A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

সহিংসতার আতঙ্ক নিয়ে সোমবার ৭৩ উপজেলায় ভোটযুদ্ধ | Probe News

Upazila-Election-Picture.jpg

প্রোবনিউজ,ঢাকা: সহিংসতা ও ভোট কারচুপির আশঙ্কা নিয়ে সোমবার ৭৩টি উপজেলায় পঞ্চম ধাপের নির্বাচন হচ্ছে । প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের সহিংসতার জের ধরে এবারও ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা করছেন প্রার্থী, ভোটার এবং বিশ্লেষকরা। এ ধরনের শঙ্কার মধ্যেই প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন।
তবে প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা রয়েছেন আতঙ্কে। তারা বলছেন, এবারের ভোটগ্রহণে সহিংসতার মাত্রা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পঞ্চম ধাপের নির্বাচনকে ঘিরে সরকার-সমর্থকরা সশস্ত্র অবস্থায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা উপজেলাগুলোর চেয়ারম্যান পদ ছিনিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করা হলেও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না দাবি করে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কমিশন সরকারের সিলমোহর হিসেবে কাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু প্রোবনিউজকে বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন ‘আওয়ায়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে’। কিন্তু আমরা তো দেখতে পরিছি দেশে লুটপাট, খুন ও রক্তক্ষলণ বাড়ছে । দুদু বলেন, সোমবারের নির্বাচনে সহিংসতা আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।’ এটাকে ইস্যু করে বিএনপি আন্দোলনে যাবে কিনা জানতে চাইলে দুদু জানান, ‘ দিনক্ষণ দিয়ে আন্দোলন নয়। তবে এই সরকারের স্বৈরাচারি শাসনের বিরুদ্ধে যে কোন ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্দোলন শুরু হবে। আন্দোলন অনিবার্র্য।’
চতুর্থ পর্বে সহিংসতার আশঙ্কা করা হয়েছিল বিভিন্ন মহল থেকে কিন্তু তখনও তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কমিশন। ওই নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। নিহত হন ৭ জন। চতুর্থ পর্বের আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সংখ্যা ৩০০০ ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে কমিশনের কার্যকর কোন পদক্ষেপ ছিল না। এ কারণে চতুর্থ পর্বে সহিংসতার সঙ্গে লাগামহীন অনিয়মের ঘটনা ঘটে।
শেষ পর্বেও একইভাবে ব্যাপক নির্বাচনী অনিয়মের আশঙ্কা করছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা। ইতিমধ্যেই তারা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন করে তাদের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। অথচ এ পর্যন্ত দৃশ্যত নির্বাচন কমিশন বাড়তি কোন উদ্যোগ নেয়নি।
সোমবারের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. হাফিজউদ্দীন খান বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই যেভাবে ঢিলেমি করে আসছে, তাতে করে শান্তির্পূণ নির্বাচনের কোন লক্ষণ দেখছি না। এভাবে সহিসংতা চলতে থাকলে সমাজে অশান্তি ছড়িয়ে পড়বে। সাবেক এই উপদেষ্টা মনে করেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ইসি সরকারের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল।’ তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষিক্রয়তাও দুভার্গজনক।’
ইসি’র ভারপ্রাপ্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইসি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সহিংসতা রোধেও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার বন্ধ হয়ে যাওয়া গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলাসহ সারা দেশের ৩৪ জেলার ৭৩ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে। বিগত চারটি পর্বের নির্বাচনে সহিংসতা, গুলি, ছিনতাই, কেন্দ্র দখলসহ নানা ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায়। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে শুক্রবার রাত থেকে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। প্রতি উপজেলায় এক প্ল্যাটুন করে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছেন পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য। নির্বাচনের আগে শনিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরনের প্রচারণা। একই সঙ্গে সব ধরনের যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
৭৫টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও সোমবার ভোট হবে ৩৪ জেলার ৭৩টি উপজেলায়। টাঙ্গাইল-৮ আসনে উপ-নির্বাচনের কারণে বাসাইল উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে ইসি। এছাড়া, ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার নির্বাচন আদালতের রায়ে স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একজন প্রার্থীর রিটের প্রেক্ষিতে এ নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এছাড়া, তৃতীয় দফায় স্থগিত গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচনের ভোট হবে একই দিন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা
এদিকে পঞ্চম ধাপেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন অনেক। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত-বহিষ্কার কিছুই দমাতে পারেনি বিদ্রোহীদের। এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে ২৮ উপজেলায়। এসব বিদ্রোহী প্রার্থীকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সহিংস ঘটনা ঘটছে। পঞ্চম ধাপে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একক প্রার্থী আছেন ৪৪ উপজেলায়। বিএনপির আছে ৪৫ উপজেলায়। বাকি উপজেলাতে দুই দলেরই দুই বা ততোধিক প্রার্থী রয়েছেন। ২৮টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। দিনাজপুরের বিরলে ২জন, হাকিমপুরে ২, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ৩, গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ৩, সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ৩, শাহজাদপুরে ২, পাবনার বেড়ায় ২, চুয়াডাঙ্গা সদরে ২, বরগুনার আমতলীতে ২, পটুয়াখালীর দশমিনায় ২, কলাপাড়ায় ২, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ২, নরসিংদীর মনোহরদীতে ২, রায়পুরায় ২, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ২, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে ২, তাহিরপুরে ২, সিলেটের বিয়ানীবাজারে ৩, মৌলভীবাজারের রাজনগরে ২, হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে ২, আশুগঞ্জে ২, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৪, লক্ষ্মীপুর সদরে ২, রামগতিতে ২, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ৩, কক্সবাজার সদরে ২, উখিয়ায় ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে ২৮ উপজেলায়। এসব উপজেলায় দলটির ৬০ জন নেতা প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ২ জন, হাকিমপুরে ২, লালমনিরহাটে ২, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৩, বগুড়া সদরে ২, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ২, পাবনা সদরে ৩, বেড়ায় ৩, চুয়াডাঙ্গা সদরে ২, আলমডাঙ্গায় ২, বরগুনার বামনায় ২, পটুয়াখালীর দশমিনায় ৩, টাঙ্গাইল সদরে ২, ঘাটাইলে ২, ময়মনসিংহের নান্দাইলে ২, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ২, নরসিংদীর মনোহরদীতে ২, রায়পুরায় ২, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ২, আড়াইহাজারে ২, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ৩, মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ২, হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে ২, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ২, রায়পুরায় ২, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ২, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ২ ও রাঙ্গামাটির লংগদুতে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়া, ১৭টি উপজেলায় বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের একক প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলাগুলো হচ্ছে-নীলফামারীর ডোমার, গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ, রাজশাহীর পবা, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও শাহজাদপুর, পাবনা সদর ও বেড়া, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও তালা, নরসিংদীর মনোহরদী, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ ও উখিয়ায়।
প্রোব/পার/জাতীয়/৩০.০৩.২০১৪

 

৩০ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১১:১২:৩০ | ২০:২৭:০৯

জাতীয়

 >  Last ›