A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

দেশে চাষ হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিটি বেগুন | Probe News

bt bringal2

প্রোব নিউজ, ঢাকা: জীব-নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই দেশে চাষ হচ্ছে জেনেটিক্যালি বিকৃত বেগুন ‘বিটি বেগুন’ তা তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) আর জীব-নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বিটি বেগুনের চাষকে শর্তের বরখেলাপ বলে উল্লেখ করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জীব-নিরাপত্তা সংক্রান্ত ন্যাশনাল কমিটি অন বায়োসেফটি (এনসিবি) তবে বারি’র দাবি, বিটি বেগুন পরিবেশগতভাবে নিরাপদ বলেই কৃষক পর্যায়ে অবমুক্ত করা হয়েছে। এখানে জীবনিরাপত্তা হুমকির সম্ভাবনা নেই।
কৃষক, কৃষিবিদ ও পরিবেশবাদি সংগঠনসহ নানা মহলের প্রতিবাদ সত্বেও গেল বছরের ৩০শে অক্টোবর শর্তসাপেক্ষে সীমিত আকারে কৃষক পর্যায়ে চাষের অনুমতি দেয় এনসিবি। এর ভিত্তিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে গাজীপুর, জামালপুর, শেরপুর, রংপুর এবং পাবনা জেলার মোট ২০ জন কৃষকের কাছে বিটি বেগুনের চারা বিতরণ করে বারি। প্রত্যেক কৃষককে জেনেটিক্যালি মোডিফায়েড চারটি জাতের মোট এক হাজার ১৪০টি করে চারা দেয়া হয়েছে। বারি’র দেয়া বিটি বেগুনের ওই চারা কৃষক পর্যায়ে চাষের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনও নিশ্চিত করা হয়নি বিটি বেগুনের ক্ষেতের জীব-নিরাপত্তা। এমনকি কৃষকের কাছেও স্পষ্ট নয় জীব-নিরাপত্তা ইস্যুটি।
BT2.jpgসরেজমিন দেখা গেছে গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের মাটিপাড়া মাঠটালিয়া গ্রামের কৃষক মো. হাইদুল ইসলামের বাড়ির পাশে এক বিঘারও বেশি পরিমাণ জমিতে চাষ করা হয়েছে বিটি বেগুন। ক্ষেতের কোন কোন চারার উচ্চতা পাঁচ-ছয় ইঞ্চি ছাড়িয়ে গেছে। একই গ্রামের অপর কৃষক মো. মজিবুর রহমানের ক্ষেতে নেই কোন বেষ্টনি। বারি বলছে, বেগুনের চারা ছোট থাকায় ক্ষেতের বেষ্টনি কিভাবে এবং কি দিয়ে হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। বিটি বেগুনের ক্ষেত থেকে ননবিটি বেগুনের ক্ষেতের আইসোলেশন ডিসট্যান্স কতটুকু হবে তাও নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে দুই ক্ষেতের দূরত্ব ৫০ ফুটের মধ্যে থাকলেও চলবে বলে জানায় বারি’র জীবপ্রযুক্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা।
অথচ, এনসিবি’র শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে বিটি বেগুন অবমুক্তির পূর্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং প্রতিষ্ঠানকে ফিল্ড প্রোডাকশন প্ল্যানিং, ফিল্ড বায়োসেফটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিং, ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্ল্যানিং এবং আইসোলেশন ডিসট্যান্স ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিং এনসিবি’কে জানাতে হবে। বারি’র জীব-প্রযুক্তি বিভাগের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আল আমীন জানান, এসব প্ল্যানিং ইতিমধ্যে এনসিবি সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
এদিকে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা ছাড়াই বিটি বেগুন কৃষক পর্যায়ে চাষের অনুমতি দেয়াকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন নয়া কৃষি আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও উন্নয়নের জন্য বিকল্প গবেষণা কেন্দ্র উবিনীগ এর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার। তার মতে, বিটি বেগুন কৃষি, কৃষক, পরিবেশ, জীববৈচিত্র ও মানব দেহের জন্য হুমকি। বিটি বেগুন চাষে এদেশের কৃষকের কোন স্বার্থ নেই। স্বার্থ যদিও থেকে থাকে তা মনসান্তো ও মাহাইকো’র মতো বহুজাতিক বীজ কোম্পানির।
IMG_20140324_171417.jpgতাছাড়া এ বেগুন কৃষক পর্যায়ে চাষে এনসিবি’র শর্ত যথাযথ ভাবে বারি পালন করতে না পারায় এর অবমুক্তির অনুমোদন বাতিলেরও আহ্বান জানান ফরিদা আখতার।
জানা গেছে, অ্যামেরিকান কোম্পানি মনসান্তো ও ভারতের মহারাষ্ট্র হাইব্রিড বীজ কোম্পানি মাহাইকো’র যৌথ কারগরি সহযোগিতায় এবং উইএসএআইডি’র আর্থিক সহায়তায় ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশের স্থানীয় নয়টি প্রসিদ্ধ বেগুনের জাতের জীন সিকোয়েন্স পরিবর্তন করে বাসিলাস থোরিনজিয়েন্সিস (বিটি) নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার প্রতিস্থাপন করেছে বারি। এ প্রক্রিয়ায় জিন পরিবর্তন করা বাংলাদেশের স্থানীয় জাতগুলো হলো জামালপুরের ইসলামপুরি বেগুন, যশোরের চেগা, রংপুরের খটখটিয়া, চট্টগ্রামের দোহাজারি, বারি-১ (উত্তরা), বারি-৪ (কাজলা), বারি-৫ (নয়নতারা), বারি-৬ ও বারিÑ৭ (সিংনাথ) এসব জাতের মধ্যে থেকে জীন পরিবর্তন করা বারি-১ (উত্তরা), বারি-৪ (কাজলা), বারি-৫ (নয়নতারা) ও বারি-৬ এই চারটি জাতকে কৃষক পর্যায়ে শর্ত সাপেক্ষে চাষের অনুমতি দিয়েছে এনসিবি।
প্রসঙ্গত, আমেরিকার কর্ণেল ইউনিভার্সিটি এ প্রযুক্তিটি ভারত, বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন’কে বিনামূল্যে দেয় গবেষণা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য। ইউএসএআইডি এগ্রিকালচারাল বায়োটেক্নোলজি সাপোর্ট প্রোগ্রাম-টু এর আওতায় এ প্রযুক্তিতে সাহায়তা করছে। প্রযুক্তির আওতায় ভারত ২০০২ সালে সর্বপ্রথম সিঙ্গেল জিন টেক্নোলজি ছাড় করে। এর পরে ২০০৫ সালে ডাবলজিন টেক্নোলজি সিআরওয়াই ওয়ান এসি ও সিআরওয়াই টু এবি ছাড় করে। এর মাধ্যমেই ভারতে ওই সময়ে কৃষক পর্যায়ে চাষের জন্য ছাড় করা হয় বিটি কটন। কিন্তু মনসান্তো ও মাহাইকো’র ঘোষণা অনুযায়ী সুফল পাচ্ছিল না কৃষক। বিশেষ করে বিটি কটন চাষ করেও কৃষক ফসল পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে পারছিল না। বরং বিটি কটন চাষ করে কৃষক মনসান্তোর নানা শর্ত ও ঋণের জালে আটকে পরে। ফলে উপায় না পেয়ে কৃষক আত্মহত্যা শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের আগস্টে ভারত নিষিদ্ধ করে বিটি কটন চাষ। অপরদিকে ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয় বিটি বেগুন কৃষক পর্যায়ে চাষের অনুমতি দিলেও বাধা দেয় সে দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়। ফলে সেখানে নিষিদ্ধ হয় বিটি বেগুনের চাষও। একই প্রক্রিয়ায় বিটি প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও চাষ ২০১৩ সালের মে মাসে নিষিদ্ধ করে ফিলিপাইন সরকার।
প্রোব/শর/জাতীয়/২৭ মার্চ ২০১৪

 

২৭ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১৯:৫৫:৫২ | ২৩:১৬:৫৭

জাতীয়

 >  Last ›