A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

‘পাশাপাশি, কাছাকাছি নয়’ | Probe News

Ershad+rawshan.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: মুখ দেখাদেখি বন্ধ থেকে একই মঞ্চে পাশাপাশি বসা এরশাদ আর রওশনকে কতটুকু কাছাকাছি আনতে পারবেন তা নিয়ে রয়েছে নানা মত। আর জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ হবে কিনা তা নিয়েও নিশ্চিত নন দলের নেতারাই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এরশাদ আর রওশনের এই পাশাপাশি বসা আসলে কাছাকাছি আসা নয়। এ এক নতুন নাটক।
৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে এরশাদ এমপি হলেও রাজনীতিতে হেরে যান রওশনের কাছে। এরশাদ জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও তা কাজে আসেনি। বাদ সাধেন রওশন এরশাদ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। রওশনের অনুসারি হয়ে ৩৪জন এমপিও হন। শুধু তাই নয়, রওশন এখন বিরোধীদলীয় নেতা। তারা সরকারে অংশ নিয়েছেন। হয়েছেন মন্ত্রী। আর নির্বাচনে না যেতে চাওয়া এরশাদ এখন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। পুরো ঘটনাই দূরত্ব বাড়িয়ে দেয় রওশন আর এরশাদের মধ্যে। এমনকি এরশাদকে বাদ দিয়ে রওশনের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির কথাও শোনা যায়। রওশন তার অনুসারিদের নিয়ে একাধিকবার
বৃহস্পতিবার ঘটে গেলো এক নাটকীয় ঘটনা। ঢাকায় জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের কেন্দ্রিয় সম্মেলনে এরশাদ প্রধান অতিথি আর রওশন বিশেষ অতিথি হিসেবে একই মঞ্চে পাশাপাশি বসেন। কথা বলেন, বক্তৃতা দেন। রওশন তার বক্তৃতায় বলেন,‘এরশাদের সঙ্গে আমার কোন বিরোধ নেই। পার্টি ভাগ হয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। ওনাকে (এরশাদ) বাদ দেয়ার প্রশ্নই আসে না। নির্বাচনে গিয়েছি একটা প্রেক্ষাপটে। কিন্তু ভবিষ্যতে আর নির্বাচন করবো না, আর রাজনীতিও করবো না।
রওশন বলেন, ‘এর আগে উনি (এরশাদ) যখন জেলে ছিলেন, তখনও অনেকে আমাকে পার্টির চেয়ারম্যান হতে বলেছে। কিন্তু আমি হইনি। তখন হইনি এখনও হবো না।’ তিনি বলেন, ‘নানা বিপত্তি নিয়ে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনটা জরুরি ছিলো। তাই নির্বাচনে গিয়েছি। এ ব্যাপারে পরে আলাপ-আলোচনা করবো।’
এরপর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেন, ‘রওশনের সঙ্গে আমার কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমরা এক সাথে রাজনীতি করবো। ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথ চলবো।’ তিনি বলেন, ‘রওশন এরশাদের উপস্থিতি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি (রওশন) বলেছেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আসলেই কোন বিরোধ নেই।’
তবে তাদের এই পাশাপাশি বসায় কতটুকু কাছাকাছি আসতে পেরেছেন তারা, তা নিয়ে রয়েছে কৌতুহল। দলের অনেক নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যেই বলতে দেখা গেছে, এটা লোক দেখানো না তো?
আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটা এরশাদ এবং রওশনের আরেকটি নতুন নাটক। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম প্রোবনিউজকে বলেন, তাদের দুইজনের প্রেম-ভালোবাসা আর মান-অভিমান দেখার জন্য প্রস্তুত নয় জাতি। প্রতিনিয়তই জাতির সঙ্গে তামাশা করে চলছেন তারা। ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি যা করেছে, সবই নাটক। এটা আর নতুন করে বলার কিছু নেই।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার প্রোবনিউজকে বলেন, দল হিসেবে জাতীয় পার্টি তো আর টিকতে পারবে না। এটা এরশাদ এবং রওশন দুজনেই বোঝেন। তাই তাদের এই পাশাপাশি আসা কোন ঐক্যের ইঙ্গিত দেয় না। এটা সাদা পতাকা দেখানোর মত।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় ছাত্রসমাজের কেন্দ্রিয় সম্মেলনে উপস্থিত হন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে শুরু হয় ওই সম্মেলন। যদিও সম্মেলনটি শুরু হওয়ার কথা ছিলো সকাল ১০টার দিকে। সকাল থেকেই উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যেই আশঙ্কা বিরাজ করছিলো শেষ পর্যন্ত আসবেন কিনা রওশন। এমনকি মঞ্চেও শুধুমাত্র একটি রাজকীয় চেয়ার বরাদ্দ রাখা হয় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এইচএম এরশাদের জন্য।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আয়োজক কমিটির এক সদস্য প্রোবকে বলেন, আসলে ম্যাডামকে (রওশন) আমরা বিশেষ অতিথি করেছি ঠিকই, কিন্তু ম্যাডামতো স্যারের প্রোগ্রামে আসে না। তাই রাজকীয় চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে মাত্র একটি। যদি ম্যাডাম আসেন সে ক্ষেত্রে আমরা আরেকটি চেয়ারের ব্যবস্থা করবো।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঠিক সোয়া ১১টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন বেগম রওশন। সঙ্গে সঙ্গে বিব্রত আয়োজক কমিটি ব্যবস্থা করেন আরেকটি রাজকীয় চেয়ারের। চেয়ারটি বসানো হয় এরশাদের পাশেই।
পাশাপাশি বসলেও তারা কথা বলবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় ছিলো নেতাকর্মীদের মাঝে। তারা কথা বলেছেন ঠিকই, তবে কথার বলার ক্ষেত্রে রও,নের চেয়েএরশাদের আগ্রহই দেখা যায় বেশি।
প্রোব/বিএইচ/রাজনীতি/২৭.০৩.২০১৪

২৭ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১৭:২৯:০৪ | ২০:১৫:০৬

জাতীয়

 >  Last ›