A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

রানা প্লাজা: ১১২ জনের পরিচয় মিলছে না নিহতদের লাশ নিয়ে বাণিজ্য! | Probe News

3.jpgপ্রোব নিউজ, ঢাকা: সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহত ১,১৪৩ জনের মধ্যে ১১২ জনের পরিচয় এখনো মেলেনি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাব। ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. শরীফ rana-plaza-1-620.jpgআখতারুজ্জামান মনে করেন ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া যেসব লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের পরিবারে আত্মীয় স্বজনের ডিএনএ টেষ্ট করা গেলে হয়তো আরো কিছু লাশের পরিচয় মিলত। তবে এব্যাপারে সরকার এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে ঢাকার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন। আর গার্মেন্টস শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন নিহতদের লাশ নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য হয়েছে। জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরীর প্রধান অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান প্রোব নিউজকে জানান, রানা প্লাজা ধসে নিহত অজ্ঞাত ৩২২টি মৃতদেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। লাশের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির পর লাশ শনাক্ত করতে ৫৪১টি পরিবার থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাদের সঙ্গে মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২০০ লাশ শনাক্ত করা গেছে। আর ১০ জনের ডিএনএ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
তিনি জানান, রানা প্লাজ ধসের ঘটনায় নিহত ১,১৩৪ জনের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়াই ৮০০-এর বেশি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশনাক্ত লাশগুলোর ডিএনএ মিলে যেতে পারে। সরকার যদি আগ্রহী হয়, তবে তাদেরও ডিএনএ পরীক্ষা করাতে পারে।’ এই পরিস্থতিতে ড. শরীফ পরবর্তী যেকোনো দুর্ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অস্থায়ী মর্গ তৈরি করে নিহত ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার পর লাশ হস্তান্তরের পরামর্শ দেন।
এনিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ জানান,‘ যাদের লাশ ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া আত্মীয় স্বজনকে দেয়া হয়েছে তাদের ডিএন পরীক্ষা এখন করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। শুধু তাদের আত্মীয়-স্বজনই নয় নিহতদেরও ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে। কারণ যাদের লাশurl.jpg দেয়া হয়েছে লাশটি তাদের স্বজনদের নয় তা দুই দিক থেকেই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। যা একটি জটিল এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আর যারা লাশ নিয়ে গেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন ডিএনএ পরীক্ষা করাতে রাজী হবেন বলে মনে হয়না।’
এদিকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রনি দাবি করেন,‘ ডিএনএ টেষ্টে দীর্ঘ সূত্রিতা এবং সমস্বয়হীনতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডিএনএ টেষ্ট ছাড়া যেসব মৃতদেহ আত্মীয় ন্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে তা সবক্ষেত্রে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কার্যকর কোন ব্যবস্থা ছিলনা। ফলে কিছু মৃতদেহ অনাত্মীয়ের কাছে চলে গেছে।’ সিরাজুল ইসলাম জানান‘, এরকম একাধিক অভিযোগ তারা পেয়েছেন। এমনকি ক্ষতিপুরণের টাকা আত্মসাৎ করতেও আত্মীয় সেজে লাশ নেয়ার অভিযোগ পেয়েছেন তারা। এরমধ্যে এক মহিলা শ্রমিকের সাবেক স্বামীকে চিহ্নিতও করা হয়েছে।’ সে এখনকার স্বামী এবং ছেলে-মেয়ে আসার আগেই লাশ এবং ক্ষতিপুরণের টাকা নিয়ে গেছে বলে জানান সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন,‘১১২ টি লাশের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আর ১৯২ জন নিখোঁজ আছে বলে তাদের পরিবার থেকে দাবী করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের ডিএনএ’র সঙ্গে ১১২টি লাশের ডিএনও মিলছেনা। তাহলে তারা কোথায় গেল? এই প্রশ্নের উত্তর বের করা প্রয়োজন।’
ঢাকার জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ বলেন, ‘যে ৮০০ লাশ ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া হস্তান্তর করা হয়েছে তা যে সব ঠিক আছে তা নিশ্চিত করে বলা যায়না। কিছু ভুল হতেই পারে। তবে এনিয়ে এখন আর কিছু করার নেই।’
তিনি জানান.‘ ডিএনএ পরীক্ষায় যাদের লাশ সনাক্ত হয়েছে, তাদের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। জুড়াইনের কবরস্থানে গিয়ে কবর চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন,‘ ডিএনএ পরীক্ষায় তারা ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন ডিএনএ ল্যাবকে। আর নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই। তবে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে আলাদা কথা।’
আর ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরীর প্রধান অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান প্রোব নিউজকে জানান, তারা সরকারকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবেন। তাতে রানা প্লাজার ঘটনায় নিহত সবার লাশের ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তাব দেবেন। আর যারা পরীক্ষা ছাড়াই লাশ নিয়েছেন তাদেরও ডিএনএ সংগ্রহ করা দরকার। তাহলে রানা প্লাজার অজ্ঞাত পরিচয় লাশের পরিচয় জটিলতার সমাধান হবে।
প্রোব/ হার/ জাতীয়/ ২০১৪

২৯ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১৮:৫৫:১৭ | ১৮:৩২:৩৬

জাতীয়

 >  Last ›