A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

নীতি না মানায় হুমকিতে চিংড়ি রপ্তানি | Probe News

sidley--bicc (2).jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: দেশের চিংড়িসহ মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান বাধা দূর করার দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রচলিত আইন ও নীতিমালা সংশোধণ করে রপ্তানির ক্ষেত্র বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকার প্রবর্তিত কোড অব কন্ডাক্ট মেনে চলা হচ্ছে না। এ কারণেই চিংড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার আমদানি আইন ও পদ্ধতির আলোকে ’চিংড়ি শিল্পের জন্য প্রচলিত কোড অব কন্ডাক্টস্ -এর বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ণ পূর্বক প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ’ শীর্ষক কর্মশালা ।

বাংলাদেশ শ্রিম্প এন্ড ফিস ফাউন্ডেশনের (বিএসএফএফ ) সভাপতি সৈয়দ মাহমুদুল হক কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.শেলিনা আফরোজা। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শ্রিম্প এন্ড ফিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদুল করিম। এছাড়া বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনষ্টিটিউশনের প্রধান নির্বাহী ড. মুজিবুর রহমান, ফাও প্রতিনিধি মাইক রকসন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহ-সভাপতি সুভাশীষ বোস কর্মশালায় অংশ নেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের মৎস্যজাত পণ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও আইনের অধিকতর প্রয়োগ জরুরি। আর এটি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের মৎস্যজাত পণ্য উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে অধিকতর উন্নয়ন ঘটবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সেলিনা আফরোজা বলেন, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কোড অব কন্ডাক্ট এর আওতায় খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়গুলোর অধিকতর প্রয়োগ নিশ্চিত করলে মৎস্য পণ্যের রপ্তানি বাজারে প্রবেশ উন্নত হবে।এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত মৎস্য পণ্যের উৎপাদন, চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা এবং অর্নৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার সব সময় মনিটর করছে। যেসব sidley--bicc (1).jpgবিষয়গুলো এখনও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতে পারে, সে সব বিষয় আমরা চিহ্নিত করবো এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ যথাযথ ক্ষেত্রে প্রয়োগ নিশ্চিত করবো। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে জনশক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সচিব বলেন, কোড অব কন্ডান্ট মেনে চলা হলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মৎস্য পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মৎস্য আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা তুলে ধরে বিএসএফএফ সভাপতি বলেন, উত্তম মৎস্য চাষ ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে এ মৎস্য আইন ও নীতিমালার খসড়া করা হয়, যা প্রচলিত মৎস্য সম্পর্কিত আইনের একটি সমন্বিত রূপ। তাই এ নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ মৎস্য পণ্যের উৎপাদন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রক্রিয়া বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

কর্মশালায় বাংলাদেশ শ্রিম্প এন্ড ফিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদুল করিম মূল প্রবন্ধে বলেন, এ খাত থেকে বাংলাদেশ ৬০ ভাগ প্রাণিজ আমিষ, ৫০ শতাংশ ক্যালসিয়াম আহরণ করে। দেশের মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানির ৮০ ভাগই চিংড়ী থেকে আসে। বিশ্বের মোট মৎস্য উৎপাদনের ৫০ শতাংশই জলজ চাষ ব্যবস্থাপনা থেকে আসে। তাই এ খাতে নীতিমালা ও আইনের প্রয়োগে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

এছাড়া ইউরোপ এবং আমরিকার আমদানি আইন ও পদ্ধতির আলোকে বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্পের জন্য প্রযোজ্য ও সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযাগ্য কোড অব কন্ডাক্টস এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয় কর্মশালায়।

কর্মশালায় বলা হয়, প্রচলিত আইন প্রয়োগে সরকারি পর্যায়ের পরিকল্পনাদবিদ, শিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মনোযোগ আকর্ষণ করা উচিত। নীতিমালা নির্ধারক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং এ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের মতামতসহ সিদ্ধান্তগুলো একিভূত করার সুপারিশ করা হয় কর্মশালায়।

রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধার বিষয় তুলে ধরে কর্মশালায় বলা হয়, সেনিটারী (পরিচ্ছন্নতা) ও ফাইটো সেনিটারি বিষয়ক সীমারেখা, টেকনিক্যাল ষ্ট্যান্ডার্ডস, শ্রম অধিকার, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কাস্টমস্ এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনসহ অন্যান্য বাঁধা চিংড়ি ও মৎস্যজাতপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্থ করে।

এসব বাধা দূর করতে বিএসএফএফ মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় মৎস্য শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত ৯টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে কোড অব কন্ডাক্টস তৈরি করা হয়। ক্ষেত্রেগুলো হচ্ছে- ব্ল্যাক টাইগার বা বাগদা চিংডি (পিনিয়াস মনোডন) হ্যাচারী গলদা (ম্যাক্রোব্র্যাকিয়াম রোসেনবার্জি) হ্যাচারী, ব¬্যাক টাইগার বা বাগদা চিংড়ি (পিনিয়াস মনোডন) উৎপাদন খামার, গলদা (ম্যাক্রোব্র্যাকিয়াম রোসেনবার্জি) উৎপাদন খামার, চিংডি/মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানা, চিংড়ি সংগ্রহ কেন্দ্র, সেবা প্রদান কেন্দ্র বা ডিপো, বরফ কল-কারখানা, মাছ ধরা নৌকা বা ট্রলার (ফিশিং ট্রলার) এবং চিংড়ি বা মাছ বহনকারী পরিবহন-নৌকা বা ট্রলার।

দেশের এ সংক্রান্ত্র বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালাসহ ১১টি বিষয়ের আলাকে বিএসএফএফ কোড অব কন্ডাক্ট প্রস্তুত করে। বাংলাদেশের মৎস্য চাষের জন্য প্রযোজ্য এই কোড অব কন্ডাক্ট ২০১১ সালের মার্চ মাসে সরকার এটি গ্রহণ করে। কিন্তু আজ অবধি মৎস্য চাষের উন্নয়নে এই কোড অব কন্ডাক্ট বাস্তাবয়ন হচ্ছে না। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রচলিত আইন ও নীতিমালার প্রয়োগ যথাযথ হচ্ছে না।

প্রোব/বিএইচ/জাতীয়/৩০.০৩.২০১৪

৩০ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১৭:১৮:২২ | ১২:৪১:৪০

জাতীয়

 >  Last ›