপজেলার জালাত আহমেদ ফকির ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। একই সময়ে পাথরঘাটায় বিএনপি সমর্থিত প্রাথীও ভোট বয়কট করেন।

ঘাটাইলে আওয়ামী লীগ ছাড়া সব প্রার্থীর ভোট বর্জন
ভোট শুরুর আগেই রোববার রাতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকার সন্ধানপুর, ধলাপাড়া, রসুলপুর ও দেওপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি কেন্দ্র দখল করে নেয়ার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া উপজেলার বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও বিএনপি-আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ দশজন প্রার্থী একযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন।

সোমবার সকালে প্রার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

নির্বাচন বর্জনকারী প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, সরকারি দলের প্রার্থীর সমর্থকরা আজ সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে উপজেলার বাকি ৬৪টি কেন্দ্র দখল করে নিয়ে অন্যান্য প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও কেন্দ্র দখলের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া সব প্রার্থীদের একযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘটনায় ঘাটাইলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নির্বাচন বর্জনকারী প্রার্থীরা হলেন- চেয়ারম্যান পদে বিএনপির আ খ ম রেজাউল করিম, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রশিদ মিয়া, জাতীয় পার্টির আব্দুল হালিম ও ইসলামী আন্দোলনের আনছার আলী; ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুজ্জামান খান, বিএনপির আবু বকর সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির আরিফুর রহমান খান আইয়ুব, জামায়াতের হোসনী মোবারক বাবুল এবং সংরক্ষিত আসনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপির লাকী চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরজাহান সিদ্দিকা।

চুয়াডাঙ্গার ২ উপজেলায় বিএনপি- জামায়াতের নির্বাচন বর্জন
ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করছেন, প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার এই অভিযোগ এনে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রাথীরা।

সোমাবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

কলাপাড়ায় ৩ প্রার্থীর ভোট বর্জন
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৭৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্র আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা দখল করে নেয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপির তিনজন প্রার্থী যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্য কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের স্বেচ্ছায় বের হয়ে আসার আহ্বান জানান নির্বাচন বর্জনকারী প্রার্থীরা।

দেশিব্যাপী চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ও শেষ দফায় ভোটগ্রহণ চলাকালীন সোমবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে কলাপাড়া প্রেস ক্লাবে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আকতারুজ্জামান কোক্কা ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সকাল থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আ. মোতালেব হাওলাদার ও তার সমর্থকরা কেন্দ্রগুলো দখল করে নিয়েছে। এসব অভিযোগ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা কলাপাড়ায় পুনঃনির্বাচন দাবি করেন।

মাদারগঞ্জে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর ভোট বর্জন
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ফায়েজুল ইসলাম নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

ভোটকেন্দ্র দখল, ভোট কারচুপি, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র করে জোর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ করে সকাল ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।

তবে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার জানান, সকল কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাদের জানা নেই।

আড়াইহাজারে বিএনপির ভোট বর্জন
নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, সিল মারা ও এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ নির্বাচন বর্জন করেছে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির দুই প্রার্থী।

সোমবার দুপুর ১২টায় উপজেলা সদরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভিন আক্তারের বাসভবনে দুই প্রার্থী এক সঙ্গে এই ঘোষণা দেন। তারা হলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী এম এ মাসুদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারভিন আক্তার।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারভিন আক্তার সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি সহকারী রিটানিং অফিসার গুলশান আরাকে জানিয়ে রিটানিং অফিসার মাহমুদুর রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কসবায় বিএনপি-জাপার ভোট বর্জন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উপজেলা নির্বাচনে দুর্নীতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।

বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ইকলিল আজম, বিএনপি সমর্থিত মহিলা সহ-সভাপতি লুৎফুর নাহার রিনা এবং সহসভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম ভুইয়া কসবা পৌরসভায় সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানায়।

অপরদিকে জাতীয় পার্টি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী তারেক এ আদেল ভোটে কারচুপি এবং কেন্দ্র দখল, দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

চান্দিনায় বিএনপি-এলডিপির ভোট বর্জন, কাল হরতাল
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিএনপির মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া (দোয়াত কলম) এবং এলডিপি প্রার্থী আবু তাহের। নির্বাচনে নানা অনিয়মের প্রতিবাদে মঙ্গলবার চান্দিনা উপজেলায় অর্ধদিবস হরতাল আহ্বান করেছে বিএনপি।

সোমবার নির্বাচন চলাকালীন সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিপক্ষ প্রার্থী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তপন বকশীর (আনারস) বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, ভোট দিতে আসার পথে ভোটারদের প্রভাবিত করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ করে নির্বাচন বর্জন ও হরতালের ঘোষণা দেন উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া।

প্রোব/বান/জাতীয় ৩১.০৩.২০১৪

৩১ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১৪:৫৭:১০ | ১৬:০২:২৮

জাতীয়

 >  Last ›