A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ট্রেনসম্প্রীতির ১১১ বছর | Probe News

traim1.jpgপ্রোবনিউজ, ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজবাড়ী থেকে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের মাঝে এক রেলপথ। ওই পথে ঝিকঝিক শব্দ তুলে ১১১ বছর ধরে ছুটে চলেছে একটি বার্ষিক ট্রেন। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর ঢাকা ও কোলকাতার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করতে সময় লেগেছিল ৪৩ বছর৷ তবে ওরশ স্পেশাল নামে পরিচিত ওই বার্ষিক ট্রেন এই এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়েছে মাত্র কয়েকবার। সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে তা থেকে গেছে অবিরত। সাইথ এশিয়া.কম নামের এক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করেছে।
১৯০৩ সাল থেকে, ভারত, বাংলাদেশ এবং কিছু সময়ের জন্য পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের রাজবাড়ী থেকে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার মধ্যে এবং ফিরতি পথে তীর্থযাত্রী বহনের জন্য একটি বার্ষিক বিশেষ ট্রেন চলাচলের অনুমতি দিয়ে আসছে, যাকে মূলত কখনও বাধাগ্রস্ত করা হয়নি৷ “প্রতি বছর ১৫ই ফেব্রুয়ারিতে, সব ধর্মের লোকজন মেদিনীপুর ওরশে গিয়ে থাকে বড় হুজুরের আশীর্বাদ চাওয়ার জন্য, যিনি বড়পীর আবদুল কাদের জিলানীর একজন বংশধর, যিনি ইসলাম প্রচারের জন্য ১৯ শতাব্দীতে ইরাক থেকে ভারতে এসেছিলেন,” আয়োজক কমিটির সচিব আবদুল মান্নানের বরাতে জানিয়েছে সাউথ এশিয়া.কম৷
traim17যে সব হিন্দুরা এই ওরশে অংশ নেন তারা এই সন্ন্যাসীকে গুরুদেব নামে ডেকে থাকেন৷ “এই অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের সব ধর্মের লোকজনের জন্য একটি চমৎকার মেলামেশার সুযোগ তৈরি করে,” বলেছেন মান্নান৷ ১৫ই ফেব্রুয়ারিতে, ২,১০০ উৎসব-মুখী বাঙালি তীর্থযাত্রী পশ্চিমবঙ্গে যাওয়ার জন্য এই ট্রেনে চড়েছিলেন৷ চার দিন পর ট্রেনটি তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিল৷ “এই অনন্য ট্রেনটি বন্ধুত্ব ও ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি বন্ধন৷ আমরা এর জন্য গর্বিত,” খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বলেছেন রাজবাড়ীর ডেপুটি কমিশনার হাসানুজ্জামান কল্লোল৷
“লোকজন জানে যে মৈত্রী এক্সপ্রেস হলো একমাত্র ট্রেন যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচল করছে। তবে ১৯০৩ সাল থেকে ওরশ স্পেশাল চলছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক টি.এ. চৌধুরীর বরাতে এমনটাই জানায় সাইথ এশিয়া.কম ৷ টি.এ. চৌধুরী বলেন, যদিও এক্সপ্রেস চালু করার আগে আলাপ-আলোচনার জন্য এই দুই দেশের কয়েক বছর সময় লেগেছিল, কিন্তু ওরশ স্পেশালের ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সব সময়ই উদার ছিল৷
image_524.jpgরাজবাড়ীতে অবস্থিত ব্যবস্থাপনা কমিটি আঞ্জুমান-এ-কাদরিয়া, লটারির মাধ্যমে যাত্রীদের আবেদনপত্রগুলো বাছাই করে থাকে৷ কমিটির তালিকার ভিত্তিতে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ভিসা দিয়ে থাকে৷ একজন ভক্ত কবীর উদ্দীন প্রামাণিক দশবার এই ওরশে যোগ দিয়েছেন, তিনি খবরকে বলেন, “আমাদের হুজুর সব ধর্মের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্পর্কে প্রচারণা চালান৷ তিনি মানবতার পক্ষে প্রচারণা চালান”৷
১৯০১ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারিতে তার বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পদবী পাওয়ার পর ১৯০১ সালে বড় হুজুর প্রথম অবিভক্ত ভারতের রাজবাড়ীতে এসেছিলেন তার অনুসারীদের সাথে দেখা করার জন্য৷ সেই দিন থেকে প্রতি বছর, বাংলাদেশে তার অনুসারীরা ওরশে যোগ দিয়ে আসছে৷ রাজবাড়ীর স্টেশন ম্যানেজার হযরত আলীর মতে, গত ১১১ বছরে মাত্র চার বার এই ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছিল: ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়; ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়; ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দাঙ্গা ঘটার পর এবং ১৯৯৪ সালে সুরাটে প্লেগের মহামারী দেখা দেয়ার পর৷

প্রোব/বান/জাতীয় ২৮.০৩.২০১৪

২৯ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১০:৩৬:৪৩ | ১৮:৩২:৫৯

জাতীয়

 >  Last ›